সন্তান-সন্তুতি, সম্পদ বা অনুসারীর সংখ্যাধিক্যে মুগ্ধতা—এসব প্রকৃত মুমিনের জন্য একপ্রকার আত্মপ্রবঞ্চনা। সত্যিকারের ইমানদার ব্যক্তি শত্রুর মোকাবিলায় বাহিনীর সংখ্যা দেখে আত্মতুষ্ট হয় না এবং সংখ্যার স্বল্পতা নিয়ে দুশ্চিন্তাও করে না। কারণ বিজয় একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর বিজয় তো কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।’ (সুরা আনফাল, আয়াত: ১০)
একদিন আমাদের প্রিয় নবী (সা.) এক নবীর ঘটনা বর্ণনা করেন, যাকে আল্লাহ একটি বিশাল ও শক্তিশালী জাতি দান করেছিলেন। তিনি তাঁর জাতির শক্তি ও সংখ্যাধিক্যে মুগ্ধ ছিলেন। পরে তাঁর জাতির পরিণতি কী ঘটেছিল এই হাদিসে তার বিশদ বিবরণ রয়েছে। হাদিসের আলোকে ঘটনাটি তুলে ধরা হলো—
সুহাইব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন সালাত আদায় করতেন, তখন এমন কিছু বলে ফিসফিস করতেন, যা আমি বুঝতে পারতাম না এবং তিনি আমাদের তা বলতেনও না। একদিন তিনি বললেন, ‘তোমরা কি আমার ফিসফিস করার বিষয়টি খেয়াল করেছ?’ আমরা বললাম, ‘হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ‘আমি এক নবীর কথা স্মরণ করছিলাম, যাকে তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে এক বিশাল সেনাবাহিনী দেওয়া হয়েছিল।’ অন্য এক বর্ণনায় এসেছে—‘তিনি তাঁর জাতির সংখ্যাধিক্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন এবং বলেছিলেন—কে এদের সঙ্গে লড়বে? কে এদের প্রতিরোধ করবে?’
এরপর আল্লাহ তাঁর প্রতি অহি পাঠালেন—‘তোমার জাতির জন্য তিনটি বিকল্প বেছে নাও—এক. তাদের বিরুদ্ধে কোনো বাইরের শত্রুকে চাপিয়ে দেওয়া। দুই. দুর্ভিক্ষ। তিন. মৃত্যু।’ নবী তাঁর সম্প্রদায়ের সঙ্গে পরামর্শ করলেন। তারা বলল, ‘আপনি আল্লাহর নবী, সিদ্ধান্ত আপনার ওপরই ছেড়ে দিলাম।’ এরপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন। যখন তারা কোনো বিপদের সম্মুখীন হতো, তখন তারা সালাতের আশ্রয় নিত। নবী যথেষ্ট সময় নিয়ে সালাত আদায় করলেন, তারপর বললেন, ‘হে আমার প্রভু, বাইরের শত্রুর আক্রমণ নয়, দুর্ভিক্ষও নয়, বরং মৃত্যু। তাহলে তাদের ওপর মৃত্যু চাপিয়ে দাও।’ ফলস্বরূপ, তাদের মধ্য থেকে ৭০ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করল।
এ কারণেই আমি ফিসফিস করে বলছিলাম, ‘হে আল্লাহ, তোমার সাহায্যে আমি লড়াই করি, তোমার সাহায্যেই আমি আক্রমণ প্রতিহত করি এবং একমাত্র আল্লাহর শক্তিতেই সবকিছু সম্ভব।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১৮৯৩৭)
হাদিস থেকে শিক্ষা
নবী (সা.)-এর শিক্ষা: রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর সাহাবিদের শিক্ষা দিয়েছেন যে, আত্মতুষ্টি ও আত্মগরিমা জাতির দুর্বলতা ও ধ্বংসের অন্যতম কারণ হতে পারে। তাই এই ধরনের মনোভাব থেকে সতর্ক থাকা উচিত।
আত্মগরিমার ক্ষতিকর পরিণতি: অহংকার ও আত্মগরিমার ফল সর্বদা ভয়াবহ। এটি তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর নির্ভরতা) দুর্বল করে দেয় এবং মানুষকে পার্থিব উপকরণের ওপর নির্ভরশীল করে তোলে। এই আত্মতুষ্টির কারণে সেই নবীর জাতিও আল্লাহর শাস্তির স্বীকার হয়েছিল।
পরীক্ষার কারণ কখনো অদৃশ্য হতে পারে: কখনো কখনো পরীক্ষার কারণ সুস্পষ্ট হয় না। এমনকি কোনো নেককার ও মুজাহিদ জাতিও কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে পারে, অথচ তারা বুঝতেও পারে না কেন এই বিপর্যয় এসেছে। তাই সর্বদা আত্মসমালোচনা করা এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া জরুরি।
পূর্ববর্তী জাতিদের শিক্ষা: আমাদের আগেও বহু নেককার ও ধর্মপরায়ণ জাতি ছিল, যাদের সংখ্যা ছিল প্রচুর এবং যারা আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করত। কিন্তু তাদের মধ্যেও অনেকেই স্বল্প সময়ের ব্যবধানে মৃত্যুবরণ করেছিল—যেমন, সেই জাতির সত্তর হাজার লোক অল্প সময়ের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছিল।
সংকটের সময়ে নামাজ ও দোয়া: যখন কোনো কঠিন বিষয় সামনে আসে তখন মুমিনের উচিত সালাতে আত্মনিয়োগ করা। যেন আল্লাহ তাকে সঠিক পথনির্দেশনা দেন। এই উদ্দেশ্যে সালাতুল ইস্তিখারার বিধান রয়েছে, যাতে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে উত্তম সিদ্ধান্তের জন্য দোয়া করতে বলা হয়েছে।

অজু মুমিনের আত্মিক পবিত্রতা, শারীরিক পরিচ্ছন্নতা এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। অজুর মাধ্যমে মুমিনের অন্তর পবিত্রতার আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে। তাই কোরআন ও হাদিসে অজুর গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
১২ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৭ ঘণ্টা আগে
মানুষের চারপাশে যেমন ভালো বন্ধু থাকে, তেমনি অবধারিতভাবে কিছু শত্রুও তৈরি হয়। কেউ কেউ বন্ধুর ছদ্মবেশে ক্ষতি করার চক্রান্ত করে, আবার কেউ প্রকাশ্যে শত্রুতা করে। এই চক্রান্ত ও অনিষ্ট থেকে বাঁচতে মানবীয় চেষ্টার পাশাপাশি আল্লাহর সাহায্য নেওয়া একান্ত জরুরি।
১ দিন আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
২ দিন আগে