Ajker Patrika

স্বামী হত্যার বিচার চান না পরিবানু

  • আসামিরা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী।
  • আপস করতে টাকা দিয়েছেন নগর বিএনপির সভাপতি।
  • প্রকাশ্যে ঘুরলেও কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।
রিমন রহমান, রাজশাহী
স্বামী হত্যার বিচার চান না পরিবানু
পরিবানু বেগম। ছবি: আজকের পত্রিকা

আওয়ামী লীগের এক নেতার ভাইকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল রাজশাহী নগরের দড়িখড়বোনা এলাকায়। গত বছরের ৬ মার্চের সেই সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে এক পক্ষের হাতে ছুরিকাহত হন রিকশাচালক গোলাম হোসেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ মার্চ মৃত্যু হয় তাঁর।

এ বিষয়ে ১৩ মার্চ নগরের বোয়ালিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন গোলাম হোসেনের স্ত্রী পরিবানু বেগম। মামলায় আসামিদের মধ্যে ছয়জনের নাম উল্লেখ আছে। তাঁরা হলেন নগরের শাহ মখদুম থানা বিএনপির আহ্বায়ক সুমন সরদার, চন্দ্রিমা থানা বিএনপির আহ্বায়ক ফাইজুর হক, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেকসহ আরও তিনজন।

এদিকে মামলা করার পর পরিস্থিতি বিপক্ষে চলে যায় পরিবানুর। তিনি নগর ছাড়তে বাধ্য হন। তবে মাসখানেক আগে নগরে ফিরলেও তাঁর কণ্ঠে অন্য সুর। তিনি আর স্বামী হত্যার বিচার চান না। অবশ্য এত দিনে ওই মামলার কোনো আসামিও গ্রেপ্তার হননি। তাঁরা ঘুরছেন প্রকাশ্যেই। অংশ নিচ্ছেন দলীয় কর্মসূচিতে।

রিকশাচালক গোলাম হোসেন থাকতেন দড়িখড়বোনা এলাকার রেললাইনের পাশে ছোট্ট টিনশেড ঘরে। স্বামীর মৃত্যুর পর এক মাসও এই বাড়িতে থাকতে পারেননি পরিবানু। হঠাৎ গত ২৭ জুন সকালে নগরের রেলগেট এলাকায় পরিবানুর দেখা পাওয়া যায়। পরিবানু জানান, একটা খাবারের হোটেলে কাজ নিয়েছেন। তবে তিনি স্বামী হত্যার বিচার চান না আর। মামলা চালাবেন না। এত দিন কোথায় ছিলেন, জানতে চাইলে পরিবানু দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, ‘ছিলাম’।

কেন শহরে ছিলেন না জানতে চাইলে বলেন, ‘যে কয়দিন ছিলাম কোনো স্বস্তি ছিল না। দিনে তো লোকজন আসত, রাতবিরাতেও অচেনা লোকজন বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করত। তারা বলত, এই মামলাটা তাদের মতো করে চালাতে হবে। তাই শহর থেকে চলে গিয়েছিলাম।’

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবানু বলেন, ‘মামলা তো আর চালাব না। আসামিরা কেউ ধরা পড়েনি।’ পরিবানু জানান, তিনি যখন শহরে ছিলেন না, তখন মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর-রশিদ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে ডেকে পাঠান। তিনি তাঁর চেম্বারে গিয়ে দেখা করেন। পরিবানু বলেন, ‘আমাকে তিনি বললেন, “তুমি কি মামলা চালাতে পারবা? না চালালে কিছু টাকা নিয়ে আপস করে নাও।” আমি তখন কিছুদিন সময় নিই। পরে তিনি আবার ডেকে পাঠান। এবার এসে চিন্তাভাবনা করে আমি জানাই, মামলা চালাব না। তখন আমাকে কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে।’

এই মামলা আপসের বিষয়ে জানতে চাইলে কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আপনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে প্রশ্নটা করলেন। আইন আইনের গতিতেই চলবে।’

থানা সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে আসামি (শাহ মখদুম থানা বিএনপির আহ্বায়ক) সুমন সরদার ও (চন্দ্রিমা থানা বিএনপির আহ্বায়ক) ফাইজুর হক অভিযোগপত্র থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন। অব্যাহতি দেওয়ার জন্য উচ্চ পর্যায় থেকে সুপারিশও করা হয়েছে।

বোয়ালিয়া থানার ওসি মাছুমা মুস্তারী বলেন, ‘মামলার তদন্ত প্রায় শেষের দিকে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত বলা যাবে।’ আসামিদের গ্রেপ্তার না করার ব্যাপারে ওসি বলেন, ‘আসামিদের পাওয়া যায় না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত