মানুষের সফলতা শুধু পার্থিব জীবনে নয়, বরং পরকালীন মুক্তিতেই নিহিত। আমরা অনেকেই ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে নিজের পরকাল নিশ্চিত ভাবি। নামাজ, রোজা, জাকাত—এসব আমাদের নেক আমলের প্রতীক।
কিন্তু প্রিয় নবী (সা.) এমন এক হাদিসে আমাদের সতর্ক করেছেন, যেখানে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, একজন মানুষ যতই ইবাদতগুজার হোক, যদি তার ব্যবহার খারাপ হয়—তবে তার সেই আমল হয়তো তাকে জাহান্নামেও নিয়ে যেতে পারে। এ যেন আত্মসমীক্ষার এক দর্পণ, যেখানে প্রতিফলিত হয় আমাদের আসল চরিত্র।
নবী করিম (সা.) একবার সাহাবিদের জিজ্ঞেস করলেন—‘তোমরা জানো দেউলিয়া কে?’
সাহাবিরা বললেন, ‘দেউলিয়া তো সেই, যার কাছে টাকা-পয়সা নেই, সম্পদ নেই।’
তখন নবীজি বললেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে দেউলিয়া (মুফলিস) সেই ব্যক্তি, যে নামাজ পড়েছে, রোজা রেখেছে, জাকাত দিয়েছে। কিন্তু সে কাউকে গালি দিয়েছে, কারও ওপরে অপবাদ দিয়েছে, কারও সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, কাউকে আঘাত করেছে। কিয়ামতের দিনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তার সওয়াব দিয়ে দেওয়া হবে। যখন তার সব সওয়াব শেষ হয়ে যাবে, তখন তাদের গুনাহ তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ (সহিহ্ মুসলিম)
এই হাদিসটি আমাদের সামনে তুলে ধরে এমন এক ভয়ংকর চিত্র, যা শুধু অন্যায় বা জুলুমের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং একেকটি ইবাদতপ্রিয় মানুষের আত্মধ্বংসের চিত্র। আমরা হয়তো নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি আমলে আগ্রহী, কিন্তু মানুষকে কষ্ট দেওয়া, অপবাদ দেওয়া, গিবত করা, কারও অধিকার হরণ করা—এসবকে তেমন গুরুত্ব দিই না। অথচ কিয়ামতের দিন এই অধিকার লঙ্ঘনের দায়ই আমাদের নেক আমলগুলোকে নিঃশেষ করে দিতে পারে।
এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) যে বার্তাটি দিয়েছেন, তা মূলত একজন মুসলিমের পূর্ণাঙ্গ চরিত্রের দাবি তুলে ধরে। ইসলাম কেবল আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়; বরং তা একটি নৈতিক জীবনব্যবস্থা। যার ভেতরে আছে অন্যের অধিকার রক্ষা, সদাচরণ, ভদ্রতা, ক্ষমাশীলতা এবং মানবিকতা।
এই হাদিস আমাদের একটি মৌলিক শিক্ষা দেয়—শুধু নামাজ-রোজা করলেই সফলতা আসবে না, বরং তার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ হিসেবে আমাদের আচরণ, মানবিক মূল্যবোধ, অন্যের অধিকার আদায়ের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক হতে হবে। ইসলামের প্রকৃত চেতনা হলো—ইবাদতের পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা, কাউকে কষ্ট না দেওয়া, কারও সম্মানহানির কারণ না হওয়া।
আমরা যেন এমন দেউলিয়া না হয়ে যাই, যার খাতা নামাজ-রোজায় পূর্ণ, কিন্তু যার হৃদয় শূন্য দয়া, সহমর্মিতা ও ন্যায়বোধ থেকে। আসুন, আমরা আমাদের আমলনামা শুধু নামাজ দিয়ে নয়, সুন্দর চরিত্র, সদ্ব্যবহার এবং মানবিকতা দিয়েও পূর্ণ করি।

একবিংশ শতাব্দীর এই আধুনিক যুগে প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক দিক থেকে মানবজাতি অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছে। আকাশচুম্বী দালানকোঠা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেগা প্রকল্পের চাকচিক্যে আমাদের বাহ্যিক জীবন রূপ নিয়েছে এক ঝলমলে উপাখ্যানে। কিন্তু আলোঝলমলে এই অবয়বের অন্তরালে আমাদের সমাজব্যবস্থা আজ এক ভয়াল অন্ধকার
৮ ঘণ্টা আগে
ইসলাম ধর্মে জুমার দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। এটি সপ্তাহের সেরা দিন এবং মুমিন মুসলমানদের জন্য এক অনাবিল আনন্দের উপলক্ষ। দিনটিকে ‘সাপ্তাহিক ঈদের দিন’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়। জুমার নামাজের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, শরিয়তের বিধান ও গুরুত্ব বোঝার জন্য নিচে ৫টি মৌলিক তথ্য আলোচনা করা হলো:
৮ ঘণ্টা আগে
প্রশ্ন: সমাজে প্রচলিত আছে যে কোনো ব্যক্তি কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে বা কোনো ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেলে তাঁর সুস্থতা বা জীবনরক্ষার কামনায় ‘জানের বদলে জান’ হিসেবে মুরগি, ছাগল বা গরু সদকা করা হয়। এভাবে মানত করা কি জায়েজ? ইসলাম এ বিষয়ে কী বলে?
৯ ঘণ্টা আগে
দৃশ্যমান নাপাকি বা অপবিত্রতা থেকে মানুষ অজু ও গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করে। কিন্তু মানবজীবনের আত্মিক পবিত্রতার প্রধান ভিত্তি হলো হালাল উপার্জন। বস্তুত, হালাল উপার্জনের মাধ্যমে একজন মুমিনের বাহ্যিক ও আত্মিক—উভয় জীবনই পরিচ্ছন্ন হয়ে ওঠে। কারণ যার উপার্জনের পথ হালাল ও বিশুদ্ধ, তার জীবন-জীবিকার
১০ ঘণ্টা আগে