আমিরুল ইসলাম লুকমান

পৃথিবীজুড়ে আল্লাহর কুদরত ও রাসুল (সা.)-এর ভালোবাসা বিভিন্ন রূপে ধরা দেয়—প্রকৃতির বৈচিত্র্যে, মানুষের হৃদয়ে, এমনকি জড়জগতের নিঃশব্দ বার্তায়ও। কখনো কখনো কিছু বিস্ময়কর নিদর্শন আমাদের সামনে আসে, যা যুক্তিবোধকে পেছনে ফেলে আত্মায় নাড়া দেয়। পাহাড়, নদী, পাথর কিংবা মরুভূমির বালুকণায়ও আল্লাহর সৃষ্টির অদ্ভুত শিল্প ও নিদর্শন লুকিয়ে থাকে। এমনই এক মুগ্ধতার গল্প নিয়ে হাজির হয়েছেন পাকিস্তানের এক সংগ্রাহক, যাঁর সংগ্রহে রয়েছে ‘আল্লাহ’ ও ‘মুহাম্মদ’ লেখা রহস্যময় বেশ কিছু পাথর।
পাহাড়-পর্বত, সমুদ্রসৈকত, ঝরনা কিংবা মরুভূমির বালুর নিচে ছড়িয়ে থাকা এক টুকরা পাথর আমাদের কাছে সাধারণ এক খনিজ পদার্থ মাত্র। কিন্তু কারও কারও কাছে এসবই হয়ে ওঠে ইমান, ইতিহাস ও আত্মিক সাধনার প্রতীক। পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের নওশাহরো ফিরোজ জেলার বাসিন্দা, ৬০ বছর বয়সী সৈয়দ আলী আসগর তেমনই একজন ব্যতিক্রমী মানুষ, যিনি ২০ বছর ধরে সংগ্রহ করে চলেছেন আশ্চর্য রকমের পাথর। এসব পাথরের বৈশিষ্ট্য হলো—মানুষের হাতের ছোঁয়া ছাড়াই সৃষ্টিগতভাবে সেগুলোর গায়ে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে ‘আল্লাহ’ ও ‘মুহাম্মদ’ নাম।
আসগর শাহের দাবি, তাঁর সংগ্রহে বর্তমানে রয়েছে প্রায় ২০০ বিরল পাথর। এসব তিনি সংগ্রহ করেছেন পাকিস্তান ছাড়াও সৌদি আরব, দুবাই, চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইরাক থেকে। তিনি মনে করেন, প্রতিটি পাথর একটি আসমানি আমানত। কোনো কোনো পাথর সংগ্রহে তাঁর লেগেছে পাঁচ-ছয় বছর। তবু কখনো তাড়াহুড়ো করেননি।
আসগর শাহের ভাষায়, ‘এই পাথরগুলো আমার কাছে পবিত্র। এগুলোর মধ্যে এমন একটি আধ্যাত্মিক টান আছে, যা ব্যাখ্যা করা যায় না।’
পাথরগুলো সংরক্ষণের জন্য তিনি বাড়ির একটি নির্দিষ্ট কক্ষে ধাতব স্লেট ও মেডিসিন ব্যবহার করেন। দর্শনার্থীরা অনুমতি নিয়ে পাথরগুলো দেখতে পারেন। পাকিস্তানের খ্যাতনামা ভূ-উপাদান ও খনিজ বিশেষজ্ঞ সৈয়দ আমজাদ হুসাইন জানিয়েছেন, এসব পাথরের মধ্যে রয়েছে আকিক, ফিরোজা, ওপাল ও মার্জানের মতো খনিজ। ল্যাব পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, এসব লেখা বা ছাপ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক—ভূগর্ভস্থ খনিজ উপাদানের মিশ্রণ ও গঠনপ্রক্রিয়ার ফলে এমনটি তৈরি হয়েছে।

সৈয়দ আলী আসগর জানিয়েছেন, শুরুর দিকে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন। অসাধু ব্যবসায়ীরা তাঁর কাছে নকল পাথর বিক্রি করতে চেয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে তিনি নিজেও পারদর্শী হয়ে ওঠেন এবং করাচির ল্যাব থেকে সংগ্রহ করা পাথরের সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন।
পাথর বিক্রির প্রস্তাবও পেয়েছেন বহুবার, কিন্তু কোনো কিছুতেই রাজি হননি। তাঁর কথা, ‘আমি চাই এগুলো বিশ্বস্ত কোনো প্রতিষ্ঠান বা সরকারিভাবে জাদুঘরে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হোক। তাহলে আমি এগুলো সবার দেখার জন্য উৎসর্গ করতে পারি।’

আসগর শাহের সংগ্রহশালা কেবলই পাথরের প্রদর্শনী নয়; বরং তা এক আত্মিক ভালোবাসা ও আধ্যাত্মিক যাত্রার প্রকাশ। যখন আমাদের চারপাশে অবিশ্বাস, অবহেলা ও নিছক বস্তুবাদের দাপট, তখন এ ধরনের নিদর্শন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আল্লাহর কুদরতি নিদর্শন আজও পৃথিবীর আনাচকানাচে ছড়িয়ে আছে। কেবল প্রয়োজন একটু গভীর দৃষ্টির, সজাগ হৃদয়ের।
তথ্যসূত্র: ইনডিপেনডেন্ট উর্দু
লেখক: সাব-এডিটর, ৩৬ নিউজ

পৃথিবীজুড়ে আল্লাহর কুদরত ও রাসুল (সা.)-এর ভালোবাসা বিভিন্ন রূপে ধরা দেয়—প্রকৃতির বৈচিত্র্যে, মানুষের হৃদয়ে, এমনকি জড়জগতের নিঃশব্দ বার্তায়ও। কখনো কখনো কিছু বিস্ময়কর নিদর্শন আমাদের সামনে আসে, যা যুক্তিবোধকে পেছনে ফেলে আত্মায় নাড়া দেয়। পাহাড়, নদী, পাথর কিংবা মরুভূমির বালুকণায়ও আল্লাহর সৃষ্টির অদ্ভুত শিল্প ও নিদর্শন লুকিয়ে থাকে। এমনই এক মুগ্ধতার গল্প নিয়ে হাজির হয়েছেন পাকিস্তানের এক সংগ্রাহক, যাঁর সংগ্রহে রয়েছে ‘আল্লাহ’ ও ‘মুহাম্মদ’ লেখা রহস্যময় বেশ কিছু পাথর।
পাহাড়-পর্বত, সমুদ্রসৈকত, ঝরনা কিংবা মরুভূমির বালুর নিচে ছড়িয়ে থাকা এক টুকরা পাথর আমাদের কাছে সাধারণ এক খনিজ পদার্থ মাত্র। কিন্তু কারও কারও কাছে এসবই হয়ে ওঠে ইমান, ইতিহাস ও আত্মিক সাধনার প্রতীক। পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের নওশাহরো ফিরোজ জেলার বাসিন্দা, ৬০ বছর বয়সী সৈয়দ আলী আসগর তেমনই একজন ব্যতিক্রমী মানুষ, যিনি ২০ বছর ধরে সংগ্রহ করে চলেছেন আশ্চর্য রকমের পাথর। এসব পাথরের বৈশিষ্ট্য হলো—মানুষের হাতের ছোঁয়া ছাড়াই সৃষ্টিগতভাবে সেগুলোর গায়ে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে ‘আল্লাহ’ ও ‘মুহাম্মদ’ নাম।
আসগর শাহের দাবি, তাঁর সংগ্রহে বর্তমানে রয়েছে প্রায় ২০০ বিরল পাথর। এসব তিনি সংগ্রহ করেছেন পাকিস্তান ছাড়াও সৌদি আরব, দুবাই, চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইরাক থেকে। তিনি মনে করেন, প্রতিটি পাথর একটি আসমানি আমানত। কোনো কোনো পাথর সংগ্রহে তাঁর লেগেছে পাঁচ-ছয় বছর। তবু কখনো তাড়াহুড়ো করেননি।
আসগর শাহের ভাষায়, ‘এই পাথরগুলো আমার কাছে পবিত্র। এগুলোর মধ্যে এমন একটি আধ্যাত্মিক টান আছে, যা ব্যাখ্যা করা যায় না।’
পাথরগুলো সংরক্ষণের জন্য তিনি বাড়ির একটি নির্দিষ্ট কক্ষে ধাতব স্লেট ও মেডিসিন ব্যবহার করেন। দর্শনার্থীরা অনুমতি নিয়ে পাথরগুলো দেখতে পারেন। পাকিস্তানের খ্যাতনামা ভূ-উপাদান ও খনিজ বিশেষজ্ঞ সৈয়দ আমজাদ হুসাইন জানিয়েছেন, এসব পাথরের মধ্যে রয়েছে আকিক, ফিরোজা, ওপাল ও মার্জানের মতো খনিজ। ল্যাব পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, এসব লেখা বা ছাপ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক—ভূগর্ভস্থ খনিজ উপাদানের মিশ্রণ ও গঠনপ্রক্রিয়ার ফলে এমনটি তৈরি হয়েছে।

সৈয়দ আলী আসগর জানিয়েছেন, শুরুর দিকে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন। অসাধু ব্যবসায়ীরা তাঁর কাছে নকল পাথর বিক্রি করতে চেয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে তিনি নিজেও পারদর্শী হয়ে ওঠেন এবং করাচির ল্যাব থেকে সংগ্রহ করা পাথরের সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন।
পাথর বিক্রির প্রস্তাবও পেয়েছেন বহুবার, কিন্তু কোনো কিছুতেই রাজি হননি। তাঁর কথা, ‘আমি চাই এগুলো বিশ্বস্ত কোনো প্রতিষ্ঠান বা সরকারিভাবে জাদুঘরে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হোক। তাহলে আমি এগুলো সবার দেখার জন্য উৎসর্গ করতে পারি।’

আসগর শাহের সংগ্রহশালা কেবলই পাথরের প্রদর্শনী নয়; বরং তা এক আত্মিক ভালোবাসা ও আধ্যাত্মিক যাত্রার প্রকাশ। যখন আমাদের চারপাশে অবিশ্বাস, অবহেলা ও নিছক বস্তুবাদের দাপট, তখন এ ধরনের নিদর্শন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আল্লাহর কুদরতি নিদর্শন আজও পৃথিবীর আনাচকানাচে ছড়িয়ে আছে। কেবল প্রয়োজন একটু গভীর দৃষ্টির, সজাগ হৃদয়ের।
তথ্যসূত্র: ইনডিপেনডেন্ট উর্দু
লেখক: সাব-এডিটর, ৩৬ নিউজ

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি) হিজরি ১৪৪৭ সনের পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে রজব মাসের ২৯তম দিন চলছে। শাবান মাসের ১৫তম রাতে পালিত হয় মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় রাত পবিত্র শবে বরাত।
৩ মিনিট আগে
দেখতে দেখতে আবারও ঘনিয়ে এসেছে মুসলিম উম্মাহর সিয়াম সাধনার পবিত্র মাস রমজান। আত্মশুদ্ধি, রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এই মাসকে ঘিরে সারা বিশ্বের মুসলমানদের মধ্যে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, প্রথম রোজা কত তারিখে এবং ঈদুল ফিতর কবে পালিত হবে—তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক হিসাব...
১ ঘণ্টা আগে
সুরা নাস পবিত্র কোরআনের ১১৪তম এবং সর্বশেষ সুরা। অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, সুরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এর আয়াত সংখ্যা ৬ এবং রুকু সংখ্যা ১। এই সুরা ‘মুআওউইজাতাইন’ তথা আশ্রয় প্রার্থনার দুটি সুরার অন্তর্ভুক্ত। সুরা নাস মানুষকে দৃশ্য ও অদৃশ্য সকল প্রকার অনিষ্টতা এবং শয়তানের প্ররোচনা থেকে মহান আল্লাহর...
২ ঘণ্টা আগে
দোয়া কুনুত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় আমল। কুনুত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো নীরবতা, বিনয়, ইবাদত বা দাঁড়ানো। পরিভাষায়, নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে বিশেষ কোনো প্রার্থনা বা মোনাজাত করাকে দোয়া কুনুত বলা হয়। যদিও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতিটি রুকনই অত্যন্ত মূল্যবান, তবে বিতর নামাজে দোয়া কুনুতের আমলটি...
৫ ঘণ্টা আগে