মসজিদে হারামের মধ্যখানে অবস্থিত কাবা শরিফের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে স্থাপিত একটি কালো পাথর, যা মুসলিম বিশ্বের কাছে হাজরে আসওয়াদ নামে পরিচিত। ‘হাজর’ অর্থ পাথর এবং ‘আসওয়াদ’ অর্থ কালো। অর্থাৎ হাজরে আসওয়াদ মানে কালো পাথর। এটি বর্তমানে ডিম্বাকৃতির, ভাঙা কয়েকটি অংশ একত্র করে রুপার ফ্রেমে আবদ্ধ অবস্থায় কাবা শরিফের দেয়ালে বসানো আছে।
যেভাবে এল হাজরে আসওয়াদ
হাজরে আসওয়াদ মূলত জান্নাত থেকে এসেছিল। এটি ছিল দুধের চেয়ে সাদা। পরে মানুষের গুনাহ তাকে কালো করে দিয়েছে। (জামে তিরমিজি: ৮৭৭)। আদি পিতা হজরত আদম (আ.) যখন জান্নাত থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করেন, তখন আল্লাহ তাআলা বায়তুল মামুরকে পৃথিবীতে নামিয়ে আনেন। ইয়াকুত পাথরে নির্মিত এ ঘরের দরজাগুলো ছিল জমরুদের। আল্লাহ তাআলা এটিকে সেই স্থানে স্থাপন করেন, যেখানে এখন কাবাঘর অবস্থিত। এরপর হজরত আদম (আ.)-কে নির্দেশ দেওয়া হলো, জান্নাতে যেভাবে তিনি এই ঘরের তাওয়াফ করতেন এবং এর চারদিকে নামাজ আদায় করতেন, পৃথিবীতেও ঠিক তেমনভাবেই ইবাদত করতে। এ সময় বায়তুল মামুরের সঙ্গে হাজরে আসওয়াদকেও পৃথিবীতে নামিয়ে আনা হয়। এভাবেই জান্নাতি এ পাথর মানবজাতির ইবাদতকেন্দ্র কাবাঘরের সঙ্গে পৃথিবীতে এসে যুক্ত হয়। (তাফসিরে মাজহারি)
ইবরাহিম (আ.)-এর কাবাঘর নির্মাণ
হজরত নুহ (আ.)-এর প্লাবনের সময় বাইতুল মামুরকে আকাশে উঠিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় হাজরে আসওয়াদকে বন্যার পানি থেকে রক্ষা করার জন্য হজরত জিবরাইল (আ.) মক্কার আবু কোবাইস পাহাড়ে সংরক্ষণ করে রাখেন। হজরত ইবরাহিম (আ.) এবং তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.) যখন আল্লাহ তাআলার নির্দেশে কাবাঘর পুনর্নির্মাণ করছিলেন, নির্মাণকাজ শেষে এমন একটি বিশেষ পাথরের প্রয়োজন দেখা দিল, যা থেকে তাওয়াফ শুরু ও শেষ করা যাবে। ইবরাহিম (আ.) ইসমাইল (আ.)-কে একটি উপযুক্ত পাথর খুঁজতে পাঠান। তবে তিনি পাথর নিয়ে ফিরে আসার আগেই জিবরাইল (আ.) পাহাড়ের সংরক্ষিত স্থান থেকে এই হাজরে আসওয়াদ নিয়ে আসেন। হজরত ইবরাহিম (আ.) এই পাথরটিকে কাবার পূর্ব কোণে স্থাপন করেন। (তাফসিরে ইবনে কাছির)
নবীজির হাজরে আসওয়াদ পুনঃস্থাপন
নবীজি (সা.)-এর নবুওয়াতপ্রাপ্তির আগে কুরাইশরা কাবাঘর পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। নির্মাণকাজ শেষ হলে হাজরে আসওয়াদকে তার স্থানে পুনরায় স্থাপন কে করবে, এটা নিয়ে বিবাদ দেখা দেয়। প্রতিটি গোত্র নিজেদের এই সম্মানের উপযুক্ত দাবি করে। ফলে পরিস্থিতি প্রায় যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যায়। অবশেষে তারা সিদ্ধান্ত নেয়, পরদিন সকালে যে ব্যক্তি সর্বপ্রথম কাবার দরজায় প্রবেশ করবে, সে এই বিবাদের মীমাংসা করবে। পরদিন সর্বপ্রথম যিনি প্রবেশ করেন, তিনি ছিলেন নবীজি (সা.)। তিনি একটি চাদর বিছিয়ে তার ওপর পাথরটি রাখেন এবং প্রতিটি গোত্রের প্রধানকে চাদরের কোণ ধরে একসঙ্গে তুলতে বলেন। যথাস্থানে উঠানোর পর তিনি নিজ হাতে পাথরটি পুনঃস্থাপন করেন।
নবীযুগের পর হাজরে আসওয়াদ: ৬৮৩ খ্রিষ্টাব্দে বনু উমাইয়ার শাসক ইয়াজিদের সেনাবাহিনী মক্কা অবরোধ করে পাথর নিক্ষেপ করে। এতে কাবাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হাজরে আসওয়াদ ভেঙে তিন টুকরা হয়ে যায়। তখন হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.) টুকরাগুলো জোড়া দিয়ে যথাস্থানে বসিয়ে দেন।
৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে কারামাতি সম্প্রদায় মক্কা আক্রমণ করে। তারা হাজরে আসওয়াদ চুরি করে নিয়ে যায়। প্রায় ২২ বছর পর ৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তিপণের বিনিময়ে পাথরটি ফেরত দেওয়া হয়। ফেরত আসার সময় পাথরটি সাতটি টুকরায় বিভক্ত ছিল।
বর্তমানে হাজরে আসওয়াদ কাবার দক্ষিণ-পূর্ব কোণে প্রায় ১.৫ মিটার উঁচুতে স্থাপিত। পাথরটি আসলে আটটি ছোট টুকরা, যা একটি রুপালি ফ্রেম দিয়ে একসঙ্গে রাখা হয়েছে।

একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল এবং ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠনে শাসকের ভূমিকা অপরিসীম। মানুষের চিন্তা-চেতনা ও স্বভাবে ভিন্নতা থাকার কারণে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছাড়া সমাজে বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষ ঘটা স্বাভাবিক। ইসলামে শাসনক্ষমতা ভোগের বস্তু নয়—এটি একটি পবিত্র আমানত এবং বিশাল দায়িত্ব।
৭ ঘণ্টা আগে
আজান মানে হলো আহ্বান বা ঘোষণা। নামাজের সময় হয়েছে—এটি মানুষকে জানানোর জন্যই আজান দেওয়া হয়। আজান শোনা এবং এর যথাযথ উত্তর দেওয়া একটি স্বতন্ত্র ইবাদত।
৭ ঘণ্টা আগে
বছরের ১২ মাসের মধ্যে মাহে রমজানের মাহাত্ম্য ও মর্যাদা অতুলনীয়। মুমিনের কাছে রমজান মানেই রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এক বিশেষ সুযোগ। হাদিস শরিফে সিয়াম বা রোজা পালনকারীদের জন্য এমন কিছু বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা অন্য কোনো ইবাদতের ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না।
৮ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৫ ঘণ্টা আগে