মানুষ ইসলামসম্মত উপায়ে বসবাস করলে শয়তানের তা সহ্য হয় না। তার কাজই হলো মানুষকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে জাহান্নামের পথে পরিচালিত করা। মানুষের দাম্পত্যজীবনে শত অসুবিধা থাকলেও স্বামী-স্ত্রী উভয়ে সুখে-শান্তিতে দিন যাপন করতে চায়। তবে শয়তান এসব বিষয় নিয়ে তাদের প্ররোচিত করে এবং দাম্পত্য-কলহ তৈরি করে তাদের বিচ্ছেদ ঘটাতে চেষ্টা করে। হাদিসের ভাষায় এটিই শয়তানের সবচেয়ে প্রিয় কাজ।
হাদিসে এসেছে, জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘ইবলিস পানির ওপর তার আরশ স্থাপন করে মানুষের মধ্যে তার বাহিনীকে ছড়িয়ে দেয়। তাদের মধ্যে সে-ই ইবলিসের কাছে বেশি মর্যাদাবান, যে সবচেয়ে বেশি ফেতনা সৃষ্টি করে। তাদের একজন এসে বলে, আমি অমুক অমুক কাজ করেছি। ইবলিস বলে, তুমি কিছু করোনি। এরপর অন্যজন এসে বলে, অমুকের সঙ্গে আমি অমুক কাজ করেছি। একপর্যায়ে আমি তাকে ও তার স্ত্রীর মধ্যে বিভেদ তৈরি না করে ছাড়িনি। এরপর ইবলিস তাকে তার কাছে টেনে নেয় এবং বলে, হ্যাঁ, তুমি অনেক বড় কাজ করেছ।’ (মুসলিম: ২৮১৩)
তাই শয়তানের ফাঁদে পা দিয়ে দাম্পত্য সম্পর্ক নষ্ট করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তাঁর নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন যেন তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো এবং তোমাদের মধ্যে হৃদ্যতা ও ভালোবাসা তৈরি করেছেন, নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীলদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা রুম: ২১)
স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের মধ্যে সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ রাখবে। কেউ কারও কোনো আচরণ অপছন্দ করলে মার্জিতভাবে দ্বিমত করবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুমিন পুরুষ যেন কোনো মুমিন নারীকে (স্ত্রী) ঘৃণা না করে। (স্বামী) তার (স্ত্রীর) কোনো একটি আচরণ অপছন্দ করলে অন্য আচরণকে পছন্দ করবে।’ (মুসলিম: ১৪৬৯)
দাম্পত্য সঙ্গীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে হাদিসে নিষেধ করা হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা নারীদের (স্ত্রীদের) সঙ্গে সদাচরণ কোরো। কারণ তাদের পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের সবচেয়ে বেশি বাঁকা বস্তু হলো এর ওপরের অংশ। তুমি তা সোজা করতে গেলে তা ভেঙে ফেলবে। আর আপন অবস্থায় রেখে দিলে তা সর্বদা বাঁকা থাকবে। অতএব তোমরা নারীদের সঙ্গে সদাচরণ কোরো।’ (বুখারি: ৫১৮৬)

হজ কোনো সাধারণ সফর নয়, এটি মহান আল্লাহর সান্নিধ্যলাভের এক অনন্য মাধ্যম। এই ইবাদত যেমন শরীরের পরিশ্রমে ঋদ্ধ, তেমনি আত্মার প্রশান্তিতে ধন্য। তবে প্রস্তুতির অভাবে অনেক সময় এই পবিত্র সফর কেবল ভ্রমণে পর্যবসিত হয়। তাই হজে যাওয়ার আগে প্রতিটি হাজিকে কিছু মৌলিক বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হয়।
১৩ ঘণ্টা আগে
এই নশ্বর জীবনে প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব কর্মপদ্ধতি ও ব্যস্ততা রয়েছে। কিন্তু একজন মুমিনের জীবনের মূল চালিকাশক্তি হলো পরকালের চিন্তা। দুনিয়াবি ব্যস্ততার পসরা যতই বড় হোক, মুমিন তার ইমান ও আমলের জন্য সময় বের করে নেয়।
১৩ ঘণ্টা আগে
খিভা থেকে আমু দরিয়া (প্রাচীন অক্সাস নদী) পার হলেই চোখে পড়ে মাওয়ারাননাহার বা ট্রান্স-অক্সিয়ানার দিগন্ত। এই জনপদেই গড়ে উঠেছে উজবেকিস্তানের দুই গৌরবোজ্জ্বল শহর—সমরকন্দ ও বুখারা। তবে সব ছাপিয়ে বুখারাকে বলা হয় ‘কুব্বাতুল ইসলাম’ বা ইসলামের গম্বুজ; যা শতাব্দীকাল ধরে ঐতিহ্য, পাণ্ডিত্য এবং সুফি ঐতিহ্যের...
১৩ ঘণ্টা আগে
শৈশবে শিখেছিলাম—‘নামাজে ডান পা নাড়াচাড়া করা যাবে না।’ এর পর থেকে আজ পর্যন্ত নামাজের শেষ পর্যন্ত ডান পা নাড়াচাড়া না করে সালাম ফেরাই। কিন্তু অনেককে দেখি বিষয়টি সম্পর্কে উদাসীন। তাহলে কি আমি ভুল জেনেছি এত দিন? এ ব্যাপারে ইসলামের সঠিক বিধান কী?’
১৪ ঘণ্টা আগে