প্রশ্ন: শৈশবে শিখেছিলাম—‘নামাজে ডান পা নাড়াচাড়া করা যাবে না।’ এর পর থেকে আজ পর্যন্ত নামাজের শেষ পর্যন্ত ডান পা নাড়াচাড়া না করে সালাম ফেরাই। কিন্তু অনেককে দেখি বিষয়টি সম্পর্কে উদাসীন। তাহলে কি আমি ভুল জেনেছি এত দিন? এ ব্যাপারে ইসলামের সঠিক বিধান কী?’
মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ্, বারইয়ারহাট, মিরসরাই, চট্টগ্রাম
উত্তর: নামাজ ইসলামের প্রধান স্তম্ভ। নামাজের প্রতিটি রুকন বা অঙ্গ নিখুঁতভাবে আদায় করা মুমিনের দায়িত্ব। নামাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ডান পা বা এর আঙুল একদম স্থির রাখতে হবে, সামান্য নড়লেই নামাজ শেষ। এটি একটি ভুল ধারণা।
ইসলামের সঠিক বিধান হলো: বিনা প্রয়োজনে নামাজের মধ্যে শরীরের যেকোনো অঙ্গ নাড়াচাড়া করা মাকরুহ। এ ক্ষেত্রে ডান পায়ের আলাদা কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য নেই যে এটি নড়লেই নামাজ ভেঙে যাবে।
তবে সিজদা অবস্থায় খেয়াল রাখতে হবে যেন অন্তত এক পায়ের একটি আঙুল জমিনে লেগে থাকে। যদি পুরো সিজদায় উভয় পা একসঙ্গে জমিন থেকে উঠে থাকে, তবে নামাজ ভেঙে যাবে। (বাহরুর রায়েক)
নামাজে বসার সঠিক পদ্ধতি
নামাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুকন হলো বৈঠক বা বসা। তিন বা চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজে প্রথম বৈঠকটি ওয়াজিব এবং শেষ বৈঠকটি ফরজ। বসার সুন্নাহ পদ্ধতি হলো, অত্যন্ত প্রশান্তির সঙ্গে বাঁ পা বিছিয়ে দিয়ে তার ওপর ভর দিয়ে বসবেন। ডান পা খাড়া রাখবেন এবং পায়ের আঙুলগুলো কিবলামুখী করে রাখবেন।
অনেকে উভয় পা বিছিয়ে তার ওপর বসেন, কেউ আবার ডান পায়ের ওপর ভর দিয়ে বাঁ পা বিছিয়ে রাখেন—এগুলো ভুল পদ্ধতি। ডান হাত ডান রানের ওপর এবং বাঁ হাত বাঁ রানের ওপর থাকবে। আঙুলগুলো স্বাভাবিকভাবে কিবলামুখী হয়ে থাকবে।
হজরত ওয়াইল ইবনে হুজর (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দেখেছি, তিনি যখন বৈঠকে বসতেন তখন বাঁ পা বিছিয়ে দিতেন এবং ডান পা খাড়া রাখতেন।’ (জামে তিরমিজি: ২৯২, সুনানে নাসায়ি: ১১৫৯)
বৈঠকে তাশাহহুদ পাঠের সময় যখন ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা’ পর্যন্ত পৌঁছাবেন, তখন ডান হাতের শাহাদাত আঙুল উঠাবেন এবং ‘ইল্লাল্লাহ’ বলার সময় আঙুলের মাথা কিবলার দিকে ঝুঁকিয়ে ইশারা করবেন। বাকি আঙুলগুলো মুষ্টির ভেতরে থাকবে। এই পদ্ধতি বৈঠকের শেষ পর্যন্ত বহাল থাকবে।
দাঁড়ানো অবস্থায় পা রাখার নিয়ম
নামাজে দাঁড়ানো অবস্থায় পায়ের পাতা ও আঙুলের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দাঁড়ানো অবস্থায় দুই পায়ের পাতা ডানে-বাঁয়ে বাঁকিয়ে না রেখে সোজা কিবলামুখী করে রাখতে হবে। দুই পায়ের মাঝে সামনে-পেছনে সমান ফাঁকা রাখা সুন্নত।
অসুস্থতার ক্ষেত্রে শিথিলতা
ইসলাম একটি সহজ ধর্ম। যদি কোনো ব্যক্তি অসুস্থতা বা পায়ে ব্যথার কারণে সুন্নাহ পদ্ধতিতে (ডান পা খাড়া রেখে বাঁ পায়ের ওপর) বসতে না পারেন, তবে তিনি তাঁর সুবিধামতো যেকোনোভাবে বসতে পারবেন। এতে নামাজের কোনো ক্ষতি হবে না। (রদ্দুল মুহতার ১ / ৪৭৭)
উত্তর দিয়েছেন: মুফতি হাসান আরিফ, ইসলামবিষয়ক গবেষক

হজ কোনো সাধারণ সফর নয়, এটি মহান আল্লাহর সান্নিধ্যলাভের এক অনন্য মাধ্যম। এই ইবাদত যেমন শরীরের পরিশ্রমে ঋদ্ধ, তেমনি আত্মার প্রশান্তিতে ধন্য। তবে প্রস্তুতির অভাবে অনেক সময় এই পবিত্র সফর কেবল ভ্রমণে পর্যবসিত হয়। তাই হজে যাওয়ার আগে প্রতিটি হাজিকে কিছু মৌলিক বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হয়।
১ ঘণ্টা আগে
এই নশ্বর জীবনে প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব কর্মপদ্ধতি ও ব্যস্ততা রয়েছে। কিন্তু একজন মুমিনের জীবনের মূল চালিকাশক্তি হলো পরকালের চিন্তা। দুনিয়াবি ব্যস্ততার পসরা যতই বড় হোক, মুমিন তার ইমান ও আমলের জন্য সময় বের করে নেয়।
২ ঘণ্টা আগে
খিভা থেকে আমু দরিয়া (প্রাচীন অক্সাস নদী) পার হলেই চোখে পড়ে মাওয়ারাননাহার বা ট্রান্স-অক্সিয়ানার দিগন্ত। এই জনপদেই গড়ে উঠেছে উজবেকিস্তানের দুই গৌরবোজ্জ্বল শহর—সমরকন্দ ও বুখারা। তবে সব ছাপিয়ে বুখারাকে বলা হয় ‘কুব্বাতুল ইসলাম’ বা ইসলামের গম্বুজ; যা শতাব্দীকাল ধরে ঐতিহ্য, পাণ্ডিত্য এবং সুফি ঐতিহ্যের...
২ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৭ ঘণ্টা আগে