মানবজীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু পরকালের জীবন অনন্ত। সেই পরকালীন জীবনের একমাত্র সম্বল হলো দুনিয়ার সৎকর্ম বা আমল। পরকালে মুক্তি এবং জান্নাত লাভের যত সহজ ও বরকতময় মাধ্যম রয়েছে, তার মধ্যে দান-সদকা অন্যতম। কোরআন ও হাদিসে গোপন ও প্রকাশ্যে দান-সদকা করার জন্য বারবার উৎসাহিত করা হয়েছে। এতে কেবল অভাবগ্রস্ত মানুষের মুখে হাসিই ফোটে না, বরং দানকারীর নিজের দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনকে শান্তিময় ও সমৃদ্ধ করে তোলে।
সদকা কীভাবে একজন বান্দার পাপ মোচন করে, বিপদ দূর করে এবং পরকালে জান্নাতে যাওয়ার পথকে সুগম ও সহজ করে, তা আলোচনা করা হলো:
সদকার সবচেয়ে বড় মানসিক ও পারলৌকিক উপকারিতা হলো, এটি বান্দার অপরাধ ও গুনাহ মুছে দেয়। হাদিসে এসেছে, পানি যেমন আগুনকে নিভিয়ে দেয়, দান-সদকাও তেমনি বান্দার গুনাহকে মিটিয়ে দেয়। মহানবী (সা.) স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে সদকা আল্লাহর অসন্তোষ থেকে রক্ষা করে এবং জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে একটি মজবুত ঢাল হিসেবে কাজ করে। যে ব্যক্তি নিষ্ঠার সঙ্গে দান করে, পরকালে এই দানই তার ও জাহান্নামের আগুনের মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়াবে।
সদকার প্রভাব বোঝাতে গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত ইয়াহইয়া (আ.)-এর একটি সুন্দর রূপক বর্ণনা করেছেন। হজরত ইয়াহইয়া (আ.) বনি ইসরাইলকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, ‘আল্লাহ আমাকে তোমাদের সদকা করার নির্দেশ দিতে বলেছেন। কারণ যে ব্যক্তি সদকা দেয়, তার উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো—যাকে শত্রুরা বন্দী করেছে এবং তার হাত ঘাড়ে বেঁধে মৃত্যুদণ্ডের জন্য নিয়ে যাচ্ছে। ঠিক তখন সে তার কাছে থাকা সামান্য ধন-সম্পদ দিয়ে নিজেকে মুক্ত করার প্রস্তাব দেয় এবং শত্রুরা সেই প্রস্তাব মেনে নিলে সে মৃত্যুদণ্ড থেকে মুক্তি পায়।’ (জামে তিরমিজি)
এ রূপক থেকে স্পষ্ট অনুমেয় যে মানুষ তার প্রবৃত্তি ও গুনাহের কারণে শয়তান ও জাহান্নামের বন্দী হয়ে পড়ে। আর সদকা হলো সেই অমূল্য মুক্তিপণ, যা মানুষকে জাহান্নামের শিকল থেকে মুক্ত করে চিরন্তন স্বাধীনতার পথ—অর্থাৎ জান্নাতের দরজায় পৌঁছে দেয়।
অনেকে মনে করেন দান করলে নিজের গচ্ছিত অর্থ বা সম্পদ কমে যায়। কিন্তু এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। মহানবী (সা.) আল্লাহর নামে কসম খেয়ে বলেছেন, ‘সদকা কখনোই সম্পদ কমায় না।’ বরং সদকা করলে আল্লাহ তাআলা সেই সম্পদে বহুগুণ বরকত দান করেন, বিপদ-আপদ দূর করে দেন এবং আয়ু বরকতময় করে তোলেন। যে ধন-সম্পদে আল্লাহর বরকত থাকে, তা দানকারীর জন্য দুনিয়াতেও শান্তির কারণ হয় এবং আখিরাতেও উচ্চ মর্যাদার উসিলা হয়।
মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তার সব আমল ও আমলনামার দুয়ার বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু সদকা এমন এক অনন্য আমল, যা মৃত্যুর পরও সওয়াবের ধারা চালু রাখে। হাদিসে এসেছে, মৃত্যুর পর কেবল তিনটি আমলের সওয়াব অব্যাহত থাকে—১. প্রবহমান দান বা সাদকায়ে জারিয়া (যেমন: মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নলকূপ স্থাপন বা জনকল্যাণমূলক কাজ), ২. মানবকল্যাণমূলক দ্বীনি ও দরকারি জ্ঞান, এবং ৩. এমন সুসন্তান, যে মা-বাবার জন্য দোয়া করে।
একজন ব্যক্তি যখন সদকায়ে জারিয়া করে যান, তখন তাঁর কবরেও সেই দানের সওয়াব পৌঁছাতে থাকে, যা হাশরের ময়দানে জান্নাতে প্রবেশের পথকে অনেক বেশি সুগম করে দেয়।
হঠাৎ মৃত্যু এসে পড়ার আগেই দান-সদকা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পবিত্র কোরআনে। আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে বলেন, ‘তোমাদের কারও মৃত্যু আসার আগেই আমি যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে দান করো। অন্যথায় সে (মৃত্যুর সময়) বলবে—হে আমার রব! আমাকে যদি আর অল্প কিছুদিন সময় দেওয়া হতো, তবে আমি দান করতাম এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।’ (সুরা মুনাফিকুন: ১০)। অর্থাৎ, মৃত্যুর মুহূর্তে অনুশোচনা করার কোনো সুযোগ থাকবে না। তাই সুস্থ ও জীবিত থাকতেই জান্নাতের সঞ্চয় হিসেবে সদকা করে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
সদকা করার জন্য সব সময় বিপুল অর্থ-সম্পদের প্রয়োজন হয় না। ইসলাম একে অত্যন্ত সহজ ও সর্বজনীন করেছে। মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা অনুযায়ী—একজন ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসা, কাউকে ভালো ও সৎ পরামর্শ দেওয়া, পথ থেকে কোনো কষ্টদায়ক বস্তু (যেমন: পাথর, কাঁটা বা ময়লা) সরিয়ে ফেলা—এ সবই সদকার অন্তর্ভুক্ত।
তবে যখন অর্থ দান করা হয়, তখন বাস্তব উপযোগী ও প্রকৃত হকদার—যেমন এতিম, অসহায়, নিঃস্ব এবং দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের খুঁজে বের করে দান করা উচিত, যাতে তাদের প্রকৃত উপকার হয়।

বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান, ইরান ও ইরাকের মতো কয়েকটি মুসলিমপ্রধান দেশের একাংশে প্রতিবছর সফর মাসের শেষ বুধবার ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ পালিত হতে দেখা যায়। ফারসি এই বাক্যটির আক্ষরিক অর্থ হলো—‘সফর মাসের শেষ বুধবার’ (ফারসি ‘আখেরি’ অর্থ শেষ, ‘চাহর’ অর্থ সফর মাস এবং ‘সোম্বা’ অর্থ বুধবার)।
৩ ঘণ্টা আগে
বাতাস যেখানে ইতিহাসের দীর্ঘশ্বাস বয়ে নিয়ে বেড়ায়, আর পাথরে পাথরে জমে থাকে সুপ্রাচীন সভ্যতার স্মৃতি, সেই তুরস্ক-আর্মেনিয়া সীমান্তের নিঃসঙ্গ প্রান্তরজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে ‘আনি’ প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা। আরপাচাই নদীর দুই গহিন উপত্যকার মাঝে গড়ে ওঠা শতাব্দীর প্রাচীন এই ঐতিহাসিক সীমান্তে একসময় মাথা...
৩ ঘণ্টা আগে
মুসলমান হিসেবে আমরা কোরআন মজিদকে আল্লাহ তাআলার কালাম বা অবিকৃত বাণী হিসেবে বিশ্বাস করি এবং সে অনুযায়ী সর্বোচ্চ মর্যাদা প্রদান করি। কোরআনের ফজিলত লাভ এবং এর হিদায়াত অনুধাবনের জন্য আমরা নিয়মিত তিলাওয়াতও করে থাকি। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের অনেকেই কোরআন তিলাওয়াতের মৌলিক আদব ও নীতিমালা...
৩ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৭ ঘণ্টা আগে