কোরবানি শুরু হয়েছিল আদি পিতা হজরত আদম (আ.)-এর দুই ছেলে হাবিল ও কাবিলের মাধ্যমে। সেই সময় থেকে নিয়ে প্রত্যেক নবীর যুগেই কোরবানির বিধান ছিল।
কোরবানি স্বাভাবিক কোনো আমল নয়, বরং এর সঙ্গে মিশে আছে ইতিহাস, ঐতিহ্য, তাৎপর্য। পশু জবাই করার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অফুরন্ত সুযোগ রয়েছে এই ইবাদতে।
কোরবানি হলো বৈধ সম্পদের মাধ্যমে বিশুদ্ধ নিয়তে একমাত্র আল্লাহর জন্য পশু জবাই করা। যার যার কোরবানির পশু নিজ হাতে জবাই করাই উত্তম। নবী করিম (সা.) নিজের কোরবানির পশু নিজ হাতে জবাই করতেন।
হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে তাকবির বলতে বলতে নিজ হাতে কোরবানির পশু জবাই করতে দেখেছি। (মুসনাদে আহমাদ: ১২৪৬৬)
আমাদের সমাজে সাধারণত পুরুষরাই কোরবানির পশু জবাই করে থাকেন। নারীদের কোরবানির পশু জবাই করার তেমন প্রয়োজন হয় না। কিন্তু কোনো নারীর ওপর যদি কোরবানি ওয়াজিব হয়—তিনি কি নিজ কোরবানির পশু নিজে জবাই করতে পারবেন? এ বিষয়ে ইসলামের বিধান কী?
ইসলামি শরিয়তের বিধান হলো, নারী যদি ভালোভাবে পশু জবাই করার পদ্ধতি জানে—তাহলে তার নিজের কোরবানির পশু নিজে জবাই করতে বাধা নেই। পুরুষের জবাইকৃত পশু যেমন হালাল তেমনি নারীর জবাইকৃত পশুও হালাল। আর কোরবানি ছাড়াও অন্য যেকোনো সময় নারীরা হালাল প্রাণী জবাই করে তা খেতে পারবেন।
ইবনে কাব ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তার কিছু ছাগল-ভেড়া ছিল যা সাল নামক স্থানে চরে বেড়াতো। একদিন আমাদের এক দাসী দেখলো যে, আমাদের ছাগল-ভেড়ার মধ্যে একটি ছাগল মারা যাচ্ছে। তখন সে একটি পাথর ভেঙ্গে তা দিয়ে ছাগলটাকে জবাই করে দিল।
হজরত কাব (রা.) তাদের বললেন, তোমরা এটা খেয়ো না—যে পর্যন্ত না আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করে আসি, অথবা কাউকে তাঁর কাছে জিজ্ঞেস করতে পাঠাই। এরপর তিনি নিজেই নবী (সা.)-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন অথবা কাউকে পাঠিয়েছিলেন। নবীজি (সা.) তা খাওয়ার হুকুম দিয়েছিলেন। (সহিহ্ বুখারি: ২৩০৪)
এই হাদিস থেকে বুঝা যায়—নারীরা পশু জবাই করা এবং তাদের জবাইকৃত পশু খাওয়া ইসলামে নিষেধ নয়। প্রয়োজনে তা করতে পারে।
আরও পড়ুন:

নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যাতু) পাঠ করার পর দরুদ শরিফ পাঠ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা, আবার কোনো কোনো ফকিহের মতে তা ওয়াজিব। আমল ও ফজিলতের দিক থেকে নামাজের মধ্যে দরুদে ইবরাহিম পাঠ করা সবচেয়ে উত্তম ও সর্বজনবিদিত। কারণ, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সাহাবিদের নামাজে পাঠ করার জন্য বিশেষভাবে এই...
৪ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের ইবাদত কবুল হওয়ার প্রাথমিক শর্ত হলো পবিত্রতা। ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম না জানলে আমাদের নামাজসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত আদায় হবে না। গোসলের সময় যদি এই তিনটি কাজের কোনো একটি বাদ পড়ে, তবে গোসল শুদ্ধ হবে না এবং ব্যক্তি অপবিত্রই থেকে যাবেন: এক. ভালোভাবে মুখ ভরে পানি নিয়ে গড়গড়াসহকারে কুলি করা।
১৪ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৮ ঘণ্টা আগে
পবিত্র কোরআনুল কারিম হলো মানবজাতির জন্য পরম হেদায়েত, আত্মিক আরোগ্য ও সুরক্ষার এক অবিনশ্বর ভান্ডার। আর এই মহাগ্রন্থের ১১৪টি সুরার হাজারো আয়াতের মধ্যে সবচেয়ে মহিমান্বিত, ফজিলতপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ আয়াত হলো ‘আয়াতুল কুরসি’।
২ দিন আগে