সন্তান জন্মের পর মা-বাবার গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্তব্য হলো—তার নামে আকিকা করা। নবী করিম (সা.) বলেন, প্রত্যেক শিশু তার আকিকার সঙ্গে দায়বদ্ধ থাকে। তার জন্মের সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে পশু জবাই করতে হয়, তার মাথা কামাতে হয় এবং নাম রাখতে হয়। (সুনানে ইবনে মাজা: ৩১৬৫)
মহানবী (সা.) নিজেও আকিকা দিয়েছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নাতি হাসান ও হোসাইনের পক্ষ থেকে দুটি করে বকরি জবেহ করেছেন।’ (সুনানে আবু দাউদ)
আকিকা ছেলের পক্ষ থেকে দুটি ও মেয়ের পক্ষ থেকে একটি বকরি করা সুন্নত। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ছেলে সন্তানের জন্য দুটি ও কন্যা সন্তানের জন্য একটি পশু আকিকা করার নির্দেশ দিয়েছেন। (জামে তিরমিজি)
প্রযুক্তির কল্যাণে এখন জন্মের কয়েক মাস আগেই জানা যায়—গর্ভের সন্তান ছেলে নাকি মেয়ে। গর্ভকালীন সময়ে কি বাচ্চার নামে আকিকা করে ফেলা যাবে?
ইসলামের বিধান মতে—আকিকার সম্পর্ক সন্তান জন্মের সঙ্গে। নবী করিম (সা.) সন্তান জন্মের পর আকিকা দিতে বলেছেন। তিনি বলেন, সন্তান জন্মের সপ্তম দিন বা চতুর্দশ দিন অথবা একুশতম দিন আকিকা কর। (জামে তিরমিজি)। এই দিনগুলোতে না দিতে পারলে পরবর্তীতেও আকিকা দেওয়া যায়। কিন্তু সন্তান জন্ম হওয়ার আগে আকিকা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তবে সন্তান জন্মের আগে আকিকার জন্য পশু কিনে রাখা যাবে। নিজে পেলে পুষে সেই পশু দিয়ে নিজ সন্তানের নামে আকিকা দেওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, আকিকার গোশত শিশুর মা-বাবাসহ সবাই খেতে পারবেন। কোরবানির পশুর ক্ষেত্রে যেসব শর্ত রয়েছে আকিকার পশুর ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। অর্থাৎ পশুর কোনো অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া যাবে না।
আকিকার পশুর চামড়া বিক্রি করলে, সে টাকা সদকা করে দিতে হবে। মাংস বিক্রি করা যাবে না। বরং মাংস খাবেন, সদকা করবেন ও যাকে ইচ্ছা উপহার হিসেবে দেবেন।
আরও পড়ুন:

মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য প্রতিদান হিসেবে জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছেন। মুমিনরা জান্নাতের নিকটবর্তী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মহান আল্লাহর নির্দেশে দরজাগুলো খুলে দেওয়া হবে এবং ফেরেশতারা তাঁদের সাদর সম্ভাষণ জানাবেন।
৬ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১১ ঘণ্টা আগে
ইসলামি দর্শনে ‘আহলে কিতাব’ (أهل الكتاب) একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সম্মানজনক পরিভাষা। আরবি ‘আহল’ শব্দটির অর্থ অধিবাসী, অনুসারী বা সম্পর্কিত গোষ্ঠী এবং ‘কিতাব’ শব্দের অর্থ ঐশী গ্রন্থ বা আসমানি কিতাব। ফলে শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে ‘আহলে কিতাব’ বলতে সেই সব ধর্মীয় সম্প্রদায়কে বোঝায়, যাদের ওপর...
১ দিন আগে
মানুষমাত্রই ভুল করে। কখনো নিজের দুর্বলতার কারণে, আবার কখনো শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ গুনাহে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো—আল্লাহ তাআলা বান্দার গোপন পাপকে মানুষের সামনে প্রকাশ করে তাকে অপমানিত করেন না।
১ দিন আগে