কথা দিয়ে কথা রাখার নাম প্রতিশ্রুতি বা ওয়াদা রক্ষা। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা মুমিনের বিশেষ গুণ। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে কোনো মুসলিম পরিপূর্ণ ইমানদার হতে পারে না। রাসুল (সা.) প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারীকে মুনাফিক হিসেবে অবহিত করেছেন। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করাকে ইসলামি শরিয়তে কবিরা গুনাহ বলা হয়েছে।
মহান আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারীদের ব্যাপারে অনেক সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। প্রতিশ্রুতি রক্ষাকে মুত্তাকি বান্দাদের গুণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা ওয়াদা পূর্ণ করো, নিশ্চয়ই ওয়াদা সম্পর্কে (কিয়ামতের দিনে) তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ৩৪)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা ওয়াদা করে তা পূরণ করেছে, তারাই সত্যবাদী এবং তারাই মুত্তাকি।’ (সুরা বাকারা: ১৭৭)
রাসুল (সা.) ওয়াদা পূরণের ব্যাপারে খুব সতর্ক ছিলেন। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, জাতিগত, আন্তর্জাতিকসহ সব ক্ষেত্রেই কারও সঙ্গে কোনো বিষয়ে ওয়াদা করলে তা পালনের জন্য অধীর থাকতেন। সর্বদা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেন। কখনো ওয়াদার বরখেলাপ করতেন না। সামান্য বিষয়ে ওয়াদা করলে তাও রক্ষা করতেন। উম্মতকেও প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য আদেশ দিয়েছেন তিনি।
আবদুল্লাহ ইবনে আবু হাসমা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.)-এর নবুওয়তপ্রাপ্তির আগে আমি তাঁর কাছ থেকে কিছু জিনিস খরিদ করেছিলাম, যার কিছু মূল্য পরিশোধ আমার ওপর বাকি রয়ে গিয়েছিল। আমি তাঁকে কথা দিলাম, তা অমুক স্থানে নিয়ে আসছি। কিন্তু আমি সেই প্রতিশ্রুতির কথা ভুলে গেলাম। তিন দিন পর আমার স্মরণ হলো। এসে দেখলাম, তিনি ওই স্থানেই আছেন। এরপর রাসুল (সা.) শুধু এটুকুই বললেন, ‘তুমি আমাকে তো কষ্টে ফেলেছিলে, আমি তিন দিন ধরে এই স্থানে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।’ (আবু দাউদ: ৪৯৯৮)

একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল এবং ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠনে শাসকের ভূমিকা অপরিসীম। মানুষের চিন্তা-চেতনা ও স্বভাবে ভিন্নতা থাকার কারণে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছাড়া সমাজে বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষ ঘটা স্বাভাবিক। ইসলামে শাসনক্ষমতা ভোগের বস্তু নয়—এটি একটি পবিত্র আমানত এবং বিশাল দায়িত্ব।
৮ ঘণ্টা আগে
আজান মানে হলো আহ্বান বা ঘোষণা। নামাজের সময় হয়েছে—এটি মানুষকে জানানোর জন্যই আজান দেওয়া হয়। আজান শোনা এবং এর যথাযথ উত্তর দেওয়া একটি স্বতন্ত্র ইবাদত।
৮ ঘণ্টা আগে
বছরের ১২ মাসের মধ্যে মাহে রমজানের মাহাত্ম্য ও মর্যাদা অতুলনীয়। মুমিনের কাছে রমজান মানেই রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এক বিশেষ সুযোগ। হাদিস শরিফে সিয়াম বা রোজা পালনকারীদের জন্য এমন কিছু বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা অন্য কোনো ইবাদতের ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না।
৯ ঘণ্টা আগে
মসজিদে হারামের মধ্যখানে অবস্থিত কাবা শরিফের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে স্থাপিত একটি কালো পাথর, যা মুসলিম বিশ্বের কাছে হাজরে আসওয়াদ নামে পরিচিত। ‘হাজর’ অর্থ পাথর এবং ‘আসওয়াদ’ অর্থ কালো। অর্থাৎ হাজরে আসওয়াদ মানে কালো পাথর। এটি বর্তমানে ডিম্বাকৃতির, ভাঙা কয়েকটি অংশ একত্র করে রুপার ফ্রেমে আবদ্ধ অবস্থায় কাবা....
৯ ঘণ্টা আগে