ফয়জুল্লাহ রিয়াদ

সময়টা ৫৭১ খ্রিষ্টাব্দ। ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত পৃথিবী। মানবতার লেশমাত্র নেই কোথাও। দুর্বলেরা নিষ্পেষিত। সবলেরা সমাজের কর্ণধার। তরবারি যার শক্তিশালী, সে-ই গোত্রপতি। সভ্যতার ছিটেফোঁটাও নেই। কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়া যেন অমার্জনীয় অপরাধ। শাস্তি তাদের মাটিতে পুঁতে ফেলা। জীবন্ত মেয়েকে পুঁতে ফেলতে একটুও বিচলিত হয় না পাষণ্ড বাবার হৃদয়। মানুষের তৈরি প্রতিমা প্রভুত্বের আসনে সমাসীন। পায়ে তার মাথা ঠুকছে সবাই। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে শুরু হয় বাগ্বিতণ্ডা। সময়ের আবর্তে তা রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। সংঘাত চলে বছরের পর বছর। যুগটাকে বলা হয়—আইয়ামে জাহেলিয়া—মূর্খতা ও বর্বরতার যুগ।
এহেন পরিস্থিতিতে ধরায় এলেন এক মহামানব। মা আমেনার কোল আলোকিত করে। শান্তির পতাকা হাতে। সুখের বার্তা নিয়ে। হৃদয়টা তাঁর মানবতায় পরিপূর্ণ। সবার সুখে হাসেন। সবার দুঃখে পাশেও থাকেন। দুঃখ-সুখে সবার সমান অংশীদার তিনি। আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেন অকুণ্ঠ। দুর্বলদের পাশে দাঁড়ান। সদা সত্য কথা বলেন। আমানতের খেয়ানত করেন না। অঙ্গীকার পূরণ করেন। লোকজন তাঁকে একনামে চেনে। ‘আল আমিন’ খেতাবে ভূষিত করে। পবিত্র কোরআন তাঁকে ‘রহমাতুল্লিল আলামিন’ উপাধিতে আখ্যায়িত করেছে। (সুরা আম্বিয়া: ১০৭) নবী করিম (সা.)-এর জীবনের ধাপে ধাপে, প্রতিটি পদক্ষেপে, পরতে পরতে লুকিয়ে আছে শান্তির বার্তা। সুখময় সমাজ গঠনের দিকনির্দেশনা। বিশ্বমানবতার অনুপম আদর্শ তিনি শান্তির আলোকবর্তিকা। তিনি ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব কেবল ইসলাম ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নয়। অন্যায়-অবিচার, শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাঁর সফলতম অভিযান—এ শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। বস্তুত নবী-জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল শান্তির জন্য। মানবজাতির কল্যাণে। তিনি যা করেছেন, যা বলেছেন, তার সব কর্মকাণ্ডেই বিশ্বমানবতার মঙ্গল নিহিত।
হিলফুল ফুজুল শান্তি সংঘের সূচনা
৫৮৫ খ্রিষ্টাব্দ। মক্কাবাসীর বার্ষিক আনন্দ উৎসব উকাজ মেলা চলছে। মেলাকে কেন্দ্র করেই দুই গোত্রের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ। কুরাইশ ও হাওয়াজিন গোত্র একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ইতিহাস তাকে ‘হারবুল ফুজ্জার’ (অন্যায় সমর) নামে অভিহিত করেছে। নবীজি (সা.) তখন বালক। চৌদ্দ কি পনেরো বছর বয়স। তিনি ভাবতে থাকেন কীভাবে এই সংঘাত রোধ করা যায়! চলমান এ বিশৃঙ্খলার সমাধান বের করতে ব্যাকুল হয়ে পড়েন। ভেবেচিন্তে তিনি গ্রহণ করলেন যুগান্তকারী এক সিদ্ধান্ত। মক্কার যুবকদের একত্র করলেন। গঠন করলেন পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম সংগঠন—হিলফুল ফুজুল। এ সংগঠনের বিশেষ কয়েকটি নীতিমালা ছিল এমন—এক. দেশজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। দুই. চলমান এই যুদ্ধ (হারবুল ফুজ্জার) বন্ধ করা। তিন. সমাজের অন্যায় অবিচার রোধ করা। চার. অসহায়, দুর্বল ও এতিমদের সাহায্য করা। পাঁচ. বণিকদের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া। ছয়. সর্বোপরি সব ধরনের অন্যায় অবিচার রোধ করতে সর্বাত্মক প্রয়াস চালানো।
নবীজি (সা.) পরিকল্পনায় পরিপূর্ণ সফল হয়েছিলেন। বন্ধ হয়েছিল হারবুল ফুজ্জার নামক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। বিশেষ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে গঠিত হলেও এ শান্তি সংঘের স্থায়িত্ব ছিল প্রায় ৫০ বছর।
মদিনা সনদ এক আদর্শ রাষ্ট্রীয় সংবিধান
নবী করিম (সা.) মদিনায় হিজরতের পর সেখানকার বিবদমান দুই গোত্র, আউস ও খাজরাজ এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শান্তি ও ঐক্য স্থাপনের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়ন করেন, যা ইতিহাসে ‘মদিনা সনদ’ নামে পরিচিত। ৪৭ ধারার এই সনদে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। এর উল্লেখযোগ্য ধারাগুলো ছিল: সকল ধর্মের মানুষ তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে, মদিনার ওপর যেকোনো বহিরাগত আক্রমণ সবাই মিলে প্রতিহত করবে এবং ব্যক্তিগত অপরাধের জন্য কোনো গোত্রকে দায়ী করা হবে না। এই সনদ ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম লিখিত সংবিধান, যা ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছিল।
হুদাইবিয়ার সন্ধি আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিজয়
হুদাইবিয়ার সন্ধি ছিল নবীজি (সা.)-এর দূরদর্শিতার এক অনন্য উদাহরণ। ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে মুসলমানরা ওমরাহ পালনের জন্য মক্কার কাছে গেলে কুরাইশরা তাদের বাধা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে তিনি আপাতদৃষ্টিতে মুসলমানদের জন্য অসম কিছু শর্ত মেনে নিয়ে একটি সন্ধিচুক্তি করেন। সাহাবিরা এই সন্ধি নিয়ে শঙ্কিত হলেও হজরত মুহাম্মদ (সা.) কেবল শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির ফলে ১০ বছর যুদ্ধ বন্ধ থাকে, যা ইসলাম প্রচারের পথ খুলে দেয়। পবিত্র কোরআনে এই আপাত পরাজয়কে ‘প্রকাশ্য বিজয়’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ এই সন্ধিই মক্কা বিজয়ের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল।
মক্কা বিজয় প্রতিশোধের পরিবর্তে ক্ষমা
৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে কুরাইশদের চুক্তিভঙ্গের ফলে নবীজি ১০ হাজার সাহাবি নিয়ে মক্কা বিজয়ের জন্য যাত্রা করেন। দীর্ঘদিনের শত্রুদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি রক্তপাতহীন বিজয়ের পথ বেছে নেন। মক্কা বিজয়ের পর তিনি সেখানকার সকল বাসিন্দার জন্য সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা করেন। যে লোকজন তাঁকে জন্মভূমি ছাড়তে বাধ্য করেছিল, তাদের প্রতি এমন মহানুভবতা ও ক্ষমা ছিল এক নজিরবিহীন ঘটনা। এই শান্তিপূর্ণ বিজয় প্রমাণ করে, নবী করিম (সা.)-এর মূল লক্ষ্য ছিল প্রতিশোধ নয়, বরং শান্তি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠা।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর এই পদক্ষেপগুলো প্রমাণ করে যে তিনি কেবল একজন ধর্মীয় নেতা ছিলেন না, বরং একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক ও শান্তির অগ্রদূত ছিলেন। বর্তমান বিশ্বের সংঘাতময় পরিস্থিতিতে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করা গেলে শান্তি ও সম্প্রীতির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।
লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহ্ রাজাবাড়ী, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

সময়টা ৫৭১ খ্রিষ্টাব্দ। ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত পৃথিবী। মানবতার লেশমাত্র নেই কোথাও। দুর্বলেরা নিষ্পেষিত। সবলেরা সমাজের কর্ণধার। তরবারি যার শক্তিশালী, সে-ই গোত্রপতি। সভ্যতার ছিটেফোঁটাও নেই। কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়া যেন অমার্জনীয় অপরাধ। শাস্তি তাদের মাটিতে পুঁতে ফেলা। জীবন্ত মেয়েকে পুঁতে ফেলতে একটুও বিচলিত হয় না পাষণ্ড বাবার হৃদয়। মানুষের তৈরি প্রতিমা প্রভুত্বের আসনে সমাসীন। পায়ে তার মাথা ঠুকছে সবাই। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে শুরু হয় বাগ্বিতণ্ডা। সময়ের আবর্তে তা রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। সংঘাত চলে বছরের পর বছর। যুগটাকে বলা হয়—আইয়ামে জাহেলিয়া—মূর্খতা ও বর্বরতার যুগ।
এহেন পরিস্থিতিতে ধরায় এলেন এক মহামানব। মা আমেনার কোল আলোকিত করে। শান্তির পতাকা হাতে। সুখের বার্তা নিয়ে। হৃদয়টা তাঁর মানবতায় পরিপূর্ণ। সবার সুখে হাসেন। সবার দুঃখে পাশেও থাকেন। দুঃখ-সুখে সবার সমান অংশীদার তিনি। আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেন অকুণ্ঠ। দুর্বলদের পাশে দাঁড়ান। সদা সত্য কথা বলেন। আমানতের খেয়ানত করেন না। অঙ্গীকার পূরণ করেন। লোকজন তাঁকে একনামে চেনে। ‘আল আমিন’ খেতাবে ভূষিত করে। পবিত্র কোরআন তাঁকে ‘রহমাতুল্লিল আলামিন’ উপাধিতে আখ্যায়িত করেছে। (সুরা আম্বিয়া: ১০৭) নবী করিম (সা.)-এর জীবনের ধাপে ধাপে, প্রতিটি পদক্ষেপে, পরতে পরতে লুকিয়ে আছে শান্তির বার্তা। সুখময় সমাজ গঠনের দিকনির্দেশনা। বিশ্বমানবতার অনুপম আদর্শ তিনি শান্তির আলোকবর্তিকা। তিনি ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব কেবল ইসলাম ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নয়। অন্যায়-অবিচার, শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাঁর সফলতম অভিযান—এ শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। বস্তুত নবী-জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল শান্তির জন্য। মানবজাতির কল্যাণে। তিনি যা করেছেন, যা বলেছেন, তার সব কর্মকাণ্ডেই বিশ্বমানবতার মঙ্গল নিহিত।
হিলফুল ফুজুল শান্তি সংঘের সূচনা
৫৮৫ খ্রিষ্টাব্দ। মক্কাবাসীর বার্ষিক আনন্দ উৎসব উকাজ মেলা চলছে। মেলাকে কেন্দ্র করেই দুই গোত্রের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ। কুরাইশ ও হাওয়াজিন গোত্র একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ইতিহাস তাকে ‘হারবুল ফুজ্জার’ (অন্যায় সমর) নামে অভিহিত করেছে। নবীজি (সা.) তখন বালক। চৌদ্দ কি পনেরো বছর বয়স। তিনি ভাবতে থাকেন কীভাবে এই সংঘাত রোধ করা যায়! চলমান এ বিশৃঙ্খলার সমাধান বের করতে ব্যাকুল হয়ে পড়েন। ভেবেচিন্তে তিনি গ্রহণ করলেন যুগান্তকারী এক সিদ্ধান্ত। মক্কার যুবকদের একত্র করলেন। গঠন করলেন পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম সংগঠন—হিলফুল ফুজুল। এ সংগঠনের বিশেষ কয়েকটি নীতিমালা ছিল এমন—এক. দেশজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। দুই. চলমান এই যুদ্ধ (হারবুল ফুজ্জার) বন্ধ করা। তিন. সমাজের অন্যায় অবিচার রোধ করা। চার. অসহায়, দুর্বল ও এতিমদের সাহায্য করা। পাঁচ. বণিকদের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া। ছয়. সর্বোপরি সব ধরনের অন্যায় অবিচার রোধ করতে সর্বাত্মক প্রয়াস চালানো।
নবীজি (সা.) পরিকল্পনায় পরিপূর্ণ সফল হয়েছিলেন। বন্ধ হয়েছিল হারবুল ফুজ্জার নামক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। বিশেষ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে গঠিত হলেও এ শান্তি সংঘের স্থায়িত্ব ছিল প্রায় ৫০ বছর।
মদিনা সনদ এক আদর্শ রাষ্ট্রীয় সংবিধান
নবী করিম (সা.) মদিনায় হিজরতের পর সেখানকার বিবদমান দুই গোত্র, আউস ও খাজরাজ এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শান্তি ও ঐক্য স্থাপনের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়ন করেন, যা ইতিহাসে ‘মদিনা সনদ’ নামে পরিচিত। ৪৭ ধারার এই সনদে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। এর উল্লেখযোগ্য ধারাগুলো ছিল: সকল ধর্মের মানুষ তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে, মদিনার ওপর যেকোনো বহিরাগত আক্রমণ সবাই মিলে প্রতিহত করবে এবং ব্যক্তিগত অপরাধের জন্য কোনো গোত্রকে দায়ী করা হবে না। এই সনদ ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম লিখিত সংবিধান, যা ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছিল।
হুদাইবিয়ার সন্ধি আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিজয়
হুদাইবিয়ার সন্ধি ছিল নবীজি (সা.)-এর দূরদর্শিতার এক অনন্য উদাহরণ। ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে মুসলমানরা ওমরাহ পালনের জন্য মক্কার কাছে গেলে কুরাইশরা তাদের বাধা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে তিনি আপাতদৃষ্টিতে মুসলমানদের জন্য অসম কিছু শর্ত মেনে নিয়ে একটি সন্ধিচুক্তি করেন। সাহাবিরা এই সন্ধি নিয়ে শঙ্কিত হলেও হজরত মুহাম্মদ (সা.) কেবল শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির ফলে ১০ বছর যুদ্ধ বন্ধ থাকে, যা ইসলাম প্রচারের পথ খুলে দেয়। পবিত্র কোরআনে এই আপাত পরাজয়কে ‘প্রকাশ্য বিজয়’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ এই সন্ধিই মক্কা বিজয়ের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল।
মক্কা বিজয় প্রতিশোধের পরিবর্তে ক্ষমা
৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে কুরাইশদের চুক্তিভঙ্গের ফলে নবীজি ১০ হাজার সাহাবি নিয়ে মক্কা বিজয়ের জন্য যাত্রা করেন। দীর্ঘদিনের শত্রুদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি রক্তপাতহীন বিজয়ের পথ বেছে নেন। মক্কা বিজয়ের পর তিনি সেখানকার সকল বাসিন্দার জন্য সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা করেন। যে লোকজন তাঁকে জন্মভূমি ছাড়তে বাধ্য করেছিল, তাদের প্রতি এমন মহানুভবতা ও ক্ষমা ছিল এক নজিরবিহীন ঘটনা। এই শান্তিপূর্ণ বিজয় প্রমাণ করে, নবী করিম (সা.)-এর মূল লক্ষ্য ছিল প্রতিশোধ নয়, বরং শান্তি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠা।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর এই পদক্ষেপগুলো প্রমাণ করে যে তিনি কেবল একজন ধর্মীয় নেতা ছিলেন না, বরং একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক ও শান্তির অগ্রদূত ছিলেন। বর্তমান বিশ্বের সংঘাতময় পরিস্থিতিতে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করা গেলে শান্তি ও সম্প্রীতির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।
লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহ্ রাজাবাড়ী, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

হাদিসে এমন কিছু সৌভাগ্যবান মানুষের কথা এসেছে, যাদের জন্য আল্লাহর ফেরেশতারা দোয়া করেন। তাঁরা দোয়া করেন ক্ষমা, রহমত, হিদায়াত ও জান্নাতের জন্য। কারা সেই মানুষ, কোন আমলগুলো করলে একজন বান্দা এই মর্যাদায় পৌঁছাতে পারে?
৫ ঘণ্টা আগে
নামাজ আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি যেমন আমাদের দৈহিক পবিত্রতা নিশ্চিত করে, তেমনই আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। আজকের এই নামাজের সময়সূচি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবনের ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, আল্লাহর জন্য সময় বের করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব।
১২ ঘণ্টা আগে
গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগতীরে দোয়ার মাধ্যমে শেষ হয়েছে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ি নেজামের অধীনে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী খুরুজের জোড়। সকালে ঢাকা, গাজীপুরসহ আশপাশের জেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নামে ইজতেমা ময়দানে। দোয়ায় অংশ নেন প্রায় ৭২টি দেশ থেকে ২ হাজার ৫০০ বিদেশি মেহমান ও বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ...
২১ ঘণ্টা আগে
অজু দৈনন্দিন জীবনে একাধিকবার ফিরে আসা এক পবিত্র চর্চা। যাঁরা অজুকে গুরুত্ব দেন, নিয়মিত অজু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করেন, তাঁদের জন্য রয়েছে দুনিয়ায় শান্তি ও আখিরাতে মুক্তির প্রতিশ্রুতি। অজু নামাজের পূর্বশর্ত। এটি শুধু শরীর ধোয়ার একটি প্রক্রিয়া নয়, বরং আত্মিক ও শারীরিক পবিত্রতার সম্মিলিত একটি প্রতীক।
১ দিন আগে