
প্রশ্ন: কারও সঙ্গে দেখা হলে অনেক সময় দেখা যায়, দুজনেই একসঙ্গে সালাম দিয়ে ফেলি? এ ক্ষেত্রে কার সালাম গ্রহণ করা হবে এবং কে উত্তর দেবে? এ বিষয়ে ইসলামের বিধান জানালে উপকৃত হবো।
কৌশিক ইসলাম, ধানমন্ডি, ঢাকা।
উত্তর: আপনার প্রশ্নটি খুবই বাস্তবসম্মত এবং দৈনন্দিন জীবনে বহুবার সম্মুখীন হওয়া একটি বিষয়। ইসলামে সালাম হলো শান্তির অভিবাদন, যা মুসলমানদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভালোবাসা ও ইমান বৃদ্ধি করে। সালাম দেওয়া সুন্নত হলেও এর জবাব দেওয়া ওয়াজিব। এই প্রেক্ষাপটে, দুজন ব্যক্তি যদি একই সময়ে একে অপরকে সালাম দেন, তাহলে ইসলামি শরিয়তে এর সমাধান নিম্নরূপ:
১. যদি দুজন একসঙ্গে সালাম দেন: যদি দুজন ব্যক্তি প্রায় একই মুহূর্তে বা একসঙ্গে একে অপরকে সালাম দেন (অর্থাৎ আগে-পরে হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট না হয়), তবে ইসলামি আইন ও ফিকাহ শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যেকের ওপর একে অপরের সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব বা আবশ্যক হবে। অর্থাৎ যেহেতু উভয়ই প্রাথমিক অবস্থায় সালাম দিয়েছেন, তাই প্রত্যেকেই তাঁর সঙ্গীর সালামের জবাব দেওয়ার দায়িত্ব বহন করবেন। প্রত্যেকেই তাঁর সঙ্গীর সালামের উত্তর ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম, ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ’ বলে দেবেন। এটি সালামের ওয়াজিব হক আদায় করার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়।
২. যদি সালাম আগে-পরে হয়ে যায়: যদি দেখা যায় যে, সালাম দেওয়ার ক্ষেত্রে সামান্য আগে-পরে হয়ে গেছে (যদিও মনে হচ্ছে একসঙ্গে দেওয়া হয়েছে), তাহলে বিধানটি ভিন্ন হবে। এ ক্ষেত্রে পরবর্তী সালামটি পূর্ববর্তী সালামের জবাব হিসেবে গণ্য হবে। উদাহরণস্বরূপ, ব্যক্তি ‘ক’ প্রথমে সালাম দিলেন এবং মুহূর্তের মধ্যে ব্যক্তি ‘খ’ও সালাম দিলেন। এক্ষেত্রে ‘খ’-এর দেওয়া সালামটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ক’-এর সালামের জবাব হিসেবে ধর্তব্য হয়ে যাবে। তাই এই দ্বিতীয় ক্ষেত্রে (আগে-পরে হলে) পরবর্তী সময়ে কারও জন্যই পুনরায় জবাব দেওয়া আবশ্যক হবে না।
তবে প্রথম ক্ষেত্রে যদি নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় যে দুজনই প্রায় একযোগে দিয়েছেন, তখন প্রত্যেকে উত্তর দেওয়া উত্তম ও ওয়াজিব।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
সালামের এই গুরুত্বপূর্ণ আমলটির ক্ষেত্রে আরও কিছু বিষয় মনে রাখা ভালো:
সুতরাং, আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়—একসঙ্গে দুজনই সালাম দিলে প্রত্যেককেই তাঁর সঙ্গীর সালামের জবাব দিতে হবে, যেন সালামের ওয়াজিব হক আদায় হয়।
উত্তর দিয়েছেন: মুফতি শাব্বির আহমদ, ইসলামবিষয়ক গবেষক

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনকারীর জন্য থাকছে পবিত্র ওমরাহ পালনের সুবর্ণ সুযোগ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীর জন্য রয়েছে যথাক্রমে একটি ডেস্কটপ ও একটি ল্যাপটপ। এ ছাড়া সেরা ১০ বিজয়ীর হাতে তুলে দেওয়া হবে বিশেষ স্মারক ও পুরস্কার।
৩ ঘণ্টা আগে
বিদায় হজ সেরে মদিনায় ফেরার পর থেকেই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র কথা ও আচরণে এক বিদায়ী সুর ফুটে উঠছিল। শরিয়তের পূর্ণতায় বিধান নাজিল হলো, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম।’ (সুরা মায়িদা: ৩)। গভীর প্রজ্ঞাসম্পন্ন সাহাবিগণ মহানবী...
৪ ঘণ্টা আগে
পবিত্র ধূলির ধরণিতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বরকতময় আগমন থেকে শুরু করে মহান রবের পানে প্রস্থান—সুদীর্ঘ এই পুরো জীবনপরিক্রমায় যে কয়জন ধন্য মানুষ তাঁকে সবচেয়ে কাছ থেকে দেখার ও পরম মায়ায় আগলে রাখার সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন, তাঁদের অনন্য উচ্চতায় হজরত উম্মে আইমান (রা.)।
৪ ঘণ্টা আগে
‘দায়েমি’ শব্দের শাব্দিক অর্থ নিরবচ্ছিন্ন, চিরন্তন, সার্বক্ষণিক বা সর্বদা পালনীয়। সাধারণ সামাজিক বা ব্যক্তিগত জীবনে এমন কিছু বিধান রয়েছে, যেগুলো নির্দিষ্ট কোনো সময় বা ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে পালন করা আবশ্যক।
৪ ঘণ্টা আগে