
দরজায় কড়া নাড়ছে কোরবানির ঈদ। এই ঈদের অন্যতম ইবাদত পশু কোরবানি করা—তাই পশু কিনতে ভিড় বাড়ছে হাটমুখী মানুষের। কোরবানির পশুর বিধান হলো, তা যদি এই পরিমাণ ল্যাংড়া হয় যে, জবাই করার স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে অক্ষম—তাহলে সেই পশু দিয়ে কোরবানি শুদ্ধ হবে না।
হাট থেকে পশু কিনে বাড়ি আনার সময় ধ্বস্তাধ্বস্তি বা অন্য কোনো কারণে কখনো যদি পশুর পা ভেঙে যায়—সেই পশু দিয়ে কি কোরবানি শুদ্ধ হবে?
ইসলামবিষয়ক গবেষকদের মতে, হাট থেকে আনার সময় কোরবানির পশুর পা ভেঙে যাওয়ার পর ওই পশু যদি এক পা খুড়ায় এবং ভাঙা পা মাটিতে লাগিয়ে হাটে—তাহলে উক্ত পশু দিয়ে কোরবানি করা শুদ্ধ হবে। যদিও সেই পায়ে পূর্ণ ভর না দেয়।
আর যদি ওই পশু তিন পায়ের ওপর ভর দিয়ে চলে এবং আক্রান্ত পা মাটিতে ফেলতে না পারে, বরং মাটি থেকে উঠিয়ে চলে—তবে সে পশু দিয়ে কোরবানি করা শুদ্ধ হবে না।
তবে কোরবানির জন্য পশু মাটিতে শোয়ানোর সময় ধস্তাধস্তির কারণে যদি পা ভেঙে যায়, তাহলে সে পশু দিয়ে কোরবানি করা শুদ্ধ হবে।
সতর্কতার বিষয় হলো, পশুকে কখনোই অহেতুক কষ্ট দেওয়া যাবে না। যথেষ্ট পরিমাণ মানুষ মিলে সতর্কতার সঙ্গে পশু মাটিতে শোয়াতে হবে। এবং ধারালো ছুরি দিয়ে দ্রুত জবাই করতে হবে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ সব জিনিস উত্তম পদ্ধতিতে করার বিধান দিয়েছেন। সুতরাং যখন তুমি জবাই করবে, তখন উত্তম পদ্ধতিতে জবাই করবে। জবাইয়ের বস্তু ভালোভাবে ধার দিয়ে নেবে আর পশুটিকে স্বাভাবিকভাবে প্রাণ বের হওয়ার সুযোগ দেবে। (সহিহ্ মুসলিম: ১৯৫৫)।
অন্য হাদিসে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (কোরবানির আগে) ছুরি ধারালো করতে এবং তা পশুর দৃষ্টির অগোচরে রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। তোমাদের কেউ জবাই করার সময় যেন তা দ্রুত সম্পন্ন করে (যাতে পশু অধিক পরিমাণে কষ্ট না পায়)। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩১৭২)
তথ্য সূত্র: সুনানুল কুবরা লিল বাইহাকি: ১৯৬৪, জামে তিরমিজি: ১৫৩৯, বাহরুর রায়েক: ৮ / ১৭৭, মাজমাউল আনহুর: ৪ / ১৭১ ও ১৭৩, দুররুল মুখতার: ৬ / ৩২৫ ও ৯ / ৪২৮, ফাতাওয়া কাসিমিয়া: ২২ / ৪৩২-৪৩৩, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া: ২৬ / ৩০০, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫ / ৯২৭, রদ্দুল মুহতার: ৯ / ৪৬৮, তাতারখানিয়া: ১৭ / ৪২৬
আরও পড়ুন:

পরীক্ষা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। মেধা ও যোগ্যতা যাচাইয়ের এই মাধ্যমটি যেমন পরিশ্রমের দাবি রাখে, তেমনি প্রয়োজন মানসিক স্থিরতা। ইসলামে সফলতার মূলমন্ত্র হলো—প্রথমে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা বা পরিশ্রম করা এবং এরপর ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা।
৩ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৬ ঘণ্টা আগে
মুমিন জীবনের প্রতিটি সুখ-দুঃখ, অর্জন এবং আনন্দের মুহূর্তজুড়ে রয়েছে একটি শব্দ—আলহামদুলিল্লাহ। মহান আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এটি শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। পবিত্র কোরআনের শুরুই হয়েছে এই মহিমান্বিত শব্দ দিয়ে।
৮ ঘণ্টা আগে
রাসুলুল্লাহ (সা.) সকাল এবং সন্ধ্যায় এমন কিছু বিশেষ জিকির ও দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন, যা পাঠ করলে সারা দিনের নিরাপত্তা ও বরকতই লাভের পাশাপাশি আখিরাতের কঠিন সময়েও তা মুক্তির মাধ্যম হবে।
১ দিন আগে