
ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞান, বিশেষ করে হাদিস শাস্ত্র এবং সমকালীন ফিতনা দমনে যে কজন আলেম বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন হজরত মাওলানা ইউসুফ বিন্নুরি (রহ.)। তিনি ছিলেন একাধারে প্রখ্যাত মুহাদ্দিস, গবেষক এবং আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি (রহ.)-এর সুযোগ্য উত্তরসূরি।
মাওলানা ইউসুফ বিন্নুরি (রহ.) ১৩২৬ হিজরির ৬ রবিউস সানি পেশোয়ারের এক সম্ভ্রান্ত সাইয়িদ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সাইয়িদ মুহাম্মদ জাকারিয়া ছিলেন একজন প্রখ্যাত বুজুর্গ আলেম। জন্মের কিছুকাল পরেই মাতৃহীন হওয়ায় তিনি তাঁর ফুফুর কাছে লালিত-পালিত হন। তাঁর নামের শেষে ‘বিন্নুরি’ শব্দটি মূলত তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ‘বিন্নুর’ থেকে এসেছে।
প্রাথমিক শিক্ষা নিজ পরিবারে শেষ করার পর তিনি উচ্চতর শিক্ষার জন্য বিশ্বখ্যাত বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি হন। ১৩৪৫ হিজরিতে যখন তাঁর প্রিয় উস্তাদ আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি (রহ.) ও আল্লামা শাব্বির আহমাদ উসমানি (রহ.) দেওবন্দ ছেড়ে ডাবেল চলে যান, তিনিও উস্তাদদের অনুগামী হয়ে ডাবেল মাদ্রাসায় চলে যান। সেখানে তিনি দাওরায়ে হাদিসে প্রথম স্থান অধিকার করেন।
আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি (রহ.)-এর প্রিয়তম ছাত্র ও খাদেম ছিলেন ইউসুফ বিন্নুরি। উস্তাদের ইলমি গভীরতা ও আধ্যাত্মিকতা তিনি পুরোপুরি নিজের মধ্যে ধারণ করেছিলেন। আল্লামা কাশ্মীরির ইন্তেকালের পর তিনি ডাবেল মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস নিযুক্ত হন।
হাদিস শাস্ত্রে তাঁর পাণ্ডিত্যের প্রমাণ হলো জামে তিরমিজির অনন্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘মাআরিফুস সুনান’। এই কিতাবটি সারা বিশ্বের ইলমি মহলে অত্যন্ত সমাদৃত।
তিনি কেবল উপমহাদেশে সীমাবদ্ধ ছিলেন না। মিসর, সৌদি আরব, সিরিয়া, জর্ডান, লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সফর করে আকাবিরে দেওবন্দের সঠিক আকিদা ও চিন্তাচেতনা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেন। তাঁর সাবলীল আরবি লেখনী আরব বিশ্বের পত্রপত্রিকায় গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হতো।
১৩৯৮ হিজরিতে পাকিস্তান সরকারের ইসলামি উপদেষ্টা কাউন্সিলের অধিবেশনে যোগ দিতে ইসলামাবাদে থাকাকালে তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন এবং শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। করাচির নিউ টাউনে এই মহান মনীষীকে দাফন করা হয়।

মুমিনের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত হলো প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা। এটি এমন এক আমল, যা সরাসরি কোরআনের নির্দেশ এবং অসংখ্য সহিহ হাদিসে এর ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পাঠ করেন।
৫ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৯ ঘণ্টা আগে
মানবজীবনে জীবনসঙ্গীর প্রভাব অপরিসীম। একজন ভালো সঙ্গী মানুষকে আলোর পথে চালিত করে, আর মন্দ সঙ্গী জীবনকে বিপথগামী করে তোলে। সারা দিনের ক্লান্তি শেষে ঘরে ফিরে সঙ্গীর একটু সহমর্মিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ দেহ-মনকে প্রফুল্ল করে তোলে, মানুষকে নতুন উদ্যমে বাঁচার প্রেরণা জোগায়।
১ দিন আগে
মহানবী মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাচনশৈলীর অধিকারী। তাঁর কথা বলার ধরন ও শব্দ চয়ন ছিল এতটাই মনোমুগ্ধকর, যা শ্রোতার হৃদয়ে সরাসরি রেখাপাত করত। তাঁর সুমিষ্ট বাণী মানুষকে সত্যের পথে আকর্ষিত করত।
১ দিন আগে