মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

মহান আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি ক্ষমা করাকে ভালোবাসেন। যারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে তাঁর কাছে ফিরে আসে, তিনি তাদের পরম আদরে গ্রহণ করেন। আল্লাহ চান, বান্দা তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে হাত তুলুক। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল।’ (সুরা নুহ: ১০)
অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘অতঃপর তোমার রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করো এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো।’ (সুরা নাসর: ৩)। বিশ্বনবী (সা.) নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ বার তওবা ও ইস্তিগফার করতেন। এটি কেবল পাপমোচনের মাধ্যম নয়, বরং আল্লাহর কাছে মর্যাদা বৃদ্ধিরও একটি অনন্য উপায়।
তওবার গুরুত্ব
তওবা শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো—ফিরে আসা। অর্থাৎ ভুল ও পাপের পথ ছেড়ে সঠিক পথে প্রত্যাবর্তন করা। মানুষমাত্রই ভুল ও পাপের অনুগামী হতে পারে। কিন্তু সেই পাপ থেকে শিক্ষা নিয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসাই হলো প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘পাপীদের মধ্যে তারাই শ্রেষ্ঠ, যারা পাপ করার পর তওবা করে।’ অন্য এক হাদিসে এসেছে, ‘পাপ থেকে তওবাকারী ব্যক্তি সেই ব্যক্তির মতো, যার কোনো পাপই নেই।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ)
তওবার অবারিত সুযোগ
তওবার দরজা ততক্ষণ খোলা থাকবে, যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হয় অথবা মানুষের মৃত্যু উপস্থিত হয়। আবু মুসা আশআরি (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করীম (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা রাতে তাঁর হাত প্রসারিত করেন, যেন দিনে পাপকারী তওবা করতে পারে এবং দিনে তাঁর হাত প্রসারিত করেন, যেন রাতে পাপকারী তওবা করে।’ (সহিহ্ মুসলিম)
তবে মনে রাখতে হবে, সুরা নিসার ১৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ সতর্ক করেছেন যে, মৃত্যু যখন একেবারে নিকটবর্তী হয়ে যায়, তখন তওবা কবুল হওয়ার আর অবকাশ থাকে না।
আল্লাহর আনন্দ ও রহমতের ব্যাপ্তি
বান্দার তওবায় আল্লাহ কতটা খুশি হন, তা রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি সুন্দর উদাহরণের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমাদের কেউ মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া উট ফিরে পেয়ে যতটা খুশি হয়, আল্লাহ তাআলা বান্দার তওবায় তারচেয়েও অনেক বেশি খুশি হন।’ (সহিহ্ বুখারি: ৬৩০৯)
গুনাহ যদি আকাশের সমানও হয়, তবু আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা জুমার: ৫৩)
বান্দার হক ও সতর্কতা
তওবা কবুল হওয়ার জন্য একটি বিশেষ শর্ত হলো—যদি পাপটি মানুষের হকের (অধিকার) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে আগে সেই ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে অথবা তার পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে। মানুষের হক নষ্ট করে কেবল আল্লাহর কাছে তওবা করলে সেই তওবা পূর্ণাঙ্গ হয় না।
বিপদ যেমন আল্লাহ দেন, তা দূর করার ক্ষমতাও কেবল তাঁরই। জীবনভর মুমিন বান্দা তওবা ও ইস্তিগফারের মধ্যেই কাটায়। কারণ, চলতে-ফিরতে আমাদের অজান্তেই অনেক গুনাহ হয়ে যায়। তওবা কেবল গুনাহই মাফ করে না, বরং এটি অন্তরে প্রশান্তি আনে এবং বিপদ থেকে মুক্তির পথ প্রশস্ত করে। আমাদের হৃদয়ের গভীরে যেন এই বিশ্বাস অটল থাকে যে—আল্লাহই একমাত্র উদ্ধারকারী।

মহান আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি ক্ষমা করাকে ভালোবাসেন। যারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে তাঁর কাছে ফিরে আসে, তিনি তাদের পরম আদরে গ্রহণ করেন। আল্লাহ চান, বান্দা তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে হাত তুলুক। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল।’ (সুরা নুহ: ১০)
অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘অতঃপর তোমার রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করো এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো।’ (সুরা নাসর: ৩)। বিশ্বনবী (সা.) নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ বার তওবা ও ইস্তিগফার করতেন। এটি কেবল পাপমোচনের মাধ্যম নয়, বরং আল্লাহর কাছে মর্যাদা বৃদ্ধিরও একটি অনন্য উপায়।
তওবার গুরুত্ব
তওবা শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো—ফিরে আসা। অর্থাৎ ভুল ও পাপের পথ ছেড়ে সঠিক পথে প্রত্যাবর্তন করা। মানুষমাত্রই ভুল ও পাপের অনুগামী হতে পারে। কিন্তু সেই পাপ থেকে শিক্ষা নিয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসাই হলো প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘পাপীদের মধ্যে তারাই শ্রেষ্ঠ, যারা পাপ করার পর তওবা করে।’ অন্য এক হাদিসে এসেছে, ‘পাপ থেকে তওবাকারী ব্যক্তি সেই ব্যক্তির মতো, যার কোনো পাপই নেই।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ)
তওবার অবারিত সুযোগ
তওবার দরজা ততক্ষণ খোলা থাকবে, যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হয় অথবা মানুষের মৃত্যু উপস্থিত হয়। আবু মুসা আশআরি (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করীম (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা রাতে তাঁর হাত প্রসারিত করেন, যেন দিনে পাপকারী তওবা করতে পারে এবং দিনে তাঁর হাত প্রসারিত করেন, যেন রাতে পাপকারী তওবা করে।’ (সহিহ্ মুসলিম)
তবে মনে রাখতে হবে, সুরা নিসার ১৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ সতর্ক করেছেন যে, মৃত্যু যখন একেবারে নিকটবর্তী হয়ে যায়, তখন তওবা কবুল হওয়ার আর অবকাশ থাকে না।
আল্লাহর আনন্দ ও রহমতের ব্যাপ্তি
বান্দার তওবায় আল্লাহ কতটা খুশি হন, তা রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি সুন্দর উদাহরণের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমাদের কেউ মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া উট ফিরে পেয়ে যতটা খুশি হয়, আল্লাহ তাআলা বান্দার তওবায় তারচেয়েও অনেক বেশি খুশি হন।’ (সহিহ্ বুখারি: ৬৩০৯)
গুনাহ যদি আকাশের সমানও হয়, তবু আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা জুমার: ৫৩)
বান্দার হক ও সতর্কতা
তওবা কবুল হওয়ার জন্য একটি বিশেষ শর্ত হলো—যদি পাপটি মানুষের হকের (অধিকার) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে আগে সেই ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে অথবা তার পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে। মানুষের হক নষ্ট করে কেবল আল্লাহর কাছে তওবা করলে সেই তওবা পূর্ণাঙ্গ হয় না।
বিপদ যেমন আল্লাহ দেন, তা দূর করার ক্ষমতাও কেবল তাঁরই। জীবনভর মুমিন বান্দা তওবা ও ইস্তিগফারের মধ্যেই কাটায়। কারণ, চলতে-ফিরতে আমাদের অজান্তেই অনেক গুনাহ হয়ে যায়। তওবা কেবল গুনাহই মাফ করে না, বরং এটি অন্তরে প্রশান্তি আনে এবং বিপদ থেকে মুক্তির পথ প্রশস্ত করে। আমাদের হৃদয়ের গভীরে যেন এই বিশ্বাস অটল থাকে যে—আল্লাহই একমাত্র উদ্ধারকারী।

মানবসভ্যতার ইতিহাসে ইসলাম একমাত্র ধর্ম, যা জ্ঞান অর্জনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে। মহান আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টি করে তাকে অন্যান্য সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন মূলত জ্ঞানের মাধ্যমেই। ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই জ্ঞান চর্চাকে ইমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
১৫ ঘণ্টা আগে
নামাজ আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি যেমন আমাদের দৈহিক পবিত্রতা নিশ্চিত করে, তেমনই আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। আজকের এই নামাজের সময়সূচি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবনের ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, আল্লাহর জন্য সময় বের করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব।
২১ ঘণ্টা আগে
মাদ্রাসার বার্ষিক পরীক্ষার এক সপ্তাহ বাকি। বেফাকের অধীনে কওমি মাদ্রাসার ৪৯তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষা শুরু হবে ১৭ জানুয়ারি। বার্ষিক পরীক্ষার এক মাস থেকে ২০ দিন আগে ক্লাস শেষ করে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা নিজস্ব রুটিনে পড়াশোনা করে। মাদ্রাসায় এই সময়কে খেয়ার বলা হয়।
১ দিন আগে
ইসলামের ইতিহাসে সাহাবিরা হলেন নবীজি (সা.)-এর নুরানি পরশ পাওয়া অনন্য জামাত। তাঁরা ছিলেন নবীজির সহচর। ইসলামের সুমহান সত্য প্রচারে নিজেদের জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করেছিলেন তাঁরা। সাহাবিদের জীবন আমাদের জন্য হিদায়াতের আলোকবর্তিকা এবং চিরন্তন অনুপ্রেরণার উৎস।
১ দিন আগে