Ajker Patrika

আপনার জিজ্ঞাসা

জীবদ্দশায় নিজের কবরের জায়গা নির্ধারণ করা কি জায়েজ?

মুফতি হাসান আরিফ
জীবদ্দশায় নিজের কবরের জায়গা নির্ধারণ করা কি জায়েজ?
ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: অনেকেই জীবিত থাকা অবস্থায় মৃত্যু-পরবর্তী দাফনের জন্য স্থান বেছে নিতে চান। কেউ পারিবারিক কবরস্থানে বা নিজের মালিকানাধীন জমিতে নিজের কবরের জায়গা নির্দিষ্ট করে রাখেন, আবার কেউ সাধারণ কবরস্থানে আগে থেকেই জায়গা কিনে রাখতে চান কিংবা টাকা দিয়ে কিনে রাখার অসিয়ত করেন। ইসলামের দৃষ্টিতে জীবদ্দশায় এভাবে নিজের কবরের জায়গা নির্ধারণ করে রাখা বা কিনে রাখা কি জায়েজ?

আফজাল হোসেন, বনানী, ঢাকা

উত্তর: ইসলামের দৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তি জীবিত থাকা অবস্থায় নিজের মালিকানাধীন বা ব্যক্তিগত জায়গায় কবরের স্থান নির্ধারণ করে রাখা কিংবা কবরের জায়গা কিনে রাখা এবং সেখানে দাফন করার জন্য অসিয়ত করা পুরোপুরি জায়েজ। তবে সাধারণ জনসাধারণের জন্য সংরক্ষিত কিংবা ওয়াক্ফ করা কবরস্থানে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য আগে থেকেই জায়গা নির্ধারণ বা বুক করে রাখা জায়েজ নেই।

মনে রাখার বিষয় হলো, মৃত্যুর পর পরকালীন জীবনের প্রথম মঞ্জিল হলো কবর। তাই জায়গা নির্ধারণের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য ইমান ও নেক আমলের প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

নিজের মালিকানাধীন জায়গার ক্ষেত্রে বিধান

যদি জায়গাটি নিজস্ব মালিকানাধীন হয়, তবে সেখানে জীবিত অবস্থায় নিজের কবরের স্থান নির্ধারণ করে রাখা বা জায়গা কিনে রাখা বৈধ। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে সরাসরি এভাবে জায়গা নির্ধারণ করার নির্দিষ্ট বর্ণনা না থাকলেও সাহাবি ও তাবেয়িদের আমল থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

সাহাবি ও তাবেয়িদের আমল

হজরত উসমান (রা.), হজরত আয়েশা (রা.) এবং তাবেয়ি খলিফা হজরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) নিজের দাফনের স্থানের বিষয়ে অসিয়ত করেছিলেন। (আল-মুগনি: ৩/৪৪৩)। এ ছাড়া ইতিহাস থেকে সাব্যস্ত আছে যে, হজরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) মৃত্যুর আগে ১০ অথবা ২০ দিনার দিয়ে নিজের কবরের জন্য জায়গা কিনে রেখেছিলেন। (সিরাতে ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ: ৯৯, সিয়ারু আলামিন নুবালা: ৫/১৪৪)

ওয়াক্‌ফকৃত জনসাধারণের কবরস্থানের ক্ষেত্রে বিধান

আমাদের দেশের অধিকাংশ সাধারণ কবরস্থানই সামাজিক বা ওয়াক্ফ করা জমি। শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো জমি সাধারণ কবরস্থানের জন্য ওয়াক্ফ করে দেওয়া হয়, তবে সেখানে কোনো বিশেষ ব্যক্তির জন্য আগে থেকেই জায়গা নির্ধারণ বা রিজার্ভ করে রাখা বা নামফলক দিয়ে রাখা অনুচিত ও নাজায়েজ। কারণ, ওয়াক্ফ করার পর সেই জমিতে সাধারণ মুসলিমদের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। সেখানে কাউকে অগ্রাধিকার দিয়ে জায়গা আটকে রাখা সাধারণ মানুষের অধিকারে হস্তক্ষেপ করার শামিল।

মূল কথা হলো, নিজের কেনা বা ব্যক্তিগত জমিতে জীবিত অবস্থায় কবরের জায়গা নির্ধারণ করায় বাধা নেই; কিন্তু ওয়াক্ফ করা পাবলিক কবরস্থানে আগাম জায়গা বুক করে রাখা শরিয়তসম্মত নয়।

উত্তর দিয়েছেন, মুফতি হাসান আরিফ, ইসলামবিষয়ক গবেষক

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত