প্রশ্ন: অনেকেই জীবিত থাকা অবস্থায় মৃত্যু-পরবর্তী দাফনের জন্য স্থান বেছে নিতে চান। কেউ পারিবারিক কবরস্থানে বা নিজের মালিকানাধীন জমিতে নিজের কবরের জায়গা নির্দিষ্ট করে রাখেন, আবার কেউ সাধারণ কবরস্থানে আগে থেকেই জায়গা কিনে রাখতে চান কিংবা টাকা দিয়ে কিনে রাখার অসিয়ত করেন। ইসলামের দৃষ্টিতে জীবদ্দশায় এভাবে নিজের কবরের জায়গা নির্ধারণ করে রাখা বা কিনে রাখা কি জায়েজ?
আফজাল হোসেন, বনানী, ঢাকা
উত্তর: ইসলামের দৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তি জীবিত থাকা অবস্থায় নিজের মালিকানাধীন বা ব্যক্তিগত জায়গায় কবরের স্থান নির্ধারণ করে রাখা কিংবা কবরের জায়গা কিনে রাখা এবং সেখানে দাফন করার জন্য অসিয়ত করা পুরোপুরি জায়েজ। তবে সাধারণ জনসাধারণের জন্য সংরক্ষিত কিংবা ওয়াক্ফ করা কবরস্থানে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য আগে থেকেই জায়গা নির্ধারণ বা বুক করে রাখা জায়েজ নেই।
মনে রাখার বিষয় হলো, মৃত্যুর পর পরকালীন জীবনের প্রথম মঞ্জিল হলো কবর। তাই জায়গা নির্ধারণের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য ইমান ও নেক আমলের প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
যদি জায়গাটি নিজস্ব মালিকানাধীন হয়, তবে সেখানে জীবিত অবস্থায় নিজের কবরের স্থান নির্ধারণ করে রাখা বা জায়গা কিনে রাখা বৈধ। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে সরাসরি এভাবে জায়গা নির্ধারণ করার নির্দিষ্ট বর্ণনা না থাকলেও সাহাবি ও তাবেয়িদের আমল থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।
হজরত উসমান (রা.), হজরত আয়েশা (রা.) এবং তাবেয়ি খলিফা হজরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) নিজের দাফনের স্থানের বিষয়ে অসিয়ত করেছিলেন। (আল-মুগনি: ৩/৪৪৩)। এ ছাড়া ইতিহাস থেকে সাব্যস্ত আছে যে, হজরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) মৃত্যুর আগে ১০ অথবা ২০ দিনার দিয়ে নিজের কবরের জন্য জায়গা কিনে রেখেছিলেন। (সিরাতে ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ: ৯৯, সিয়ারু আলামিন নুবালা: ৫/১৪৪)
আমাদের দেশের অধিকাংশ সাধারণ কবরস্থানই সামাজিক বা ওয়াক্ফ করা জমি। শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো জমি সাধারণ কবরস্থানের জন্য ওয়াক্ফ করে দেওয়া হয়, তবে সেখানে কোনো বিশেষ ব্যক্তির জন্য আগে থেকেই জায়গা নির্ধারণ বা রিজার্ভ করে রাখা বা নামফলক দিয়ে রাখা অনুচিত ও নাজায়েজ। কারণ, ওয়াক্ফ করার পর সেই জমিতে সাধারণ মুসলিমদের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। সেখানে কাউকে অগ্রাধিকার দিয়ে জায়গা আটকে রাখা সাধারণ মানুষের অধিকারে হস্তক্ষেপ করার শামিল।
মূল কথা হলো, নিজের কেনা বা ব্যক্তিগত জমিতে জীবিত অবস্থায় কবরের জায়গা নির্ধারণ করায় বাধা নেই; কিন্তু ওয়াক্ফ করা পাবলিক কবরস্থানে আগাম জায়গা বুক করে রাখা শরিয়তসম্মত নয়।
উত্তর দিয়েছেন, মুফতি হাসান আরিফ, ইসলামবিষয়ক গবেষক

মানুষের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক স্বস্তি এবং অধিকার নিশ্চিত হওয়ার মধ্যেই একটি দেশের প্রকৃত স্থিতি নিহিত। শাসকের হাতে রাষ্ট্রের ক্ষমতা যেমন আমানত, তেমনি জনগণের অধিকার নিশ্চিত করাও তার দায়িত্ব। শাসনব্যবস্থাকে ন্যায়বিচার ও আমানত হিসেবে বিবেচনা করেছে ইসলাম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ
১৬ মিনিট আগে
মদিনা তাইয়িবা—পুণ্যভূমির অলিগলিতে জড়িয়ে আছে ইসলামের আদি যুগের কত-না অজানা ঐতিহ্য ও শিহরণজাগানিয়া ইতিহাস। সাহাবায়ে কেরামের ত্যাগ, আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর অমলিন সুন্নাহ এবং নবুওয়াতের প্রদীপ্ত অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী হয়ে আজও মদিনার বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে অনেক ঐতিহাসিক মসজিদ।
২ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৭ ঘণ্টা আগে
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে চলছে মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলা। ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত মেলার বিভিন্ন বইয়ে ১০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
১৬ ঘণ্টা আগে