ইট-পাথরের দেয়ালের নিচে লুকিয়ে থাকে শতাব্দীর প্রাচীন ইতিহাস। একটি প্রাচীন স্থাপনা নিছক ইট-পাথরের গাঁথুনি নয়, সময়ের জীবন্ত দলিল। এই ফিচারে আমরা একটি প্রাচীন স্থাপনা নিয়ে জানব; যার নাম খেরুয়া মসজিদ। মসজিদটি প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শন।
খেরুয়া মসজিদের অবস্থান
ঐতিহাসিক এই মসজিদটি বগুড়া জেলা শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে শেরপুর উপজেলার খন্দকারটোলায় অবস্থিত। শেরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে অটোরিকশায় ৫ মিনিটের পথ।
খেরুয়া মসজিদের নির্মাতা ও নির্মাণকাল
মসজিদের সম্মুখ দেয়ালে উৎকীর্ণ আরবি-ফারসি শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে (৯৮৯ হিজরিতে) জওহর আলী কাকশালের পুত্র মুরাদ খান কাকশাল এটি নির্মাণ করেন। কাকশাল উপাধি ছিল তুর্কিদের। আইন-ই-আকবরি গ্রন্থে এ অঞ্চলকে শেরপুর মোর্চা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
খেরুয়া মসজিদের নাম
আরবি-ফারসিতে ‘খেরুয়া’ বলে কোনো শব্দ পাওয়া যায় না। ধারণা করা হয়, আরবি ‘খয়র’ (কল্যাণ) শব্দ থেকেই এ নামটি এসেছে। অনেক প্রত্নতত্ত্ববিদরা বলেন, খেরুয়া শব্দটি ফারসি ‘খায়ের গাহ’ শব্দ থেকেও উদ্ভূত হতে পারে।
খেরুয়া মসজিদের নির্মাণশৈলী
মসজিদটি সুলতানি ও মোগল স্থাপত্যশৈলীর মিশেলে নির্মিত। মসজিদের নিচের অংশে ভূমি পরিকল্পনা মোগল স্থাপত্যরীতির আর ওপরের অংশ সুলতানি রীতিতে নির্মিত। বাইরে থেকে উত্তর-দক্ষিণে মসজিদের দৈর্ঘ্য ৫৭ ফুট এবং প্রস্থ সাড়ে ২৪ ফুট।
আর ভেতর থেকে মসজিদের দৈর্ঘ্য ৪৫ ফুট এবং প্রস্থে সাড়ে ১২ ফুট। পূর্ব দেয়ালে তিনটি খিলান। দরজার মাঝেরটি আকারে খানিক বড়। দরজা বরাবর আয়তাকার ফ্রেমের মধ্যে অর্ধগোলাকার মেহরাবগুলো স্থাপিত। এখানেও মাঝেরটি অপর দুটি থেকে বড়। বড় দরজার দুপাশে দুটি শিলালিপি ছিল। তার একটি এখনো স্থাপিত থাকলেও অপরটি রয়েছে করাচি জাদুঘরে।
উত্তর আর দক্ষিণ দেয়ালেও আছে ১টি করে দরজা। মসজিদের ছাদে ৩.৭১ মিটার ব্যাসের উপুড় করা বাটি সদৃশ তিনটি গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজের ইটের গাঁথুনি খুবই নান্দনিক। গম্বুজের সম্পূর্ণ ভর চার কোণের চারটি প্রকাণ্ড অষ্ট ভূজ মিনার এবং চুনসুরকিতে গাঁথা পাতলা লাল ইটের ১.৮১ মিটার চওড়া দেয়ালের ওপর। মসজিদের কার্নিশ ধনুকের মতো বাঁকা। কালের ঘর্ষণে ক্ষয়ে গেছে দেয়ালে করা পোড়ামাটির শিল্পকর্ম এবং ইটের ওপরের বাহারি নকশা।
খেরুয়া মসজিদের সামনে রয়েছে বিশাল মাঠ। মাঠের চতুর্দিকে রয়েছে তাল, নারিকেল, আম ও কদমগাছের সারি। কথিত আছে, মসজিদের মাঠে যে কবর, তা আবদুস সামাদ ফকির নামের এক ব্যক্তির; যিনি মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ করেন।
খেরুয়া মসজিদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
বাংলায় মোগল শাসনের সূচনা হয় ১৫৭৬ সালে। মোগল শাসনের সূচনা কালের মসজিদ হিসেবে খেরুয়া মসজিদের পৃথক গুরুত্ব রয়েছে। কারণ মসজিদটি তৎকালীন বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
খেরুয়া মসজিদের বর্তমান অবস্থা
খেরুয়া মসজিদে বর্তমানে ওয়াক্তিয়া, জুমা, তারাবিসহ দুই ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদের ভেতরে সর্বসাকল্যে ৫০-৬০ জন মানুষ সংকুলান হয়। বাকিদের বাইরে চট বিছিয়ে দাঁড়াতে হয়।
১৯৮৮ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মসজিদটি সংস্কার করে। এরপর আর উল্লেখযোগ্য সংস্কার হয়নি বললেই চলে। বাইরে থেকে ভালো দেখা গেলেও মসজিদের ভেতরের ইটগুলো ক্ষয়ে যেতে শুরু করেছে। ক্রমেই ঝুরঝুরে হয়ে যাচ্ছে ইটগুলো। মোগল আমলের এই ঐতিহাসিক স্থাপনাকে টিকিয়ে রাখতে অতি দ্রুত সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই।
লেখক: মুজাহিদ আল কারিম,ইসলামবিষয়ক গবেষক

বিবৃতিতে বিশেষভাবে টানা ৩০ দিন ধরে মসজিদুল আকসার গেটগুলো মুসল্লিদের জন্য বন্ধ রাখার নিন্দা জানানো হয়। মন্ত্রীরা পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ১৪৪ একর আয়তনের পুরো মসজিদুল আকসা প্রাঙ্গণটি শুধু মুসলমানদের ইবাদতের জায়গা। তাঁরা স্পষ্ট করে বলেন, জর্ডানের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ‘জেরুজালেম আওকাফ ও আল...
৪ ঘণ্টা আগে
হেরা গুহায় যখন প্রথম ওহি ‘ইকরা’ নাজিল হলো, তখন ভয়ে প্রকম্পিত নবীজিকে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরে অভয় দিয়েছিলেন এই মহীয়সী নারী। নবুওয়াতের সেই কঠিন শুরুর দিনগুলোতে তিনি ছিলেন নবীজির ছায়ার মতো সঙ্গী। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি নবীজির নবুওয়াতের ওপর ইমান এনেছিলেন এবং ইসলামের প্রথম নারী হিসেবে নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন
৫ ঘণ্টা আগে
২০২৬ সালের পবিত্র হজের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট কার্যক্রম আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরব। এ ক্ষেত্রে হজ এজেন্সি ও এয়ারলাইনসগুলোকে সৌদি সরকারের নির্দেশনা, হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন ২০২৬-এর নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
৬ ঘণ্টা আগে
ইসলামে জিহ্বার হেফাজত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বল্পভাষী হওয়া যেমন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, তেমন পরকালীন মুক্তির অন্যতম মাধ্যম। অনিয়ন্ত্রিত ও লাগামহীন কথাবার্তা অনেক সময় ঝগড়া-বিবাদ এবং সামাজিক অশান্তির মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
১৩ ঘণ্টা আগে