Ajker Patrika

কেউ টাকা দেয়নি, পাঁচ মাস পরও তহবিলশূন্য ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
কেউ টাকা দেয়নি, পাঁচ মাস পরও তহবিলশূন্য ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ড অব পিস সনদ সাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

গাজা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এটি গঠনের প্রায় ৫ মাস পরে এখন পর্যন্ত এর তহবিলে কোনো অর্থ জমা পড়েনি বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস (এফটি)।

গত বছরের অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর গাজা পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প এই বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেন। খসড়া সনদ অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে বোর্ডটি গাজা সংকট নিয়ে কাজ করবে, পরে এর পরিধি বাড়িয়ে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংঘাত অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়। তবে শুরু থেকেই এতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বোর্ড গঠনের পর থেকে বিশ্বব্যাংক পরিচালিত ও জাতিসংঘ সমর্থিত তহবিলে কোনো দাতা দেশ অর্থ জমা দেয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারটি সূত্রের বরাতে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘তহবিলে শূন্য ডলার জমা পড়েছে।’

তবে বোর্ডের মুখপাত্র জানিয়েছেন, অনুদানের অর্থ সরাসরি জেপি মরগান ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা হয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস বলছে, স্বাধীনভাবে জেপি মরগানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য জানার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই তারা এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি। তবে বোর্ড গঠনের পর থেকে বিশ্বব্যাংক পরিচালিত ও জাতিসংঘ সমর্থিত তহবিলে অর্থ জমা দেওয়ার কথা থাকায়, জেপি মরগানের বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র, ট্রাম্পের আদর্শিক সহযোগী ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের নজর কাড়তে উদ্গ্রীব কিছু ছোট ছোট দেশ এই বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত হলেও ইউরোপের বড় দেশগুলো এটিকে এড়িয়ে চলেছে। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য শুরুতেই এই বোর্ডে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

বোর্ডের চার্টার বা সনদ অনুযায়ী, এই বোর্ডটি কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বারাই নয়, বরং ব্যক্তিগতভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বোর্ডের যেকোনো সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত ক্ষমতা ট্রাম্পের হাতে এবং তাঁর প্রেসিডেন্সির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি এর দায়িত্বে বহাল থাকতে পারবেন। এ ছাড়া বোর্ডের স্থায়ী সদস্যপদ পেতে প্রতিটি দেশের জন্য ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই বোর্ডে ১০ বিলিয়ন ডলার অনুদান দেবে। এ ছাড়া কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রত্যেকে অন্তত ১ বিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

চলতি বছরের এপ্রিলে প্রকাশিত ইইউ-জাতিসংঘের এক যৌথ মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনের জন্য আগামী এক দশকে ৭১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে। তবে গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও গাজায় এখনো প্রতিদিন সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও হামাস একে অপরকে দায়ী করে আসছে এবং ইসরায়েলি বিমান হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হয়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গাজা পুনর্গঠনে বোর্ড অব পিস গঠন করলেও তার তহবিল এখন পর্যন্ত শূন্য। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন হতে পারে, গাজা পুনর্গঠন কী সম্ভব?

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত