
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে চলমান যুদ্ধবিরতির সময়ে ইরানকে কোনো অস্ত্র সরবরাহ না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে চীন। ওয়াশিংটন যখন তেহরানকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বৃহত্তর শান্তি চুক্তিতে রাজি করাতে চাপ বাড়াচ্ছে, ঠিক তখনই এ বিষয়টি সামনে এল। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই তথ্য জানান।
হংকং থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে হেগসেথ বলেন—লড়াইয়ের এই ভঙ্গুর বিরতির মধ্যে ইরানের জন্য বাইরের সমর্থন নিয়ে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মাঝে বেইজিং সরাসরি এই নিশ্চয়তা প্রদান করেছে।
ইরানে চীনের সম্ভাব্য অস্ত্র চালানের রিপোর্টের দিকে ইঙ্গিত করে হেগসেথ বলেন, ‘সি চিন পিংয়ের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শক্তিশালী ও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাঁরা এ বিষয়ে কথা বলেছেন এবং চীন জানিয়েছে যে এমন কিছু (অস্ত্র সরবরাহ) ঘটবে না।’
আগামী ১৪-১৫ মে বেইজিংয়ে চীনা নেতা সি চিন পিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস ট্রাম্প ও সির মধ্যকার কোনো আলোচনার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে তারা বলেছে, সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির ক্ষেত্রে বেইজিং ‘সর্বদা বিচক্ষণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে’।
চীনা দূতাবাস জানায়, ‘ইরান ইস্যুতে চীনের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট ও স্বচ্ছ। আমরা বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখি এবং শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’ জ্যেষ্ঠ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা যখন সতর্ক করছেন যে—আলোচনা ব্যর্থ হলে ওই অঞ্চলে আমেরিকান বাহিনী পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত, ঠিক তখনই এমন মন্তব্য সামনে এল।
এদিকে, ইরান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে চীন। আগামী মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বেইজিংকে এক কূটনৈতিক অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। একদিকে ওয়াশিংটনকে সামলানো, অন্যদিকে তেহরানকে চটানো যাবে না—এমন এক ভারসাম্য রক্ষার নীতি নিয়েছে দেশটি।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে হতে যাওয়া এই বৈঠকটি মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিয়ে বেইজিংয়ের দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করে দিচ্ছে। বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক হিসেবে চীন তাদের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায়। কারণ, তাদের মোট জ্বালানি চাহিদার অর্ধেকই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।
যুদ্ধের বিষয়ে চীনের এই পরিমিত দৃষ্টিভঙ্গি তাদের পর্দার আড়ালে এমন এক প্রভাব তৈরিতে সাহায্য করেছে, গত সপ্তাহে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় ইরানকে রাজি করানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেইজিংকে কৃতিত্ব দিয়েছেন।
উন্নয়নশীল বিশ্বে চীনের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কাজ করা স্বাধীন সংস্থা চায়না-গ্লোবাল সাউথ প্রজেক্টের প্রধান সম্পাদক এরিক ওল্যান্ডার বলেন, ‘আপনারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বারবার বলতে শুনেছেন যে চীন কীভাবে ইরানিদের সঙ্গে কথা বলেছে। এটি তাদের আলোচনার টেবিলে সরাসরি না বসালেও অন্তত সেই কক্ষের ভেতরে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে।’

ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধান শত্রু কে হতে যাচ্ছে—তা নিয়ে এরই মধ্যে ভবিষ্যদ্বাণী শুরু হয়েছে। ইরানের পর ইসরায়েলের প্রধান শত্রু হিসেবে পাকিস্তান ও তুরস্কের নাম নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ইসরায়েলি বিশ্লেষক বোয়াজ গোলানি দেশটির দৈনিক মাআরিভে প্রকাশিত এক নিবন্ধে মধ্যপ্রাচ্যের ‘পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির’...
১ ঘণ্টা আগে
ধর্মীয় প্রার্থনা সভায় পবিত্র বাইবেলের শ্লোক পড়তে গিয়ে জনপ্রিয় হলিউড সিনেমা ‘পাল্প ফিকশন’-এর একটি কাল্পনিক সংলাপ আওড়ে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছেন মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী (প্রতিরক্ষামন্ত্রী) পিট হেগসেথ। গত বুধবার পেন্টাগনে আয়োজিত এক বিশেষ প্রার্থনা সভায় তিনি বাইবেলের ‘ইজেকিয়েল ২৫: ১৭’ শ্লোকটির কথা...
১ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে চীন। আগামী মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বেইজিংকে এক কূটনৈতিক অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। একদিকে ওয়াশিংটনকে সামলানো, অন্যদিকে তেহরানকে চটানো যাবে না—এমন এক ভারসাম্য রক্ষার...
১ ঘণ্টা আগে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। এতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পথে—এমন আশাবাদ আরও জোরালো হয়েছে। এমনটি ট্রাম্প চূড়ান্ত আলোচনায় যোগ দিতে এবং চুক্তি স্বাক্ষরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আসতে পারেন।
২ ঘণ্টা আগে