Ajker Patrika

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানিতে মার্কিনদের বাড়তি ব্যয় ১০০ বিলিয়ন ডলার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানিতে মার্কিনদের বাড়তি ব্যয় ১০০ বিলিয়ন ডলার
ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা পর্যায়ে বাড়তি ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে স্রেফ জ্বালানি খাতেই। ছবি: এএফপি

ইরানে চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের বাড়তি জ্বালানি দামের পেছনে ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। আর এই খরচ প্রতি দুই মিনিটে আরও প্রায় ১০ লাখ ডলার করে বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির রিয়েল-টাইম হিসাব অনুযায়ী, গতকাল সোমবার সকালে এই খরচের পরিমাণ এতটাই দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়েছে, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব পুরো অর্থনীতিতেই পড়ে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ডিজেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় আগামী কয়েক সপ্তাহ ও মাসে পণ্য পরিবহন এবং ভ্রমণ খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন স্কুলের ‘ইরান ওয়ার এনার্জি কস্ট ট্র্যাকারের’ হিসাবে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরিবারকে গড়ে গ্যাসোলিন ও ডিজেলের বাড়তি দামের জন্য ৭৬০ ডলারের বেশি অতিরিক্ত খরচ করতে হয়েছে।

এই বাড়তি খরচের বেশিরভাগই গ্যাসোলিনের কারণে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ডিজেলের খরচ দ্রুতগতিতে বাড়ছে। শুক্রবার ডিজেলের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ডে পৌঁছায়। এরপর থেকে প্রতিদিনই দাম বেড়েছে। সোমবার সকালে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৯০ ডলার। এক বছর আগের তুলনায় এটি প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বাড়তি গ্যাসোলিন ও ডিজেলের খরচের সবচেয়ে বড় বোঝা পড়েছে টেক্সাসে। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ট্র্যাকার অনুযায়ী, সেখানে ভোক্তারা প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ করেছেন। এর পরেই রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া, যেখানে বাড়তি খরচ প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার। ফ্লোরিডায় এর পরিমাণ প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে ঠেকাতে হলে বেশি দাম দিতে হলেও মার্কিনরা তা মেনে নিতে প্রস্তুত। কিন্তু ভোটাররা ধারাবাহিকভাবে বলছেন, মূল্যস্ফীতি তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। আর মূল্যস্ফীতির প্রশ্নে তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উল্লেখযোগ্যভাবে নেতিবাচক মূল্যায়ন করছেন।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ঠিক কত পরিমাণ তেল বিশ্ববাজারে বের হতে পারছে, তা নিয়ে এখনও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহ ও মাসে এই পরিস্থিতিই জ্বালানির দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। এর পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধও জ্বালানির বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। ইউক্রেনের রুশ জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে বৈশ্বিক বাজারে, বিশেষ করে ডিজেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।

ফলে যুদ্ধ শুরুর সময় যে সময়ের কথা কেউ ধারণা করেছিলেন, তার চেয়ে আরও দীর্ঘ সময় ধরে ভোক্তাদের উচ্চ জ্বালানি দামের মুখোমুখি হতে হবে। আর মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের (মিডটার্ম নির্বাচন) আর দুই মাসেরও কম সময় বাকি। ফলে এই বাড়তি জ্বালানি খরচ নিয়ে ভোটারদের ক্ষোভ প্রশমিত করা কঠিন হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত