Ajker Patrika

মেক্সিকোর তরুণীদের নতুন ক্রাশ পুলিশ কর্মকর্তা ওমর

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০: ৫৭
মেক্সিকোর তরুণীদের নতুন ক্রাশ পুলিশ কর্মকর্তা ওমর
মেক্সিকোর নিরাপত্তাপ্রধান ওমর গার্সিয়া হারফুচ। ছবি: সংগৃহীত

মেক্সিকো বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মাদক কার্টেল আর সহিংসতার ছবি। কিন্তু দীর্ঘদিনের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আবহে এখন এক ভিন্নধর্মী উন্মাদনা তৈরি হয়েছে দেশটির নিরাপত্তাপ্রধান ওমর গার্সিয়া হারফুচকে নিয়ে। অপরাধ দমনের চেয়ে এখন তাঁর ‘হিরো’ ইমেজ এবং সুদর্শন চেহারা মেক্সিকানদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বাজার—সবখানেই এখন হারফুচকে নিয়ে একধরনের ‘পপ কালচার’ বা গণসংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।

মেক্সিকোর প্রতিটি শহরের রাস্তার পাশের বাজারগুলোতে এখন দেদার বিক্রি হচ্ছে হারফুচের ছবিসংবলিত কম্বল, বালিশ এবং ‘হারফুচিতো’ পুতুল। এমনকি এআই দিয়ে তৈরি ফ্যান্টাসি ছবি কিংবা সুপারহিরো বেশেও তাঁকে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে কেক কিংবা ফানেল থ্রোতে। টিকটকে তাঁর হাসিমাখা মুখ নিয়ে তৈরি ‘ফ্যান এডিট’ ভিডিওগুলো এখন ভাইরালে শীর্ষে। মেক্সিকান লোকসংগীত বা ‘করিডোস’-এ তাঁকে বর্ণনা করা হচ্ছে এক ‘অকুতোভয় কিংবদন্তি’ হিসেবে।

হারফুচের এই জনপ্রিয়তার মূলে রয়েছে ২০২০ সালের এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা। মেক্সিকো সিটিতে তাঁকে লক্ষ্য করে চালানো এক আত্মঘাতী হামলায় তাঁর দুই নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন এবং হারফুচ নিজে গুলিবিদ্ধ হয়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরেন। এই ‘মরণজয়ী’ ভাবমূর্তি তাঁকে জনগণের কাছে এক জীবন্ত লোকগাথায় পরিণত করেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কুখ্যাত জালিস্কো কার্টেল নেতা ‘এল মেনচো’র মৃত্যুর পর হারফুচের জনপ্রিয়তা আরও তুঙ্গে ওঠে। কারণ, ওই হামলার পেছনে মেনচোকেই দায়ী করেছিলেন তিনি।

মেক্সিকোর তেপিতো নামক বিখ্যাত বাজারে আগে যেখানে মাদকসম্রাট ‘এল চাপো’ বা গাঁজার ছবিসংবলিত পণ্যের আধিপত্য ছিল, সেখানে এখন হারফুচের ছবি দেওয়া পণ্য জায়গা দখল করে নিচ্ছে। অপরাধ বিশ্লেষক অস্কার বালমেন বলেন, হারফুচের এই ‘ক্লিন ইমেজ’ সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার আকাঙ্ক্ষাকে উসকে দিয়েছে। মানুষ নিরাপদে থাকতে চায়, শান্তিতে থাকতে চায়। হারফুচের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ এই পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরতে চাইছে।

হারফুচের মা, বিখ্যাত অভিনেত্রী মারিয়া সর্টে তাঁর ছেলের এই জনপ্রিয়তা নিয়ে বেশ আমোদিত। তিনি জানান, হারফুচ একজন বিনয়ী মানুষ এবং নিজের কাজের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে হারফুচ নিজে কিছু ‘সেক্স সিম্বল’ ইমেজ নিয়ে কিছুটা অস্বস্তিতে থাকলেও রাজনৈতিকভাবে এর গুরুত্ব তিনি অস্বীকার করেন না।

৪৪ বছর বয়সী হারফুচের বংশপরিচয়ও বেশ চমকপ্রদ। তাঁর বাবা একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন এবং দাদাও ছিলেন একজন জেনারেল। মেক্সিকো সিটির পুলিশপ্রধান হিসেবে ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তাঁর সময়ে হত্যাকাণ্ডের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছিল। বর্তমানে তিনি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন।

বিভিন্ন জনমত জরিপ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মেক্সিকো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হারফুচ অন্যতম শীর্ষ প্রতিযোগী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন। যদিও তিনি নিজে এ নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি, তবে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি এখন শুধু একজন ‘টেকনোক্র্যাট’ নিরাপত্তাপ্রধান নন, বরং মেক্সিকোর শৃঙ্খলা ও আস্থার প্রতীক।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত