Ajker Patrika

ইরানে হামলা ‘যুদ্ধাপরাধ’ হতে পারে, ১০০ মার্কিন আইনজ্ঞের খোলা চিঠি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইরানে হামলা ‘যুদ্ধাপরাধ’ হতে পারে, ১০০ মার্কিন আইনজ্ঞের খোলা চিঠি
ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত ১৭৫ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই শিশু। ছবি: আল-জাজিরা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞ। এক খোলা চিঠিতে তাঁরা এই হামলাকে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন এবং সম্ভাব্য ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনীর কর্মকাণ্ড এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বক্তব্য ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে’।

আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযান জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই শুরু করা হয়েছে। এমনকি ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আসন্ন হুমকির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণও এতে ছিল না।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ কেবল তখনই বৈধ, যখন কোনো সশস্ত্র হামলা সরাসরি মোকাবিলা বা আত্মরক্ষার প্রয়োজন হয় অথবা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ তার অনুমোদন দেয়। নিরাপত্তা পরিষদ এই হামলার অনুমোদন দেয়নি। এমনকি ইরানও ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো হামলা চালায়নি।’

মূলত চারটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে আইনজ্ঞদের এই উদ্বেগের জন্ম হয়েছে—যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তের বৈধতা, যুদ্ধ পরিচালনার ধরন, শীর্ষ কর্মকর্তাদের হুমকিমূলক বক্তব্য এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের তথাকথিত ‘গ্লাভস অফ’ (কঠোর ও অনমনীয়) নীতির কারণে মার্কিন সরকারের অভ্যন্তরে বেসামরিক সুরক্ষা কাঠামোর বিলুপ্তি।

আইনজ্ঞরা যুদ্ধের প্রথম দিন ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। ওই হামলায় অন্তত ১৭৫ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই শিশু। এ ছাড়া হাসপাতাল, পানি শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার বিষয়টিও তাঁরা সামনে এনেছেন। চিঠিতে বলা হয়, ‘স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ঘরবাড়িতে হামলার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য বক্তব্যেরও নিন্দা জানানো হয়েছে।

বিশেষ করে মার্চের মাঝামাঝি সময় ট্রাম্পের একটি মন্তব্য তুলে ধরা হয়, যেখানে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘স্রেফ মজা করার জন্য’ ইরানে হামলা চালাতে পারে। এ ছাড়া পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথের মার্চের শুরুর দিকের একটি মন্তব্যও উদ্ধৃত করা হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে কোনো ‘স্টুপিড’ নিয়ম (rules of engagement) মেনে লড়াই করে না।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জনসমক্ষে দেওয়া এসব বক্তব্য আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি একটি উদ্বেগজনক অবজ্ঞা প্রদর্শন করে। অথচ এই আইনগুলো রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এবং তা বেসামরিক নাগরিক ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে।’

চিঠিতে আরও জানানো হয়, এই যুদ্ধের কারণে মার্কিন করদাতাদের প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে।

এই চিঠিটি লিখেছেন ইয়েল ল স্কুলের ঊনা হ্যাথওয়ে ও হ্যারল্ড কোহ, এনওয়াইইউ-এর ফিলিপ আলস্টন এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাবেক প্রধান কেনেথ রথসহ প্রখ্যাত আইন বিশেষজ্ঞরা।

তাঁরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে তাঁদের মূল মনোযোগ মার্কিন সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর। তবে পুরো অঞ্চলে নৃশংসতার যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও তাঁরা উদ্বিগ্ন।

আন্তর্জাতিক আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে আইনজ্ঞরা চিঠিতে বলেন, যাঁরা নিজেদের বিশ্বনেতা হিসেবে দাবি করেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও এই আইন সমান কার্যকর হতে হবে। এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো ও শৃঙ্খলার যে ক্ষতি করছে, সে বিষয়েও তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা ওয়াশিংটনকে নীতিমালা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মানবাধিকার আইন মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ও শ্রদ্ধার বিষয়টি জনসমক্ষে স্পষ্ট করার অনুরোধ করছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বোমা তৈরির পিডিএফ ফাইল ছড়ানো ও ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার

ইরানে বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমানের এক ক্রু জীবিত উদ্ধার

নিখোঁজ পাইলটদের খুঁজতে গিয়ে ভূপাতিত মার্কিন হেলিকপ্টার: মেহের নিউজ

মার্কিন দ্বিতীয় পাইলটকে হন্যে হয়ে খুঁজছে ইরান, ধরিয়ে দিলে পুরস্কার ঘোষণা

দলীয় পদ ছাড়ছেন জোনায়েদ সাকি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত