Ajker Patrika

ভালোবাসা দিবসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেমিকসহ ইউক্রেনীয় তরুণীকে হত্যা, গ্রেপ্তার সাবেক প্রেমিক

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ভালোবাসা দিবসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেমিকসহ ইউক্রেনীয় তরুণীকে হত্যা, গ্রেপ্তার সাবেক প্রেমিক
নিহত প্রেমিক ম্যাথিউ ওয়েড ও কাতেরিনা তোভমাশ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে এক ইউক্রেনীয় শরণার্থী তরুণী ও তাঁর সেনাসদস্য প্রেমিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক প্রেমিক সাত ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে এসে বাড়িতে ঢুকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, গত শনিবারের ওই ঘটনায় নিহত দুজন হলেন, ২১ বছর বয়সী কাতেরিনা তোভমাশ এবং তাঁর ২৮ বছর বয়সী প্রেমিক ম্যাথিউ ওয়েড। সেদিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে র‍্যালেই শহরের উপকণ্ঠে উডলেক কমিউনিটিতে অবস্থিত কাতেরিনার বাসভবনে গুলির খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়।

শেরিফ অফিস জানিয়েছে, বাড়িটির ভেতর থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবার দাবি করেছে, তাঁরা দুজন একই বিছানায় ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন।

এদিকে নিহত ম্যাথিউ ওয়েডের বোন মেগান ওয়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ২৫ বছর বয়সী অভিযুক্ত ক্যালেব হেইডেন ফসনো ওহাইও অঙ্গরাজ্য থেকে গাড়ি চালিয়ে এসে কাতেরিনার বাড়িতে জোর করে প্রবেশ করেন। তিনি বাড়িতে থাকা ছোট ভাইবোনদের একজনকে দিয়ে কাতেরিনাকে জাগিয়ে তোলেন, এরপর তাঁকে গুলি করে হত্যা করেন। এ সময় কাতেরিনার পাশেই ঘুমিয়ে থাকা ম্যাথিউ ওয়েডকেও গুলি করা হয়।

শেরিফ অফিসের জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর একটি সাদা ফোর্ড মাস্ট্যাং গাড়িতে চড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান ফসনো। তাঁকে ‘সশস্ত্র ও বিপজ্জনক’ হিসেবে জন সতর্কতা জারি করা হয়। নিজ অঙ্গরাজ্য ওহাইওতে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তাঁকে ধরতে বেশ কয়েকটি বাহিনী যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। অবশেষে শনিবার সন্ধ্যায় তাঁকে ওহাইওতে গ্রেপ্তার করা হয়।

মুর কাউন্টির শেরিফ রনি ফিল্ডস এই ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক ও অর্থহীন প্রাণহানি’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

কাতেরিনার পরিবার ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিল। গত আগস্টেও নর্থ ক্যারোলিনার শার্লটে ২৩ বছর বয়সী আরেক ইউক্রেনীয় শরণার্থী তরুনী ইরিনা জারুৎসকার নৃশংস হত্যাকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঘটনার পর জননিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে বিতর্ক নতুন করে তীব্র হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত