
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি গত সপ্তাহে নতুন একপর্যায়ে পৌঁছেছে। এআই প্রযুক্তির নির্মাতারাই এখন সতর্ক করছেন, অদূর ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি মানুষের নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে এই ধরনের সতর্কতার পরও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া অনেকটাই নির্লিপ্ত।
এই বিষয়ে গতকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প বলেন, ‘নেতিবাচক শক্তি’ এমন কিছু ঘটবে বলে প্রচার করছে, যা বাস্তবে ঘটবে না। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনও জরুরি আইন প্রণয়নের আহ্বান নাকচ করে বলেছেন, এআই শিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তারা চাইলে প্রযুক্তির অগ্রগতি ধীর করতে পারেন; কংগ্রেসের তাড়াহুড়ো করে আইন করার প্রয়োজন নেই।
ট্রাম্প ও জনসনের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্র এআই উন্নয়ন ধীর করলে চীন এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাবে। ফলে বিষয়টি শুধু প্রযুক্তির নিরাপত্তা নয়, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নও। বিপরীতে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ অনেকেই বলছেন, সরকারি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এআই উন্নয়ন দ্রুত একটি ‘বিপজ্জনক’ সীমা অতিক্রম করতে পারে।
এআই নিয়ে জনমতেও উদ্বেগ স্পষ্ট। চলতি মাসে এনবিসি নিউজের এক জরিপে ৭০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, এআই নিয়ে তাঁরা আশাবাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। প্রযুক্তিটির কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষের চাকরি হারানোর আশঙ্কা, ডেটা সেন্টারের কারণে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বাড়তি ইউটিলিটি বিল—সব মিলিয়ে এআই এখন জীবনযাত্রার ব্যয়ের সংকটের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়ছে।
গত ১২ সেপ্টেম্বর অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এআই শিল্পের গতি কমানোর আহ্বান জানান। ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানও তাঁর সঙ্গে একমত হয়ে এআই প্রতিষ্ঠানে স্বাধীন মূল্যায়নকারীদের রাখার প্রস্তাব দেন। ইলন মাস্ক এবং গুগল ডিপমাইন্ডের চেয়ারম্যান ডেমিস হাসাবিসও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এআই গবেষক জ্যাকব কক্সনের সতর্কবার্তা আরও ভয়াবহ—প্রযুক্তি নির্মাতারাই মনে করেন, চলতি দশকের শেষ নাগাদ এআই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
তবে এআই নিয়ে বিতর্ক গভীরভাবে বিভক্ত। এক পক্ষের আশঙ্কা, অত্যন্ত শক্তিশালী স্বয়ংক্রিয় এআই ব্যবস্থা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অন্য পক্ষ মনে করে, এ ধরনের সতর্কতা আসলে প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের নিজেদের পণ্যকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপনেরই একটি অংশ।
ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণবিরোধী নীতিও বিতর্ককে আরও তীব্র করছে। ট্রাম্পের কাছে এআই শিল্প যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বড় চালিকাশক্তি। ফলে তিনি এই শিল্পের গতি কমাতে অনাগ্রহী।
ডেমোক্র্যাটরা অবশ্য এই ইস্যুতে রাজনৈতিক সুযোগ দেখছেন। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। সিনেটর রুবেন গ্যালেগো সতর্ক করে বলেছেন, পারমাণবিক বোমার নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল না; কিন্তু এআইয়ের সেই ক্ষমতা তৈরি হতে পারে।
ফলে এআই এখন আর কেবল প্রযুক্তির বিষয় নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, চাকরি, জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনীতি এবং আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হচ্ছে।

এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির নিয়ম লঙ্ঘন করলে মার্কিন নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা প্রায় ৩ কোটি ৮ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হতে পারে। এমনকি নিয়োগদাতাদের সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত বিদেশি নিয়োগ থেকে নিষিদ্ধও করা হতে পারে।
১ ঘণ্টা আগে
ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এখন আর শুধু শিক্ষা ও স্কুলের দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই, শুরু হয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্ক। দেশটির রাস্তায় যখন লাখো শিক্ষার্থী এবং সাধারণ বিক্ষোভে নেমেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অস্থিরতার জন্য....
১ ঘণ্টা আগে
শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় চলতি সপ্তাহের বাকি সময় দেশটির সব হাইস্কুলের ক্লাস স্থগিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু। গতকাল মঙ্গলবার বিভিন্ন হাইস্কুল অবরোধ করে বিক্ষোভ করা শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। একই দিন দেশটির বিভিন্ন...
৩ ঘণ্টা আগে
ইরান লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগোর মতো মার্কিন শহর ধ্বংস করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার রাতে নেব্রাস্কার এক সমাবেশে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের কারণে আমেরিকানদের যে আর্থিক মূল্য দিতে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে নিরাপদ....
৪ ঘণ্টা আগে