Ajker Patrika

৭ শতাধিক মার্কিন পণ্যে ২০ বিলিয়ন ডলারের পাল্টা শুল্ক কানাডার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
৭ শতাধিক মার্কিন পণ্যে ২০ বিলিয়ন ডলারের পাল্টা শুল্ক কানাডার
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের জবাবে কানাডা ২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার (১৯ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের ৭ শতাধিক পণ্যের ওপর আরোপ করা হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার কানাডার সরকার জানিয়েছে—নতুন মার্কিন শুল্কের সমপরিমাণ অর্থাৎ ‘ডলার-ফর-ডলার’ অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত এক ডলার শুল্কের বিপরীতে কানাডাও সমানহারে শুল্ক আরোপ করবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাগুলোকে সহায়তা দিতে নতুন আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।

কানাডা সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, নতুন পাল্টা শুল্ক ৭০০ টিরও বেশি পণ্যের ওপর কার্যকর হবে। এর আওতায় থাকবে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, কৃষি সরঞ্জাম, পাল্প ও কাগজ, প্লাস্টিক এবং ইলেকট্রনিকস খাত। এসব পণ্যে শুল্কের হার হবে ১৫ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে।

এ ছাড়া কানাডা ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকে নতুন শুল্কের কারণে তৈরি আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তা করতে ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের বা ৫ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল ঘোষণা করেছে।

কানাডার নতুন পাল্টা শুল্কের ঘোষণা এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার কানাডার পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর। ওই শুল্কের আওতায় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্য পড়েছে। এর মাত্র কয়েক দিন আগেই দুই দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছিল। গত সোমবার ট্রাম্প কানাডার গাড়ির ওপরও নতুন শুল্ক ঘোষণা করেন। এর ফলে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে বিদ্যমান শুল্ক দ্বিগুণ হয়ে ৫০ শতাংশ হবে।

এদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প কানাডাকে নিয়ে একাধিক কটূক্তিও করেছেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, অন্টারিও প্রদেশের সীমানায় অবস্থিত উত্তর আমেরিকার বৃহৎ হ্রদগুলোর পূর্বতম হ্রদ লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন। ট্রাম্প কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে ‘গভর্নর কার্নি’ বলেও উল্লেখ করেছেন। এর মাধ্যমে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১ তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে যুক্ত করার দীর্ঘদিনের মন্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, গত এক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর কানাডার কাছে ৬০ বিলিয়ন ডলার করে হারিয়েছে। তবে কানাডার সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার ৯ দশমিক ৯ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বা ৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। ট্রাম্পের দাবির বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল আল জাজিরা। তবে হোয়াইট হাউস কোনো জবাব দেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের প্রভাব দেশটির ব্যবসা ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শনিবার আরোপ করা শুল্ক থেকে গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ বাদ রাখা হয়েছিল। তবে এই খাতই ওয়াশিংটন ও অটোয়ার মধ্যে বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। কানাডা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি গাড়ির সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ফলে কানাডার চাহিদা কমে গেলে কানাডার বাজারের ওপর নির্ভরশীল মার্কিন গাড়ি নির্মাতারা চাপের মুখে পড়তে পারেন।

অন্যদিকে ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্কের কারণে কানাডা থেকে আমদানি করা ৫৫০ ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম মার্কিন পরিবারগুলোর জন্য বেড়ে যেতে পারে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে আইস স্কেট, টয়লেট পেপার, কিছু অ্যালকোহলজাত পানীয় এবং রং।

জার্মানির কিয়েল ইনস্টিটিউট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শুল্কের প্রভাব মার্কিন নাগরিকদের ওপর উল্লেখযোগ্য হতে পারে। অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, শুল্কের মোট বোঝার ৯৬ শতাংশ শেষ পর্যন্ত মার্কিন আমদানিকারক ও ভোক্তারাই বহন করেন।

এদিকে, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত সোনার দাম মঙ্গলবার দিনের শুরুতে প্রায় ১ শতাংশ কমে যাওয়ার পর আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। তবে দিন শেষে এর দাম প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। প্রতি আউন্স সোনার দাম ০ দশমিক ০৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬৯৬ ডলারে দাঁড়ায়।

মার্কিন ডলারের অবস্থানও মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। মঙ্গলবার ডলার সূচক ০ দশমিক ০৪ শতাংশ কমে ৯৮ দশমিক ৯৬-এ নেমেছে। বিপরীতে কানাডিয়ান ডলার সূচক ০ দশমিক ০৪ শতাংশ বেড়ে ৭২ দশমিক ২৭-এ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে নাসডাক ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ছিল প্রায় অপরিবর্তিত। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বেড়েছে ০ দশমিক ২ শতাংশ। কানাডার টরন্টোতে এসঅ্যান্ডপি/টিএসএক্স কম্পোজিট সূচক বেড়েছে ০ দশমিক ৬ শতাংশ।

কানাডার পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অর্থনীতি গভীরভাবে পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই বাণিজ্যযুদ্ধের চাপ শুধু দুই দেশের ব্যবসা নয়, শেষ পর্যন্ত ভোক্তা, গাড়ি শিল্প, কৃষি ও বিভিন্ন শিল্পপণ্যের বাজারেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত