Ajker Patrika

কানাডায় গ্রিজলি ভালুকের আক্রমণে মা-মেয়ের মৃত্যু

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১: ৫৬
কানাডায় গ্রিজলি ভালুকের আক্রমণে মা-মেয়ের মৃত্যু
ফাইল ছবি

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় গ্রিজলি ভালুকের হামলায় মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ১ নভেম্বর বিকেলে হাঁটতে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর অনুসন্ধান অভিযান চালিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন—৪৮ বছর বয়সী জেনিফার বালকারাস ও তাঁর ২০ বছর বয়সী মেয়ে সেলাহ রিড। তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ব্রিটিশ কলাম্বিয়া কনজারভেশন অফিসার সার্ভিস (বিসিসিওএস) জানিয়েছে, প্রদেশের বেলা কুলা এলাকার একটি হাঁটার পথের কাছ থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পাওয়া আলামত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো বন্য প্রাণী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে এমন ভালুকের সন্ধানে কাজ করছেন বন্য প্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তারা জানান, অনুসন্ধান অভিযানের সময় সোমবার জেনিফার বালকারাসের মরদেহ এবং মঙ্গলবার তার মেয়ে সেলাহ রিডের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযানে কনজারভেশন অফিসারদের পাশাপাশি রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) সদস্যরাও অংশ নেন।

বিসিসিওএসের পরিদর্শক জেফ টাইর বলেন, দুই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় একাধিক ভালুক জড়িত ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কোনো ভালুককে আটক করা সম্ভব হলে সেটি পরীক্ষা করে দেখা হবে। তদন্তে হামলার সঙ্গে কোনো ভালুকের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রাদেশিক মানব-বন্য প্রাণী সংঘাত মোকাবিলার নির্দেশিকা অনুযায়ী সেটিকে হত্যা করা হবে।

নিহত দুই নারীর পারিবারিক ঘনিষ্ঠতার কথা তুলে ধরে জেনিফারের ভাই জশ বালকারাস কানাডার সংবাদমাধ্যম সিবিসিকে বলেন, জেনিফার ও সেলাহ ছিলেন ‘একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ’। তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তাঁরা একে অপরের সঙ্গে খুব ভালোভাবে মিশতেন এবং অনেক শখের কাজ একসঙ্গে করতেন।

জশ বলেন, ‘জেনি যখন পাহাড়ি পথে হাঁটতে যেত, সেলাহ সব সময় তার পাশেই থাকত।’

পরিবারের শেষকৃত্যের ব্যয় নির্বাহে সহায়তার জন্য অনলাইনে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই তহবিল সংগ্রহের বিবরণে বলা হয়েছে, নতুন পেশা শুরু করা এবং জীবনের নতুন অধ্যায় গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি বেলা কুলায় চলে এসেছিলেন জেনিফার।

এদিকে গ্রিজলি ভালুককে কানাডার কেন্দ্রীয় আইনের অধীনে ‘বিশেষ উদ্বেগের প্রজাতি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এনভায়রনমেন্টাল রিপোর্টিং বিসির তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই প্রাণী।

প্রাদেশিক পরিবেশ, ভূমি ও পার্ক মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ১৩ হাজার গ্রিজলি ভালুক রয়েছে। মন্ত্রণালয় প্রজাতিটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবেও শ্রেণিবদ্ধ করেছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ভালুক ও মানুষের মধ্যে সংঘাতের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। তবে ভালুক হঠাৎ ভয় পেলে কিংবা নিজের শাবক ও খাবার রক্ষার চেষ্টা করলে এ ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বেড়ে যায়।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় গ্রিজলি ভালুকের হামলায় হতাহত হওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ম্যাকগ্রেগর মাউন্টেন এলাকায় গ্রিজলি ভালুকের হামলায় দুজন পর্বতারোহী আহত হন। তাদের মধ্যে একজন গুরুতর আঘাতের কারণে পরে মারা যান। পরবর্তী সময়ে ওই ভালুকটিকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

এর পরের মাসে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের নভেম্বরে বেলা কুলা এলাকাতেই একটি স্কুলশিক্ষার্থীদের দলের ওপর ভালুক হামলা চালায়। এতে ১১ জন আহত হন। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ওয়াইল্ডলাইফ ফেডারেশন (বিসিডব্লিউএফ) জানিয়েছে, ২০১৭ সালে প্রদেশটিতে শখের বশে গ্রিজলি ভালুক শিকার নিষিদ্ধ করার পর থেকে গ্রিজলি ভালুক ও মানুষের মধ্যে সংঘাতের খবর বেড়েছে। ওই সময় সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক জেসি জেমান বলেন, ‘শিকারের কোনো চাপ না থাকলে গ্রিজলি ভালুক ও মানুষ ক্রমেই একই এলাকায় বসবাস করবে। এর অনিবার্য পরিণতি হিসেবে সংঘাতের ঘটনা ঘটবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত