ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বন্ধের দাবি নাকচ করলেন রুবিও

ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র—ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কির এমন বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তাঁর দাবি, ওয়াশিংটন কখনোই কিয়েভের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বন্ধ করেনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) উজবেকিস্তান সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন রুবিও। সমরকন্দের ঐতিহাসিক রেজিস্তান চত্বরের মাদ্রাসা কমপ্লেক্স পরিদর্শনের পর তিনি বলেন, ‘তিনি (জেলেনস্কি) এসব কথা কোথা থেকে পাচ্ছেন বা সংবাদমাধ্যমে কেন বলছেন, তা আমি জানি না। আপনারা তাঁকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন। গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে কোনো বিরতি ঘটেনি।’
জেলেনস্কিকে উদ্দেশ করে রুবিও আরও বলেন, তাঁর মনোযোগ দেওয়া উচিত যুদ্ধের অবসান ঘটানোর দিকে। যুক্তরাষ্ট্রও সেই লক্ষ্যেই মনোযোগ দিতে চায়।
এর আগে রোববার এনবিসির মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে জেলেনস্কি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে পরে সেই বাধা দূর হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এ জন্য আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। এখন এটি কাজ করছে।’
গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় নিয়ে দুই দেশের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সম্পর্কে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কয়েক দিনের মধ্যে একাধিক বিষয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে অসংগতি দেখা গেছে।
জেলেনস্কি আরও অভিযোগ করেছেন, স্পেসএক্সের তৈরি স্টারশিল্ড স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহারে ইউক্রেনের ওপর সম্প্রতি যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, তার পেছনে মার্কিন সরকারের ভূমিকা রয়েছে। রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা মোকাবিলায় এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এ অভিযোগও অস্বীকার করেছেন।
রাশিয়ার ছোড়া দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভরশীল। রাশিয়া বিভিন্ন সময়ে ইউক্রেনের শহরগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়েছিলেন, ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় অব্যাহত রয়েছে। তবে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলেছেন, রাশিয়ার কয়েকটি হামলার আগে তাঁরা কোনো সতর্কবার্তা পাননি। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে চলছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।









