
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিকাগোতে ৩০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছেন। স্থানীয় নেতাদের আপত্তি সত্ত্বেও কয়েক সপ্তাহ ধরে হুমকি দেওয়ার পর শনিবার তিনি এ নির্দেশ দেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন গতকাল শনিবার বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফেডারেল কর্মকর্তাদের ও স্থাপনা রক্ষায় ৩০০ ন্যাশনাল গার্ড পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকার শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়া আইনশৃঙ্খলার সংকট উপেক্ষা করবেন না।’
শনিবার শিকাগোতে মার্কিন বর্ডার প্যাট্রল সদস্যরা এক সশস্ত্র নারীকে গুলি করার পর ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট গভর্নর জেবি প্রিৎজকার ট্রাম্পের পরিকল্পনার কথা জানান। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ওই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য গুরুতর আহত হননি।
তিনি আরও জানান, গুলিবিদ্ধ নারীসহ একদল মানুষ গাড়ি নিয়ে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সংস্থার ব্যবহৃত গাড়িতে আঘাত করেছিল। নাম না জানা ওই নারী নিজেই হাসপাতালে যান। তাঁর অবস্থা সম্পর্কে কোনো অতিরিক্ত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। শনিবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে উত্তপ্ত সংঘর্ষে আইসিই এজেন্টরা মরিচের গুঁড়া ও রাবার বুলেট ছোড়ে।
মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোম এক্সে দেওয়া বার্তায় জানান, তিনি শিকাগোর ব্রাইটন পার্ক এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত ‘স্পেশাল অপারেশনস’ পাঠাচ্ছেন। গভর্নর প্রিৎজকার বলেন, সকালে পেন্টাগন তাঁকে জানায় সেনাদের ডাকা হবে। তারা কোথায় বা কবে মোতায়েন হবে তা স্পষ্ট করেননি তিনি। তবে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই শিকাগোতে সেনা পাঠানোর হুমকি দিয়ে আসছেন।
প্রিৎজকার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আজ সকালে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধ দপ্তর আমাকে আলটিমেটাম দিয়েছে—তোমার সেনা ডাকো, নইলে আমরা ডাকব। এটা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং আমেরিকার আদর্শবিরোধী যে একজন গভর্নরকে দেশের ভেতরে সেনা ডাকতে বাধ্য করা হচ্ছে, তাও আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে।’
গভর্নরের দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, এ নিয়ে আর বিস্তারিত কিছু জানানো যাবে না। হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনও প্রিৎজকারের বক্তব্যে কোনো সাড়া দেয়নি।
শিকাগোতে ফেডারেল বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর বিরুদ্ধে টানা বিক্ষোভ হচ্ছে। শুক্রবার শিকাগোর শহরতলি ব্রডভিউতে আইসিই কার্যালয়ের সামনে শত শত বিক্ষোভকারীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।
বিক্ষোভকারীরা মাটিতে বসে আটক ব্যক্তিদের আইসিই কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া ঠেকাতে চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ভারী অস্ত্রে সজ্জিত আইসিই এজেন্টরা শারীরিক শক্তি, কেমিক্যাল অস্ত্র আর রাবার বুলেট ব্যবহার করে তাদের সরে যেতে বাধ্য করে। এতে যুদ্ধক্ষেত্রের মতো দৃশ্য তৈরি হয়।
নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, ওয়াশিংটন ডিসি আর পোর্টল্যান্ডের মতো ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত শহরগুলোতে একই ধরনের কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে মানুষ। এর আগে, ট্রাম্প গত গ্রীষ্মে লস অ্যাঞ্জেলেসে ন্যাশনাল গার্ড পাঠান এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে আইনশৃঙ্খলা দখল অভিযানেও গার্ড মোতায়েন করেন। একই সময়ে টেনেসির ন্যাশনাল গার্ড সদস্যরা মেমফিসে পুলিশকে সহায়তা করছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে সেনা পাঠানো ঠেকাতে মামলা করেছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। আদালত সাময়িকভাবে মোতায়েন আটকে দেয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসন রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। নবম সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ ইঙ্গিত দিয়েছে, সরকারের মামলায় জেতার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইলিনয়ের গভর্নর প্রিৎজকার বলেন, ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ আসলে ‘একটি সাজানো নাটক’। এতে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যরা পরিবার ও কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন। তিনি বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে এটা কখনো নিরাপত্তার ব্যাপার ছিল না। এটা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের ব্যাপার।’ তিনি আরও জানান, শিকাগোর ব্রডভিউতে আইসিই কার্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অঙ্গরাজ্য, কাউন্টি ও স্থানীয় পুলিশ একসঙ্গে কাজ করছে।
ফেডারেল কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার ব্রডভিউর ওই কার্যালয়ের সামনে থেকে ১৩ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। কেন্দ্রটি শরৎ থেকে শুরু হওয়া অভিবাসনবিরোধী অভিযানে বারবার টার্গেট হচ্ছে।
আরও খবর পড়ুন:

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনাতেই যাবে না। এমন কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি। তিনি জানিয়েছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
১০ মিনিট আগে
জীবিত আছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ। এমনটাই দাবি করেছেন তাঁর এক ঘনিষ্ঠ উপদেষ্ট। গতকাল রোববার ইসরায়েলি ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
৩১ মিনিট আগে
কুয়েতে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধবিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ–১৫ যুদ্ধবিমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিষয়ে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে বিমানটিকে এফ–১৬ বলেও ধারণা করছেন।
১ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত শনিবার ইরানে বিনা উসকানিতে হামলা চালায়। জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। এমনকি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের দিকেও অ্যান্টিশিপ ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছিল।
২ ঘণ্টা আগে