
পাকিস্তান–আফগানিস্তানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে। দুই দেশই সীমান্ত বন্ধ করে রেখেছে। এই সংকটের মধ্যেই পাকিস্তান দেশটিতে থাকা দশকের পর দশক ধরে থাকা আফগান শরণার্থীদের দেশ থেকে বের করে দিচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা আর এই বিশাল শরণার্থী সম্প্রদায়কে বহন করতে পারছে না।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত পাকিস্তানে থাকা ৩০ লাখ আফগানের মধ্যে প্রায় ১০ লাখকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে বা ফেরত পাঠানো হয়েছে। অনেকের জন্মই আবার পাকিস্তানে। তাদের কেউ কেউ কখনও আফগানিস্তান দেখেনি। অথচ ফিরতে হচ্ছে এমন এক দেশে, যেখানে চাকরি কম, বাসাভাড়া নাগালের বাইরে এবং মানবিক সংকট বাড়ছে।
করাচির উপকণ্ঠে এক সন্ধ্যায় চারটি আফগান পরিবার তাদের সারাজীবনের জমানো জিনিসপত্র তুলে দিচ্ছিল ট্রাকে। বিছানা, মুরগি, পানির জেরিক্যান, আর কিছু পোশাক। পরিবারের এক নবজাতকের বয়স মাত্র সাত দিন। সেখানে থাকা সাইফুদ্দিন নামে একজন বললেন, সরকার আরও কড়াকড়ি শুরু করার আগেই তারা দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মসজিদের বক্তৃতায় ও পুলিশের গাড়ির লাউডস্পিকারে বারবার শুনেছেন, আফগানদের ফিরে যেতে হবে। সাইফুদ্দিনের ভাষায়, ‘এখানে ৪৫ বছর আছি। তবু এটা আমাদের দেশ না। আর আফগানিস্তানে তো আমাদের একটাও ঘর নেই।’
দুই দেশের সীমান্ত ঘেঁষা অঞ্চলে সীমান্ত পেরিয়ে উভয়পক্ষের লোকজনেরই বহু বছর ধরেই যাতায়াত চলছিল। সংস্কৃতি ও ভাষাগত টানাপোড়েনও আছে। তবে এবার যেভাবে নির্বিচারে অভিযান চলছে, তা নতুন। পাকিস্তান ঘোষণা দিয়েছে, বৈধ কাগজ হোক বা না-ই হোক, সব আফগানকে দেশ ছাড়তে হবে। ফেরার পর ঝুঁকিতে পড়বে কি না, সেটিও বিবেচনা করা হবে না।
এই অবস্থার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর নতুন বিধিনিষেধও মিলে গেছে। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, আফগানদের ইমিগ্রেশন আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আফগান আশ্রয়প্রার্থীদের স্ট্যাটাসও পুনর্বিবেচনা করা হবে। ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে হত্যার ঘটনায় একজন আফগান সন্দেহভাজন হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্য প্রতিবেশী ইরানও চলতি বছর ১৫ লাখের বেশি আফগানকে বের করে দিয়েছে। বিদেশে থাকা এসব আফগান শরণার্থী আফগানিস্তানে অর্থ পাঠিয়ে দেশটির টলায়মান অর্থনীতিকে টিকিয়ে রেখেছিল। সীমান্ত বাণিজ্যও ধরে রেখেছিল। কিন্তু পাকিস্তান ও ইরানের নিজস্ব অর্থনৈতিক সংকট বাড়তে থাকায় দুই দেশই গত বছর থেকে আফগানবিরোধী বক্তব্য জোরদার করেছে। ত্বরান্বিত করেছে গণ–নির্বাসন। ২০২৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত দুই দেশ মিলিয়ে ৪৫ লাখের বেশি আফগানকে তাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ লাখই এ বছর।
পাকিস্তান এখন বাড়ির মালিকদের নির্দেশ দিচ্ছে, তারা যেন আফগান পরিবারগুলোকে বের করে দেয়। একটি প্রদেশে জনগণের কাছ থেকে ‘সংবাদদাতা’ পদ্ধতিতে আফগানদের ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য বলছে, গত বছরের তুলনায় এবার ১২ গুণ বেশি আফগানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
লন্ডনভিত্তিক আগা খান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞানী সানা আলিমিয়া বলেন, ‘এই গণ–নির্বাসনের মাত্রা ভয়াবহ।’ দেশ ছাড়ার ভয়ে যারা আগেভাগেই চলে যাচ্ছে, তাদের প্রায়ই দেখা যাচ্ছে রাস্তায়। রঙিন পাকিস্তানি ট্রাকের ওপর পুরো পরিবার, গৃহস্থালি সব জিনিস তুলে সীমান্তের পথে রওনা দিচ্ছে।
করাচির বস্তিতে যারা স্ক্র্যাপ বা আবর্জনা কুড়িয়ে জীবিকা চালাত, তাদেরও বের করে দেওয়া হচ্ছে। লাহোরে যারা দিনমজুর বা মেকানিক হিসেবে কাজ করত, তাদেরও। বেলুচিস্তানের পেঁয়াজক্ষেত আর কয়লা খনির হাজারো শ্রমিকও দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
ইসলামাবাদের এক পার্কে মাসের পর মাস তাঁবুতে থাকা আফগান পরিবারগুলোর মধ্যে থাকা একজন মেহরাফজোন জলিলি। বয়স ২৪। তিনি আগে দন্তচিকিৎসা বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। বললেন, ‘আমরা পুরোপুরি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দয়ার ওপর নির্ভরশীল।’ মঙ্গলবার ভোরে পাকিস্তানি পুলিশ সেই পার্কে অভিযান চালায়। সেখানে থাকা আফগানদের ধরে নিয়ে যায় ডিপোর্টেশন সেন্টারে।
আফগানদের পাকিস্তানে আশ্রয় দেওয়ার ইতিহাস সোভিয়েত আগ্রাসনের সময় থেকে। তখন ইসলামাবাদ তাদের ‘পবিত্র যোদ্ধা’ ও ‘ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলমান’ বলে ডাকত। ধীরে ধীরে সেই বয়ান বদলে গেছে। এখন তাদের ‘অপরাধী’, ‘মাদকব্যবসায়ী’ ও সাম্প্রতিক সময়ে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, ‘দশকের পর দশক আমরা তাদের খোলা মনে জায়গা দিয়েছি। কিন্তু বিপুল সংখ্যক আফগান এখন অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে।’ সরকার বলছে, পাকিস্তানে থাকা সব আফগানই জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। ইসলামাবাদের আদালত চত্বরে সাম্প্রতিক বোমা হামলায় ১২ জন নিহত হয়েছে। হামলাকারী ছিলেন আফগান। পাকিস্তানি তালেবানের এক শাখা ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটি আফগান তালেবান সরকারের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছে, যদিও সাংগঠনিকভাবে আলাদা।
পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান সরকার তালেবান ও সংশ্লিষ্ট জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে, অর্থ দিচ্ছে। এসব জঙ্গিই পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। সীমান্তে উত্তেজনা আরও বাড়ল গত সপ্তাহে। পেশোয়ারে আধাসামরিক বাহিনীর সদর দপ্তরে আত্মঘাতী হামলায় তিন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ১১ জন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এ হামলার জন্য পাকিস্তানি তালেবানকে দায়ী করেছেন।
প্রতিশোধ হিসেবে পাকিস্তান সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আফগানিস্তানের দুই বৃহত্তম শহর ও সীমান্ত এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের ওই হামলায় ১০ জন নিহত হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
শরৎজুড়ে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় বহু প্রাণহানি হয়েছে। কাতার, তুরস্ক, ইরান ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো মধ্যস্থতা করতে ব্যস্ত থাকলেও তেমন অগ্রগতি নেই। এই রাজনৈতিক সংঘাতের মাঝে পড়ে গেছে পাকিস্তানে থাকা সাধারণ আফগান নাগরিকরা। আজীবন পাকিস্তানে থাকা শত শত আফগানের ভিসা নবায়ন বন্ধ হয়ে গেছে। প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার আফগানের বয়স ১৫ বছরের নিচে। পাকিস্তানি গবেষক সাবা গুল খটক বলছেন, ‘এই নির্বাসনের স্মৃতি তারা প্রজন্ম ধরে বয়ে বেড়াবে।’
যাদের টাকা আছে তারা ঘুষ বা যোগাযোগের মাধ্যমে কিছুটা সময় কিনে নিতে পারছে। কিন্তু দরিদ্রদের ওপরই মূল আঘাত নেমে এসেছে। জলিলি জানান, তিনি কয়েক বছর হাসপাতালের রিসেপশনে কাজ করেছেন। তাঁর আয়ে পরিবার চলত। কিন্তু বাড়ির মালিক তাদের বের করে দেয়। তার বাবা ছিলেন আফগান সেনাবাহিনীর কর্নেল। কাবুলে তালেবান তাঁকে ধরে হত্যা করে।
রাতের ঠান্ডায় পার্কে আফগান কিশোর–যুবকেরা নিরাপত্তার জন্য পালা করে পাহারা দিত। কিন্তু পুলিশের অভিযান ঠেকাতে পারেনি কেউ। সব পরিবারকে জোর করে বাসে তুলে নেওয়া হয়। জলিলির ভিসা বৈধ। ডিপোর্টেশন সেন্টার থেকে তিনি বার্তা পাঠালেন, তিনি আশা করছেন পরিবারসহ তাকে ফেরত পাঠানো হবে না। তিনি বলেন, ‘কিন্তু বাকিদের কী হবে? তাদের তো তাড়িয়ে দেবে। কে তাদের নিয়ে কথা বলবে?’

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক তেল বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আমদানি-নির্ভর দেশগুলোর ওপর। মাদাগাস্কারে জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ লোডশেডিং দেখা দিচ্ছে, শিল্প উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং জনজীবনে ভোগান্তি বাড়ছে।
২১ মিনিট আগে
মার্কিন হামলার আশঙ্কার মধ্যে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অবকাঠামোর চারপাশে ‘মানবঢাল’ গড়ে তুলছে সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে তেহরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এসব স্থাপনায় হামলা চালায়, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
১ ঘণ্টা আগে
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো প্রদানের মাধ্যমে রাশিয়া ও চীন স্পষ্ট করেছে, এই দেশ দুটি ইরানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং প্রয়োজনে তারা তাদের বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে ইরানের পাশে থাকবে।
৩ ঘণ্টা আগে
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের এক চূড়ান্ত ও অত্যন্ত সংবেদনশীল মুহূর্তে ওয়াশিংটনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের গুঞ্জন গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হোয়াইট হাউস অত্যন্ত কঠোর ভাষায় এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আজ মঙ্গলবার রাত ৮টার (মার্কিন সময়) ডেডলাইন শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা...
৪ ঘণ্টা আগে