Ajker Patrika

রাস্তাঘাট ও স্থাপনার আদি হিন্দু ও জৈন নাম ফেরাচ্ছে পাকিস্তানের শহর

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২০ মে ২০২৬, ১৪: ৫৯
রাস্তাঘাট ও স্থাপনার আদি হিন্দু ও জৈন নাম ফেরাচ্ছে পাকিস্তানের শহর
পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী নগর লাহোর। ছবি: এএফপি

আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকার। লাহোরের ঐতিহাসিক রাস্তাঘাট, পুরোনো গলি এবং ঐতিহ্যবাহী কলেজগুলোকে সেগুলোর আদি ও আসল নামে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অবশ্য এই উদ্যোগের মধ্যেও উপেক্ষিত রয়ে গেছে লাহোরের খেলাধুলার আদি পীঠস্থান ‘মিন্টো পার্ক’-এর (বর্তমান গ্রেটার ইকবাল পার্ক) ঐতিহাসিক ক্রিকেট মাঠ ও ঐতিহ্যবাহী কুস্তির আখড়া পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা।

গত বৃহস্পতিবার লাহোর হেরিটেজ এরিয়া রিভাইভাল (এলএএইচআর) প্রকল্পের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল পিএমএল-এন প্রধান নওয়াজ শরিফ এবং তাঁর মেয়ে তথা পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের যৌথ সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লাহোরের যেসব ঐতিহাসিক কলেজকে বিগত বছরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা দিয়ে নামের শেষে ‘ইউনিভার্সিটি’ যুক্ত করা হয়েছিল, সেগুলোর নাম থেকে ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ শব্দটি বাদ দেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো আবার তাদের পুরোনো ও ঐতিহাসিক নামেই পরিচিত হবে।

এর মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী গভর্নমেন্ট কলেজ লাহোর (জিসিইউ), লাহোর কলেজ ফর উইমেন (এলসিডব্লিউইউ), ফোরম্যান ক্রিশ্চিয়ান কলেজ (এফসিসিইউ), কিং এডওয়ার্ড মেডিকেল কলেজ (কেইএমইউ), কিনিয়ার্ড কলেজ ফর উইমেন এবং ইউনিভার্সিটি অব হোম ইকোনমিক্স লাহোর। একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এই পদক্ষেপ।

বিগত কয়েক দশকে লাহোরের একাধিক ঐতিহাসিক রাস্তা, চক ও গলির নাম পরিবর্তন করে ইসলামি বা পাকিস্তানি ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের নামে রাখা হয়েছিল। ঐতিহ্য সংরক্ষণের স্বার্থে সেসব রাস্তা ও অঞ্চলের পুরোনো নাম (যার অনেকগুলোই ব্রিটিশ বা হিন্দু ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত) ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

কুইন্স রোড (বর্তমানে ফাতিমা জিন্নাহ রোড), জেল রোড (আল্লামা ইকবাল রোড), ডেভিস রোড (স্যার আগা খান রোড) এবং লরেন্স রোড (বাগ-ই-জিন্নাহ রোড) আবার তাদের আদি নামে ফিরবে।

এ ছাড়া কৃষ্ণ নগর (বর্তমান ইসলামপুরা), সন্তনগর (সুন্নত নগর), ধরমপুরা (মুস্তাফাবাদ), ব্র্যান্ডরেথ রোড (নিস্তার রোড), লক্ষ্মী চক (মাওলানা জাফর আলী খান চক) এবং রাম গলি (রহমান গলি) পুরোনো ঐতিহাসিক নাম ফিরে পাবে।

এমনকি জৈন মন্দির রোড (বাবরি মসজিদ চক) এবং কুমহারপুরা (গাজিয়াবাদ)-এর নামও আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের এত বড় আয়োজনের মধ্যেও লাহোরের ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে জমেছে ক্ষোভ। পূর্ববর্তী বৈঠকে মিন্টো পার্কের তিনটি ঐতিহাসিক ক্রিকেট মাঠ এবং ঐতিহ্যবাহী পালোয়ানদের কুস্তির ‘আখড়া’ পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হলেও, এবারের বৈঠকে এই বিষয়ে কোনো আলোচনাই করা হয়নি।

অখণ্ড ভারতের সময় থেকে শুরু করে পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের বহু কিংবদন্তি খেলোয়াড় এই মিন্টো পার্কের মাটিতেই তাঁদের ক্রিকেটের পাঠ নিয়েছিলেন। কিংবদন্তি ফজল মাহমুদ, আবদুল হাফিজ কার্দার, মুদাসসর নজর, সেলিম মালিক, আমির সোহেল এবং ইনজামাম-উল-হকের মতো ক্রিকেটাররা এখানে অনুশীলন করেছেন। দেশভাগের আগে ভারতের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক লালা অমরনাথও এই মাঠে খেলেছেন। ১৯৭৮ সালে ভারত দল পাকিস্তান সফরে এলে লালা অমরনাথ আবেগপ্রবণ হয়ে এই মিন্টো পার্কে তাঁর পুরোনো ক্লাব ‘ক্রিসেন্ট ক্লাব’-এর খেলোয়াড়দের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, ইতিপূর্বে শাহবাজ শরিফ মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন গ্রেটার ইকবাল পার্ক তৈরির নামে মিন্টো পার্কের এই ঐতিহাসিক ক্রিকেট মাঠ ও ঐতিহ্যবাহী কুস্তির আখড়াগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। উপমহাদেশের অবিসংবাদিত কুস্তিগির গামা পালোয়ান, ইমাম বক্স বা গুঙ্গা পালোয়ানদের স্মৃতিবিজড়িত এই আখড়াটি আজ বিলুপ্তির পথে। এগুলো নিয়ে স্থানীয় ক্রীড়ামহল পাঞ্জাব সরকারের উদাসীনতায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

ঐতিহাসিকেরা সরকারের এই নাম পুনরুদ্ধার ও ঐতিহ্য সংস্কারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, লাহোরের আসল প্রাণস্পন্দন খেলাধুলা ও পালোয়ানদের ঐতিহ্যকে বাদ দিয়ে এই পরিকল্পনা কতটা পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তথ্যসূত্র: দ্য ডন

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

চিকিৎসক দম্পতির সন্তানের মৃত্যু: ‘কল দিয়ে ডাক্তার আশীষ স্যারের পা ধরেছি, তাও তিনি আসবেন না’

কারিনা কায়সারের কবরে সাপ? ভাইরাল ভিডিওটি পুরোনো

মাহমুদ আহমেদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসাতে চেয়েছিল ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত, কর্মকর্তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত

কর্ণফুলীতে পশুর হাটের ৫ দিনের অনুমতি ঘিরে বিতর্ক

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত