
ইসলামাবাদের আকাশে ইতিমধ্যে ব্যস্ততা বেড়েছে। মার্গাল্লা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই শহরে অবতরণ করবে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদল বহনকারী বিশেষ বিমান। সম্ভাব্য প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট, মোতায়েন করা হয়েছে ১০ হাজারের বেশি নিরাপত্তা সদস্য এবং বন্ধ রাখা হয়েছে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলো।
মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ এক সংলাপের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে পাকিস্তান। ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই বৈঠক শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক রাজনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ডন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের জন্য এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক মুহূর্ত। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে—এক দশকের বেশি সময় পর এত উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করতে যাচ্ছে। তবে ইতিহাস বলছে, এই প্রথম নয়—এর আগেও বহুবার ওয়াশিংটনের শীর্ষ নেতৃত্ব পাকিস্তানের মাটিতে পা রেখেছে এবং প্রতিবারই তা ছিল গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহনকারী।
১৯৫৯ সালের ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৪তম প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার করাচি সফর করেন। সে সময় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জেনারেল আইয়ুব খান। এই সফর ঘিরে পুরো করাচি শহর সাজানো হয়েছিল নতুন করে—রাস্তাঘাট সংস্কার, আলোকসজ্জা, এমনকি দরিদ্র এলাকার দুর্গন্ধ ঢাকতে বিদেশ থেকে সুগন্ধি এনে ছিটানো হয়েছিল। এই সফরের পর পাকিস্তান উল্লেখযোগ্য সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা লাভ করে, যা দেশটির জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৯৬১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন পাকিস্তান সফর করেন। সেবার করাচির রাস্তায় এক উটের গাড়ির চালক বশির আহমেদের সঙ্গে তাঁর আকস্মিক সাক্ষাৎ পরবর্তীকালে এক অনন্য বন্ধুত্বে রূপ নেয়। এই ঘটনা পাকিস্তানের জনজীবনে একটি জনপ্রিয় গল্প হিসেবে স্থান পায়।
১৯৬৯ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন পাকিস্তান সফর করেন এক বিশেষ কূটনৈতিক মিশনে। সে সময় তিনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে ব্যবহার করেন চীনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে। পাকিস্তানের এই ভূমিকাই পরবর্তীকালে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে সহায়তা করে।
১৯৮৪ সালে তৎকালীন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ পাকিস্তান সফর করেছিলেন এবং জেনারেল জিয়াউল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে আফগানিস্তানে চলমান সোভিয়েত আগ্রাসন এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধসহ বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক বিষয় উঠে আসে।
২০০০ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন পাকিস্তান সফর করেন, যা ছিল ৩০ বছরের মধ্যে প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফর। তবে এই সফর ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। ক্লিনটন পাকিস্তানের তখনকার সামরিক শাসক পারভেজ মোশাররফের সঙ্গে প্রকাশ্যে করমর্দন বা ছবি তোলা থেকে বিরত ছিলেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি একটি শক্ত বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। একই সফরে ক্লিনটন সরাসরি পাকিস্তানের জনগণের উদ্দেশে টেলিভিশনে ভাষণ দেন, যা কূটনৈতিক প্রটোকল ভেঙে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
২০০৫ ও ২০০৭ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি পাকিস্তান সফর করেন। বিশেষ করে ২০০৭ সালের সফরটি ছিল পূর্বঘোষণা ছাড়াই, যেখানে তিনি সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন।
২০০৬ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ গভীর রাতে গোপনে পাকিস্তানে পৌঁছান। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠিত এই সফরে তিনি সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং ভূমিকম্প-পরবর্তী সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেন। সফরের একটি আকর্ষণীয় দিক ছিল—তিনি ইসলামাবাদে এক ক্রিকেট প্রশিক্ষণে অংশ নেন এবং পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খেলাধুলায় যুক্ত হন।
সর্বশেষ, ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় জো বাইডেন ২০০৯ ও ২০১১ সালে পাকিস্তান সফর করেন। প্রথম সফরে তিনি পাকিস্তানকে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে আখ্যা দেন এবং হিলাল-ই-পাকিস্তান পদক লাভ করেন। তবে দ্বিতীয় সফরে তিনি কঠোর বার্তা নিয়ে আসেন—বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ, আফগানিস্তান পরিস্থিতি এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে।
এই দীর্ঘ ইতিহাস প্রমাণ করে, পাকিস্তান বহুবার বৈশ্বিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এবারও ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ সেই ধারাবাহিকতারই নতুন অধ্যায় হতে যাচ্ছে; যার ফল নির্ধারণ করতে পারে মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্বের রাজনৈতিক গতিপথ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘ইরাকে খুব বাজে কাজ করেছে’ এবং ‘মার্কিন বাহিনীর বাগদাদে বা ইরানে যাওয়া উচিত হয়নি।’ মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই কথা বলেন।
২৪ মিনিট আগে
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছে বিজেপি। এর ফলে, দলটির ভাষায় ‘ডাবল ইঞ্জিনের সরকার’ গঠিত হয়েছে রাজ্যটিতে। অর্থাৎ কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় স্তরেই বিজেপি ক্ষমতায়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ভারতের অন্যতম রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল ইস্যু দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
১ ঘণ্টা আগে
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদীর ওপারে অগ্রসর হয়েছে। পাশাপাশি তারা দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ শহর নাবাতিয়েহকে ঘিরে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
২ ঘণ্টা আগে
পাকিস্তান ও চীনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত জেনারেল এন এস রাজা সুব্রামানি আজ রোববার ভারতের নতুন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর প্রধান দায়িত্ব হবে উচ্চাকাঙ্ক্ষী সামরিক থিয়েটারাইজেশন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা।
২ ঘণ্টা আগে