
অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে ফিলিস্তিনি জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ ‘গিলো’ বসতিকে আরও বড় করার জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ২ হাজার ৩০০টি নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। জেরুসালেমের বিষয়াবলি নিয়ে কাজ করা ইসরায়েলের একটি অলাভজনক সংস্থা ইর আমিম গতকাল বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে। খবর তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর।
ইর আমিম সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই প্রকল্প কার্যকর হলে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেম থেকে পূর্ব জেরুসালেম আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। সংস্থাটির মতে, ইসরায়েলের ‘অনুপস্থিত সম্পত্তি আইন’-এর অধীনে বাজেয়াপ্ত করা ফিলিস্তিনি জমিতেই এই নতুন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত অন্তত ২৮ ডুনাম (৬ দশমিক ৯ একর) জমি ফিলিস্তিনি মালিকদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করে ‘রাষ্ট্রীয় জমি’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল, যা এখন এই বসতি সম্প্রসারণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে—বাজেয়াপ্ত জমির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে, কারণ পরিকল্পনার অধীনে থাকা কয়েক ডজন দুনাম জমির মালিকানা এখনও’ অজ্ঞাত’ হিসেবে ধরে রাখা হয়েছে। নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থানটিতে বহু প্রাচীন গাছসহ বিশাল জলপাই বাগান রয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত মালিকানার সাক্ষ্য দেয়। গাছগুলোর কোন কোনোটির বয়স কয়েক দশক। সংস্থাটির দাবি, প্রকল্পের কাজ শুরু হলে এই গাছগুলো সম্ভবত উপড়ে ফেলা হবে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল ‘অনুপস্থিত সম্পত্তি আইন’ অনুসারে পশ্চিম তীরের ‘সি’—ক্যাটাগরিভুক্ত অঞ্চলে থাকা জমি রাষ্ট্রের নামে নিবন্ধন করার প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল। ফিলিস্তিনিরা দাপ্তরিক দলিলের মাধ্যমে মালিকানা প্রমাণ করতে না পারলে এই আইনের মাধ্যমে সেসব জমি রাষ্ট্রের নামে নিবন্ধনের সুযোগ পায় ইসরায়েল।
বহু ফিলিস্তিনি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে উত্তরাধিকার সূত্রে জমির মালিক হলেও তাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বত্ব দলিল নেই। বিশেষ করে ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করার পর অটোমান, ব্রিটিশ ম্যান্ডেট ও জর্ডানীয় প্রশাসনের আমল থেকে চলে আসা জমি নিবন্ধনের নিয়ম স্থগিত করে দেয়।
‘উপনিবেশ ও দেয়াল প্রতিরোধ কমিশন’-এর আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের প্রধান হাসান ব্রেজিয়া এর আগে আনাদোলুকে বলেছিলেন, এই পদক্ষেপটি প্রকৃতপক্ষে ‘ফিলিস্তিনি জমি খাস করা এবং রাষ্ট্রের নামে তা নিবন্ধন করার কৌশল, যা পরবর্তীতে ইসরায়েলি দখলদারদের হাতে তুলে দেওয়ার পথ তৈরি করবে।’ তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এটি পশ্চিম তীরের অনিবন্ধিত বিশাল এলাকার জমিনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
জুন মাসের শেষের দিকে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মতরিচ পশ্চিম তীরে বসতি নির্মাণ ত্বরান্বিত করার ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর সরকার ইতোমধ্যে ১৬০টি ফার্ম তৈরি করেছে এবং ১০০ টিরও বেশি নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে।
জাতিসংঘসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ মনে করে। তাদের মতে, এটি দ্ব রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ইসরায়েলের ‘পিস নাও’ আন্দোলনের হিসেব অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে প্রায় ৫ লাখ বসতি স্থাপনকারী বাস করছে। এছাড়া পূর্ব জেরুসালেমের বিভিন্ন বসতিতে রয়েছে আরও প্রায় আড়াই লাখ ইসরায়েলি।
ফিলিস্তিনিরা বলছেন—এসব প্রকল্প মূলত একটি দ্রুতগতির ইসরায়েলি নীতিরই অংশ, যার মূল লক্ষ্য বসতি বাড়ানো, জমি দখল করা এবং ভূমিতে নিজেদের আধিপত্য জোর করে চাপিয়ে দেওয়া।

যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক গোলাবারুদের ঘাটতি দেখা দিয়েছে—এমন প্রতিবেদন অস্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, দেশটির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, যারা এ ধরনের তথ্য ফাঁস করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩ ঘণ্টা আগে
ঝাড়খণ্ডে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ১২ দিন আগে শুরু হলেও তা এখন ব্যাপক আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। রাজধানী রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে চলমান অবস্থান কর্মসূচিতে এখন শত শত শিক্ষার্থী যোগ দিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
৪ ঘণ্টা আগে
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলা সত্ত্বেও ইরান বিরুদ্ধে ইসরায়েল একতরফা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর এজেন্সির প্রতিবেদনে এমনটি জানানো হয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরান ও ওমানের মধ্যে প্রস্তাবিত এক চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি হয়ে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ রাখা হয়েছে। গতকাল বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা...
৬ ঘণ্টা আগে