Ajker Patrika

‘সিরীয়দের বিরুদ্ধে অপরাধের’ অভিযোগে বাশার আল-আসাদের খালাতো ভাইয়ের বিচার শুরু

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৬: ৫৭
‘সিরীয়দের বিরুদ্ধে অপরাধের’ অভিযোগে বাশার আল-আসাদের খালাতো ভাইয়ের বিচার শুরু
আদালতের খাচায় আতেফ নাজিব। ছবি: এএফপি

সিরিয়ার জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের খালাতো ভাই সাবেক ব্রিগেডিয়ার আতেফ নাজিবের বিচার শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার দামেস্কের একটি আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিচারকাজ শুরু হয়। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

দামেস্কের কেন্দ্রস্থলে আল-হামিদিয়াহ সুকের কাছে প্যালেস অব জাস্টিসের আদালতকক্ষে একটি লোহার খাঁচায় রাখা হয় আতেফ নাজিবকে। গতকাল রোববার বেলা প্রায় ১১টার দিকে আতেফ নাজিবকে সেখানে আনা হয়। এ সময় কোনো অভিব্যক্তি ছিল না মুখে। পরনে বাদামি ডোরাকাটা কারাবন্দির পোশাকে তাঁকে সেই লোহার খাঁচায় বসানো হয়।

বাশার আল-আসাদ রেজিমের সাবেক নিরাপত্তা প্রধান নাজিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১১ সালের সিরিয়ার গণ-আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। তিনি ‘সিরীয় জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ’ করেছেন বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিচারকক্ষে তাঁর সামনে ঝোলানো হয়েছিল ১৩ বছর বয়সী হামজা আল-খতিবের ছবি। এই হামজার মৃত্যু সিরিয়ার বিদ্রোহ শুরু অন্যতম কারণ। তিনি সিরিয়ার বিদ্রোহের শুরুর দিনগুলোর প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। ২০১১ সালের মার্চে আরব বসন্তের প্রেক্ষাপটে দেরা শহরের একটি স্কুলের দেয়ালে কিছু কিশোর সরকারবিরোধী স্লোগান লিখেছিল। এর মধ্যে একটি স্লোগান ছিল ‘ডাক্তার সাহেব, এবার আপনার পালা।’ মূলত চোখের ডাক্তার হিসেবে প্রশিক্ষণ নেওয়া বাশার আল-আসাদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছিল।

সেই দেয়াললিখনের পর কয়েকটি শিশুকে আটক করে কারাগারে নির্যাতন করা হয়। আর সেটিই প্রথম সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সূচনা ঘটায়। সে সময় দেরায় ব্যাপক দমন অভিযান ও গ্রেপ্তারের দায়িত্বে ছিলেন নাজিব। আদালতকক্ষে এক তরুণী হামজার ছবি তুলে ধরেন। ভুক্তভোগীদের পরিবারগুলো এই মুহূর্তকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে আখ্যা দেন। এ সময় ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা স্লোগান দেন—‘শহীদেরাই নায়ক। আতেফ, তুমি কুকুর।’

দেরার রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক প্রধান আতেফ নাজিব ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সিরিয়ার উপকূলে গ্রেপ্তার হওয়া প্রথম দিকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একজন। সরকার পতনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরই তাঁকে আটক করা হয়। এর পর থেকেই তাঁর বিচারের অপেক্ষায় ছিল ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

এই বিচার এমন সময়ে হচ্ছে, যখন সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ দেখাতে চাইছে যে ‘ট্রানজিশনাল জাস্টিস’ বা অন্তর্বর্তীকালীন বিচারপ্রক্রিয়া এগোচ্ছে। এর দুই দিন আগে, ২০১৩ সালের তাদামোন গণহত্যার প্রধান সন্দেহভাজন আমজাদ ইউসুফকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ঘটনায় প্রায় ৩০০ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। সে সময়ের ফুটেজে দেখা যায়, তিনি মানুষকে গুলি করে একটি গর্তে ফেলে দিচ্ছেন। ইউসুফের গ্রেপ্তারের খবর ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিম সিরিয়ার হামা প্রদেশের আল-গাব সমভূমি এলাকায়, তাঁর নিজ শহরের কাছে গ্রেপ্তারের ভিডিও প্রকাশ করে।

২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর বাশার ক্ষমতাচ্যুত হন এবং সেদিন থেকেই সিরীয়রা আসাদের সরকারের সময় সংঘটিত অপরাধগুলোর বিচার দাবি করে আসছে। তবে ১৪ বছরের যুদ্ধে বিধ্বস্ত এই দেশে বিচারপ্রক্রিয়া এখনো ধীরগতির।

রোববার আদালতকক্ষে আবেগ তুঙ্গে ওঠে। দামেস্কের পাবলিক প্রসিকিউটর হোসাম খাতাব বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন বিচার তাঁকে (নাজিব) দিয়েই শুরু হচ্ছে। রাষ্ট্র ও বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবাদকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়ে তিনিই প্রথম ফেরাউন হয়ে উঠেছিলেন।’ মূলত, সিরিয়ায় দমন-পীড়নের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহার করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এটাই প্রথম নয়, শেষও নয়। আমরা তাদের সবাইকে খুঁজে বের করব।’

প্রসিকিউটর বিচারাধীন ১০ জন সন্দেহভাজনের তালিকা ঘোষণা করেন। প্রথম নামটি ছিল বাশার আল-আসাদের। এরপর তাঁর ভাই মাহের আল-আসাদ, যিনি সিরীয় সেনাবাহিনীর এলিট ইউনিট চতুর্থ সাঁজোয়া ডিভিশনের কমান্ডার ছিল, বাশারের আরেক আত্মীয় ওয়াসিম আল-আসাদ, সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আহমেদ বাদরেদ্দিন হাসসুন। এ ছাড়া, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গ্রেপ্তার হওয়া সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নামও উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, রাশিয়ায় পালিয়ে গেছেন এবং তার অনুপস্থিতিতেই বিচার করা হবে। রোববারের শুনানিতে বিচারক নাজিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি। শুনানিটি মূলত প্রশাসনিক ও আইনি প্রস্তুতিমূলক প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে ১০ মে। সিরিয়ায় এখনো মৃত্যুদণ্ড বহাল। তবে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ এবং ‘যুদ্ধাপরাধ’ ধারণাগুলো এখনো সিরিয়ার জাতীয় আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

বাশারের বাহিনীর অভিযানে নিহত এক তরুণের মা ওয়ারদা বিশ্বাস করেন একদিন নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দিন। আল্লাহ তাকে খাঁচায় ঢুকিয়েছেন। আমরা আশা করি বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।’

২০১১ সালের মার্চের শেষদিকে আল-ওমারি মসজিদের আশপাশে কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি চলছিল। নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে প্রবেশ করে টিয়ার গ্যাস ও সরাসরি গুলি ব্যবহার করে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করে। এতে ডজনখানেক মানুষ নিহত হন। ওয়ারদার ছেলে সেদিন হেঁটে যাওয়ার পথেই গুলিতে নিহত হন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী খুন: মিথ্যা জবানবন্দি দিয়ে ধরা খেল খুনি, প্রকাশ্যে রোমহর্ষক তথ্য

ময়মনসিংহ মহানগর পুলিশ গঠনসহ ৭ দাবি পুলিশের

‘স্বামী আমাকে না রাখলেও সমস্যা নেই, সন্তানকে ফেলব না’

৩ দিনের মধ্যে বিস্ফোরিত হতে পারে ইরানের তেল অবকাঠামো: ট্রাম্প

১৮ মাস আরামে ছিলেন, সেটা এখন হচ্ছে না: বিরোধী দলকে নৌ প্রতিমন্ত্রী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত