Ajker Patrika

হরমুজে গুলি চালিয়ে ইরানি কার্গো জাহাজ দখল করল মার্কিন বাহিনী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮: ৪৭
হরমুজে গুলি চালিয়ে ইরানি কার্গো জাহাজ দখল করল মার্কিন বাহিনী
হরমুজ প্রণালিতে গুলি চালিয়ে ইরানি পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ দখল করে নিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধের অংশ হিসেবে পারস্য উপসাগরে ইরানের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ আটক করেছে। এমনটাই দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, মার্কিন বাহিনীর নৌযান থেকে থামার সংকেত ও সতর্কতা উপেক্ষা করে ইরানি কার্গো জাহাজটি। পরে মার্কিন নৌবাহিনী তুসকা নামক জাহাজটি জব্দ করে জোরপূর্বক। অন্যদিকে ইরান বলেছে, এটি যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন এবং এই ‘সশস্ত্র জলদস্যুতার’ জন্য তারা শিগগিরই পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।

হোয়াইট হাউস যখন নিশ্চিত করেছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আবারও একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন, ঠিক তখনই এই ঘোষণা এল। তেহরান এখনো আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন অবরোধ বহাল থাকা অবস্থায় দেশটির কর্মকর্তারা এই আলোচনায় অংশ নেবেন না।

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আজ তুসকা নামের একটি ইরানের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ—যা প্রায় ৯০০ ফুট লম্বা এবং ওজনে প্রায় একটি রণতরির সমান—আমাদের নৌ অবরোধ অতিক্রম করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তাদের সেই চেষ্টা সফল হয়নি।’

তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন বাহিনী জাহাজটিকে থামার জন্য যথেষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছিল। কিন্তু তারা তা উপেক্ষা করে। ট্রাম্প বলেন, ‘তাই আমাদের নৌবাহিনীর জাহাজ তাদের ইঞ্জিন রুমে একটি ছিদ্র তৈরি করে দিয়ে জাহাজটিকে মাঝপথেই থামিয়ে দিয়েছে।’ ট্রাম্প যোগ করেন, ‘অবৈধ কর্মকাণ্ডের পূর্ব ইতিহাসের কারণে তুসকা জাহাজটি মার্কিন ট্রেজারি নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। জাহাজটি এখন আমাদের পূর্ণ হেফাজতে আছে এবং আমরা দেখছি এর ভেতরে কী আছে!’

পরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) একটি ভিডিও প্রকাশ করে। দেখা যায়—মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ একটি কার্গো জাহাজকে জোরপূর্বক আটকাচ্ছে। ফুটেজে মার্কিন বাহিনীর জাহাজ থেকে ইরানি কার্গো জাহাজের দিকে গুলি ছুড়তেও দেখা গেছে।

এদিকে, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের শীর্ষ সামরিক সদর দপ্তর খাতামুল আম্বিয়ার এক মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ওমান সাগরের জলসীমায় ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়েছে, এর নেভিগেশন সিস্টেম বিকল করে দিয়েছে এবং মেরিন সেনা পাঠিয়ে জাহাজটি দখল করেছে।’ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন নৌবাহিনীর এই সশস্ত্র জলদস্যুতার জন্য শিগগিরই জবাব দেবে এবং প্রতিশোধ নেবে।’

ট্রাম্প শুক্রবার বলেছিলেন, দুই দেশের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের শুরু হয় এবং পাঁচ সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে দফায় দফায় হামলা চলার পর দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত