Ajker Patrika

এপস্টেইন-যোগ, চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে আলোচিত সেই ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রধানের পদত্যাগ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
এপস্টেইন-যোগ, চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে আলোচিত সেই ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রধানের পদত্যাগ
ডিপি ওয়ার্ল্ড থেকে পদত্যাগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী সুলতান আহমেদ বিন সুলাইয়েম। ছবি: বিবিসি

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের ইজারা দেওয়া নিয়ে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে আলোচিত দুবাইভিত্তিক বন্দর ও লজিস্টিকস কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ড। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী বন্দর পরিচালনাকারী এই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী সুলতান আহমেদ বিন সুলাইয়েম পদত্যাগ করেছেন। দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ইমেইল যোগাযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।

মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক নতুন প্রকাশিত এপস্টেইন নথিতে দেখা গেছে, এক দশকের বেশি সময় ধরে সুলাইয়েম ও এপস্টেইনের মধ্যে শত শত ইমেইল আদান–প্রদান হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সুলাইয়েমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বিবিসি।

শুক্রবার ডিপি ওয়ার্ল্ড ঘোষণা দেয়—এসা কাজিমকে কোম্পানির চেয়ারম্যান এবং যুবরাজ নারায়ণকে প্রধান নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কোম্পানির বিবৃতিতে সুলাইয়েমের নাম উল্লেখ করা হয়নি; এমনকি তাদের ওয়েবসাইট থেকেও দুবাইভিত্তিক এই ব্যবসায়ীর ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

দুবাই সরকারের মালিকানাধীন এই লজিস্টিকস জায়ান্ট ছয় মহাদেশে বন্দর টার্মিনাল পরিচালনা করে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই প্রতিষ্ঠানের ওপর অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর চাপও বাড়ছিল। যুক্তরাজ্যের উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থা ও কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম পেনশন তহবিল ‘লা কাইস’ নতুন বিনিয়োগ স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এ ছাড়া প্রিন্স অব ওয়েলসের আর্থশট প্রকল্প, যা ডিপি ওয়ার্ল্ডের অর্থায়ন পেয়েছিল, সেটিও যুক্তরাজ্যের চ্যারিটি কমিশনে অভিযোগের মুখে পড়ে।

সুলাইয়েমকে এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয় প্রভাবশালী ব্যক্তির একজন বলে উল্লেখ করেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রো খান্না ও থমাস ম্যাসিই। তাঁদের দাবি, ২০০৯ সালের একটি ইমেইলে ‘টর্চার ভিডিও’ প্রসঙ্গের উল্লেখ ছিল, যার প্রাপক হিসেবে পরে সুলাইয়েমের নাম সামনে আসে।

বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকেই এপস্টেইনের সঙ্গে সুলাইয়েমের যোগাযোগ ছিল। ভ্রমণ পরিকল্পনা, ব্যবসায়িক ধারণা, এমনকি দুবাই থেকে ‘ইসলামিক’ ডিজিটাল মুদ্রা চালুর প্রস্তাব নিয়েও দুজনের আলোচনা হয়েছে। ২০১৩ সালের এক ইমেইলে সুলাইয়েমকে ‘সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধুদের একজন’ বলে উল্লেখ করেন এপস্টেইন।

বহু ইমেইলে তাঁদের মধ্যে নারী–সম্পর্কিত আলাপও উঠে এসেছে। তবে এসবের প্রেক্ষাপট সব সময় পরিষ্কার নয়। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার ম্যানডেলসনের সঙ্গে যোগাযোগে এপস্টেইন মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছিলেন বলেও নথিতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। লন্ডন গেটওয়ে বন্দর প্রকল্পে সমর্থন আদায়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল। তবে ম্যান্ডেলসনের কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নথিতে আরও দেখা যায়, সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ইহুদ বারাক, ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সুলাইয়েমের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন এপস্টেইন। এমনকি ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ গ্রহণ করা উচিত কি না, এপস্টেইনের কাছে সে পরামর্শও চেয়েছিলেন সুলাইয়েম।

এপস্টেইন ২০১৯ সালে বিচারাধীন অবস্থায় কারাগারে আত্মহত্যা করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত