
আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে ইসরায়েলের দুটি প্রধান আরব রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি ইউনাইটেড আরব লিস্ট বা রা’আম (Ra’am) এবং জয়েন্ট লিস্টকে (Joint List) নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে অযোগ্য ঘোষণা করার পক্ষে ভোট দিয়েছে। একই সঙ্গে হাদাশের আইনপ্রণেতা ওফের কাসিফ এবং বালাদের নেতা সামি আবু শেহাদেহকেও নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, তবে এসব সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়। ব্যক্তিগত প্রার্থীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন। আর রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী তালিকা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে। দল ও প্রার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী আইনি সংস্থা আদালাহ জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হলে তারা এসব নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানাবে।
রা’আমের নেতৃত্বে রয়েছেন মানসুর আব্বাস। আর জয়েন্ট লিস্ট হলো আরব নেতৃত্বাধীন হাদাশ, তা’আল ও বালাদ দলের জোট। রা’আম তাদের নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে ‘রাজনৈতিক ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছে। দলটির অভিযোগ, ক্ষমতার ভারসাম্যে তাদের প্রভাব ঠেকানো এবং সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা রোধ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জয়েন্ট লিস্টের অভিযোগ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির আরব নাগরিকদের ভোট দেওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করতে চাইছেন। দলটি বলেছে, তারা ‘গণহত্যা ও বর্ণবাদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার’ ক্ষেত্রে আরব ভোটের ভূমিকা নিয়ে ভয় পাচ্ছেন।
জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন প্রশ্ন তুলেছেন, ১২ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটারের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে কীভাবে নির্বাচন কমিটি নিষিদ্ধ করতে পারে।
আবু শেহাদেহ আল জাজিরাকে বলেছেন, তাঁকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ সরকারের নীতির সমালোচনা বন্ধ করার চেষ্টা। তিনি জানান, আদালতে এবং জনবিক্ষোভের মাধ্যমে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে। সহিংসতা বা সন্ত্রাসবাদ সমর্থনের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন আবু শেহাদেহ। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্য টাইমস অব ইসরায়েলকে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো সহিংসতা বা সন্ত্রাসবাদের আহ্বান জানাইনি। আমি সশস্ত্র সংগ্রামের বিরোধী।’
দল ও প্রার্থীদের নিষিদ্ধ করার আবেদনে ‘বেসিক ল: দ্য নেসেটের ৭ এ’–ধারা ব্যবহার করা হয়েছে। এই আইনের অধীনে কোনো দল বা প্রার্থীকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা যায়, যদি তারা ইসরায়েলের অস্তিত্বকে ‘ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র’ হিসেবে অস্বীকার করে, বর্ণবাদে উসকানি দেয় অথবা কোনো শত্রু রাষ্ট্র কিংবা সন্ত্রাসী সংগঠনের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামকে সমর্থন করে।
নেতানিয়াহুর লিকুদ দল জয়েন্ট লিস্ট ও কাসিফকে নিষিদ্ধ করার আবেদন করেছে এবং রা’আমের বিরুদ্ধেও করা আবেদনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। বেন-গভিরের ওৎজমা ইয়াহুদিত দল আবু শেহাদেহকে নিষিদ্ধ করার আবেদন করেছে।
আরব দলগুলোর আইনি প্রতিনিধি আদালাহ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটি বলেছে, রা’আম সশস্ত্র সংগ্রামকে সমর্থন করে এমন কোনো প্রমাণ মামলায় নেই। জয়েন্ট লিস্টের বিরুদ্ধে করা আবেদনে পুরোনো নথি, এমনকি আগের নেসেটগুলোর সময়ে প্রস্তাব করা বিলের ওপরও ব্যাপকভাবে নির্ভর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
আবু শেহাদেহর ক্ষেত্রে অবশ্য বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারাভ-মিয়ারা অন্য অভিযুক্ত দল ও প্রার্থীদের নিষিদ্ধ করার কোনো আইনি ভিত্তি খুঁজে পাননি। তবে তিনি বলেন, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর আবু শেহাদেহ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের প্রতি সমর্থন থাকতে পারে এবং বিষয়টি গুরুতরভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
এরপর নির্বাচন কমিটি ৩১-৪ ভোটে আবু শেহাদেহকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে আদালাহ বলেছে, ওই নিবন্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের পক্ষে কোনো আহ্বান নেই। আবু শেহাদেহকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেতানিয়াহুর জোটের বাইরের দলগুলোরও সমর্থন পেয়েছে। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, বিরোধী দলগুলো তার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। নির্বাচনী কমিটির চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোয়াম সোহলবার্গও তাকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে ভোট দেন।
এই ভোট কয়েক দশকের প্রচলিত রীতির ব্যতিক্রম। এর আগে নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যানরা কোনো দল বা প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণার ভোটে সাধারণত বিরত থাকতেন। আবু শেহাদেহকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে এখনো পূর্ণাঙ্গ সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন।
২০২১ সালে নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বে গঠিত জোট সরকারে রা’আম যোগ দিয়েছিল। এর মাধ্যমে নেতানিয়াহুর টানা ১২ বছরের ক্ষমতার অবসান ঘটে। যদিও এর আগে মানসুর আব্বাস নেতানিয়াহুর সঙ্গেও সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন।
এবার নেতানিয়াহুর লিকুদ দলই আরব রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের বিরুদ্ধে আবেদন করেছে। একই সঙ্গে বেন-গভিরের দলও আলাদাভাবে আরব প্রার্থীকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর জনমত জরিপে জয়েন্ট লিস্ট সাতটি এবং রা’আম পাঁচটি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। নেতানিয়াহুর বর্তমান জোটভুক্ত দলগুলো পেতে পারে ৫০টি আসন।
তবে আরব দল দুটির সম্ভাব্য ১২টি আসন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেতানিয়াহুর বিরোধীদের সমর্থন করবে না। মূলধারার বিরোধী দলগুলোর মধ্যে আরব সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করা হবে কি না, তা নিয়ে বিভক্তি রয়েছে। কিন্তু দুই দলকেই নির্বাচনের বাইরে রাখা হলে ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের সম্ভাব্য সমীকরণ বদলে যাবে।
এর আগে সুপ্রিম কোর্ট আরব দল ও প্রার্থীদের নিষিদ্ধ করার নির্বাচন কমিটির সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে। ২০২২ সালে বালাদকে নির্বাচনের বাইরে রাখার সিদ্ধান্তও আদালত বাতিল করেছিল। এবার সুপ্রিম কোর্টকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব করতে চাওয়া রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টকে নির্বাচনে নিষিদ্ধ করার জন্য উপস্থাপিত প্রমাণগুলো আইনি সীমা পূরণ করে কি না। আদালতের রায়ই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে, আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে এসব দল ও প্রার্থীরা ব্যালটে থাকতে পারবেন কি না।

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান তাদের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এক জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবে। ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতিদের হামলার মধ্যে সৌদি আরবকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হবে। এদিকে ইরান হুতিদের দ্রুত অগ্রযাত্রা থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করেছে।
১ ঘণ্টা আগে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) এবারের অধিবেশনে থাকছেন না বিশ্বের দুই বড় দেশের নেতা—ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। মোদি টানা দ্বিতীয় বছরের মতো সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন না। অন্যদিকে, ১৫ বছরের মধ্যে এই প্রধম কোনো ইতালীয় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের
৪ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের প্রায় ৩৮ হাজার কর্মীর অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করার দাবি করেছে ‘সাইনিহান্টার্স’ (ShinyHunters) নামের একটি আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী। এই চাঞ্চল্যকর দাবির পর ঘটনাটির বিস্তৃত ও গভীর তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন সংস্থাটি।
৫ ঘণ্টা আগে
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে একের পর এক অনিয়মের নতুন অভিযোগ ওঠায় আবারও বিশ্বাসযোগ্যতার সংকটের মুখে পড়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। বিশ্বের কথিত সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের অন্যতম বিশ্বস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত তিন সদস্যের এই কমিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ ক
৫ ঘণ্টা আগে