আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট ইসরায়েলকে তছনছ করে দেবে: নেতানিয়াহু

ইসরায়েলে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন দেশটিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গতকাল শনিবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, এ ধরনের জোট ইসরায়েলের পতন ঘটাবে।
এদিকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। এ সিদ্ধান্ত ঘোষণার ঠিক আগে নেতানিয়াহু এ মন্তব্য করেন।
সাবেক সামরিক প্রধান ও রাজনীতিতে নবাগত গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ধর্মনিরপেক্ষ ও উদারপন্থী ইসরায়েলিদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছে। এ জোট একসময় অসম্ভব বলে বিবেচিত অতি-গোঁড়া ইহুদিদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার পথও খুলে দিয়েছে।
এর ফলে আইজেনকটের সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনসংখ্যা নিশ্চিত হতে পারে। এমন একটি জোটে মধ্যপন্থী ইসলামপন্থী দল রামও যুক্ত হতে পারে। দলটির নেতা ইসরায়েলকে ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। পাশাপাশি আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দল জয়েন্ট লিস্ট বাইরে থেকে এ সরকারকে সমর্থন দিতে পারে।
আগে থেকে ধারণ করা এক ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসলামপন্থীদের ওপর নির্ভরশীল এমন সরকার ভেতর থেকে ইসরায়েল রাষ্ট্রকে তছনছ করে ফেলবে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যেমনটি ঘটছে, তার চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে।’ তাঁর এ বক্তব্যে ইউরোপের উগ্র ডানপন্থী রাজনীতিকদের ব্যবহৃত ভাষার প্রতিফলন দেখা গেছে। ওই রাজনীতিকেরা দাবি করেন, ইউরোপের কিছু অংশে ইসলামি আইন চালু হয়ে গেছে।
গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে কোনো পক্ষই পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী শাসনে গভীরভাবে বিভক্ত ইসরায়েল টানা তিন বছরের যুদ্ধেও ক্লান্ত।
বৃহস্পতিবার সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রেসিডেন্ট হারজগ বলেন, নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব আইজেনকটকে দেওয়াই যুক্তিসংগত হবে। কারণ, পার্লামেন্টের ৬৭ জন সদস্যের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো আইজেনকটের পক্ষে সুপারিশ করেছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর জোটের পক্ষে সুপারিশ এসেছে ৪৬ জন আইনপ্রণেতার কাছ থেকে।
নতুন সরকার গঠনের জন্য একজন প্রার্থী বেছে নেওয়ার দায়িত্ব প্রেসিডেন্টের। তিনি দুই শিবিরের ইহুদি ইসরায়েলিদের নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে চান বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। গতকাল শনিবার নেতানিয়াহু আবারও জাতীয় ঐক্যের সরকারের প্রতি সমর্থন জানান।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি। এ সরকারে জাতীয় শিবিরের সব দল এবং আমাদের রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে চায়, এমন সব জায়নবাদী দল থাকবে। এটিই ইহুদি জনগণের একমাত্র রাষ্ট্র।’
তবে সাম্প্রতিক আরেকটি ভাষণের মতো এবার তিনি এমন দাবি করেননি যে ওই জোট সরকারের নেতৃত্ব তাঁকেই দিতে হবে।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের জবাবে আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি তাঁর মিত্রদের এবং নিজ দল লিকুদের সদস্যদের আইজেনকটের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইয়াশার পার্টি লিখেছে, ‘লিকুদ ও তাদের মিত্ররা যদি হঠাৎ “ঐক্য” এবং বৃহত্তর সরকার গঠনে আগ্রহী হয়ে থাকে, তাহলে তারা প্রকাশ্যে উগ্রপন্থীদের সঙ্গে তাদের জোট ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিতে পারে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেওয়ার আগ্রহও জানাতে পারে।’









