Ajker Patrika

হরমুজ দিয়ে চলবে বাংলাদেশসহ ৬ বন্ধু দেশের জাহাজ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৬, ১৬: ১১
হরমুজ দিয়ে চলবে বাংলাদেশসহ ৬ বন্ধু দেশের জাহাজ
হরমজু প্রণালি হয়ে বাংলাদেশসহ ৬ দেশের জাহাজ চলতে পারবে বলে জানিয়েছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আরোপিত যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্রতর হচ্ছে, তারই মধ্যে বড় কূটনৈতিক সাফল্যের দাবি করেছে ইরান। দেশটি বলেছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশের জন্য খোলা থাকবে। পারস্য উপসাগরের সরু মুখ হিসেবে পরিচিত এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে এই পথ কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে কথা বলতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, পশ্চিমা গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ নয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনের কথা জানিয়ে এনডিটিভি বলেছে, আরাঘচি বলেছেন—‘অনেক জাহাজের মালিক বা যেসব দেশের মালিকানায় এসব জাহাজ রয়েছে, তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের নিশ্চয়তা চেয়েছে। কিছু দেশকে আমরা বন্ধুসুলভ মনে করি, অথবা অন্য কারণে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এসব ক্ষেত্রে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিরাপদ পথ করে দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘খবরে আপনারা দেখেছেন—চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারত। কয়েক রাত আগে ভারতের দুটি জাহাজ পার হয়েছে। আরও কিছু দেশ, এমনকি বাংলাদেশও, আমার বিশ্বাস। এসব দেশ আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে এবং সমন্বয় করেছে। ভবিষ্যতেও এটি চলবে, এমনকি যুদ্ধের পরেও।’

আরাঘচি ইঙ্গিত দেন, যেসব দেশকে শত্রু হিসেবে দেখা হয় বা চলমান সংঘাতে জড়িত, তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজকে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং বর্তমান সংকটে ভূমিকা রাখা কিছু উপসাগরীয় দেশের জাহাজকে প্রণালি অতিক্রমের ছাড়পত্র দেওয়া হবে না।

গতকাল বুধবার তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধাবস্থায় আছি। পুরো অঞ্চলই যুদ্ধক্ষেত্র। আমাদের শত্রু ও তাদের মিত্রদের জাহাজ পার হতে দেওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে অন্যদের জন্য এটি খোলা রয়েছে।’

উল্লেখযোগ্যভাবে, সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তানগামী একটি কনটেইনার জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে বাধা দেয় ইরান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ নোঙরস্থান থেকে করাচির উদ্দেশে যাত্রা করা ‘সেলেন’ নামের জাহাজটি প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকায় প্রণালির প্রবেশমুখ থেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হয় বলে জানায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে প্রণালির ওপর তার নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের এই পথ কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিমান সংস্থা থেকে সুপারমার্কেট ও ব্যবহৃত গাড়ির ব্যবসায়ী পর্যন্ত নানা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, চাহিদা হ্রাস এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ভাঙনের মতো সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। কিছু সরকার কোভিড মহামারির সময় ব্যবহৃত সহায়তা কর্মসূচি পুনর্বিবেচনা করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে বোমা হামলা দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের পর তেহরান পাল্টা হামলা চালায় এবং প্রণালিতে প্রবেশ কঠোরভাবে সীমিত করে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে জ্বালানি পরিবহনের দৈনিক পরিমাণ প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে গেছে।

শিপিং শিল্পের তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট লয়েডস লিস্টের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ সময়ে এখানে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি জাহাজ চলাচল করে। কিন্তু বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য বলছে, ১ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত মাত্র ১৫৫টি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যা ৯৫ শতাংশ হ্রাসের সমান। এর মধ্যে ৯৯টি ছিল তেলবাহী ট্যাংকার ও গ্যাস পরিবহনকারী জাহাজ এবং বেশির ভাগই প্রণালি থেকে পূর্বদিকে বেরিয়ে গেছে। গতকাল মাত্র দুটি জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করতে দেখা গেছে, উভয়ই পশ্চিমমুখী।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত