Ajker Patrika

সিরিয়ায় গোপনে পারমাণবিক চুল্লি প্রায় নির্মাণ করে ফেলেছিলেন আসাদ: জাতিসংঘ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ৩৯
সিরিয়ায় গোপনে পারমাণবিক চুল্লি প্রায় নির্মাণ করে ফেলেছিলেন আসাদ: জাতিসংঘ
সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। ছবি: এএফপি

সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে গোপনে নির্মাণ করা একটি পারমাণবিক চুল্লি প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। চুল্লিটি চালু হলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারের উপযোগী বিভাজ্য পদার্থ উৎপাদন করা সম্ভব হতো বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) তুর্কি সংবাদমাধ্যম হুরিয়াত ডেইলি নিউজ জানায়, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকেরা গত মাসে সিরিয়ার দুটি স্থাপনা পরিদর্শন করেন। এর একটি দেইর এজ-জোর এলাকায় এবং অপর স্থাপনাটির অবস্থান গোপন রাখা হয়েছে। সিরিয়ার বর্তমান কর্তৃপক্ষ ওই স্থাপনার বিষয়ে আইএইএকে তথ্য দেয়।

গত সপ্তাহে আইএইএর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংস্থাটি প্রমাণ পেয়েছে, সিরিয়ার আগের সরকার একটি পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ করছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন এবং এরপর দেশটিতে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে।

ভিয়েনায় আইএইএর গভর্নরস বোর্ডের ত্রৈমাসিক বৈঠক শুরুর পর সাংবাদিকদের গ্রোসি জানান, আগের সিরীয় সরকার গোপনে বেশ কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করছিল—বিষয়টি স্পষ্ট। তিনি বলেন, তারা কী করছিল, তা যেন বিশ্ব জানতে না পারে, সেটিই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।

গ্রোসি জানান, চুল্লিটির নকশা ও প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এটি বিভাজ্য পদার্থ উৎপাদনে অত্যন্ত কার্যকর ধরনের একটি চুল্লি। সেই পদার্থ সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। তিনি বলেন, এমন একটি চুল্লি নির্মাণ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।

আইএইএর প্রধান আরও জানান, বর্তমানে স্থাপনাটি খনন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে এবং চুল্লিটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল।

গ্রোসি দাবি করেন, তৎকালীন সিরীয় কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য তদন্ত নস্যাৎ করতে কিছু বিস্ফোরণ ঘটিয়ে থাকতে পারে—এমন সম্ভাবনাও রয়েছে।

দেইর এজ-জোরের নির্মাণাধীন চুল্লি ছাড়াও আইএইএর তদন্তে একটি জ্বালানি উৎপাদন কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে চুল্লিটির জন্য পারমাণবিক জ্বালানি তৈরি করা হতো। আরও একটি স্থানে পারমাণবিক জ্বালানি, ইউরেনিয়ামের বর্জ্য ও ধাতব স্ক্র্যাপ সংরক্ষণ করা হতো।

প্রতিবেদনে আইএইএ জানিয়েছে, ওই স্থাপনাগুলোতে প্রায় ৭৩ টন প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম ধাতুর সন্ধান পাওয়া গেছে। বিষয়টি সিরিয়ার আগের সরকারের গোপন পারমাণবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত