
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে যুদ্ধ শুরুর মূল লক্ষ্য হলো দেশটিকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না দেওয়া। শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন না হলে, অথবা অন্তত তেহরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি না হলে, সে ক্ষেত্রে এই লক্ষ্য অর্জনে একমাত্র উপায় হতে পারে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও অন্যান্য উপাদান জব্দ করা। আর এটি করতে গেলে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশেষ বাহিনীর অভিযানের প্রয়োজন হবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে এমন অভিযান সম্পন্ন করা অত্যন্ত জটিল সামরিক অপারেশন হবে, যা এক বা একাধিক স্থানে কয়েক দিন ধরে শত শত সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন করতে পারে বলে সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা জানান।
সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে তেজস্ক্রিয় পদার্থ সরিয়ে নিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত অভিজাত দল রয়েছে। কিন্তু ইরানের হাতে থাকা শত শত কিলোগ্রাম উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম শনাক্ত ও জব্দ করতে অত্যন্ত সূক্ষ্ম সমন্বয় দরকার হবে এবং এতে বড় ঝুঁকিও রয়েছে।
অবশ্য প্রয়োজনে ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করেননি বলে ট্রাম্প বলেছেন। তবে শুক্রবার তিনি ইঙ্গিত দেন, দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দের কোনো অভিযান শিগগিরই হচ্ছে না। ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, ‘আমরা এখন সেটার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি না, কিন্তু কোনো এক সময় দিতে পারি। এই মুহূর্তে আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করার দিকেই মনোযোগী।’
গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালানোর আগে ধারণা করা হয়, দেশটির কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪০০ কিলোগ্রামের বেশি ইউরেনিয়াম এবং প্রায় ২০০ কিলোগ্রাম ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ বিভাজ্য (ফিজাইল) উপাদান ছিল, যা সহজেই ৯০ শতাংশ অস্ত্রমানের ইউরেনিয়ামে রূপান্তর করা যায়।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি বলেছেন, তাঁর ধারণা ওই ইউরেনিয়ামের বেশির ভাগই জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে তিনটি স্থাপনায় হামলা চালায়, তার মধ্যে দুটিতে রয়েছে—ইস্পাহানের পারমাণবিক কমপ্লেক্সের ভূগর্ভস্থ টানেলে এবং নাতাঞ্জের এক মজুদস্থলে। গ্রসি সম্প্রতি বলেন, ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ উপাদানের প্রায় অর্ধেকই ইস্পাহানের টানেলে ছিল।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্বীকার করেছেন, বর্তমানে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে না। গ্রসির সংস্থাও এমন কোনো লক্ষণ দেখেনি যে, ইরান ওই উপাদান সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। ইরানের নেতারা প্রকাশ্যে দাবি করেন, তারা বোমা বানাতে চায় না। তবে যদি এসব মজুদ এমন একটি ইরানি সরকারের হাতে থাকে—যা টিকে থাকা নিশ্চিত করতে চায়—তাহলে সেগুলো বোমা তৈরির জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের কাছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার জন্য সেন্ট্রিফিউজ রয়েছে এবং নতুন ভূগর্ভস্থ সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র স্থাপনের সক্ষমতাও আছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গতকাল রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের ফেস দ্য নেশন অনুষ্ঠানে বলেন, জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছে। তিনি বলেন, তেহরানের এখনই এগুলো উদ্ধার করার কোনো পরিকল্পনা নেই এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে ছাড়া তা বিবেচনাও করবে না। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের কোনো কর্মসূচি নেই। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এগুলো উদ্ধারের কোনো পরিকল্পনাও নেই।’
শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা বারবার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেছেন, মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের নৌবাহিনী এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভান্ডার কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের অবশিষ্ট পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়ার আশা নিয়ে খুব কমই কথা বলেছে। পিট হেগসেথ শুক্রবার বলেন, ‘আমাদের কাছে সব ধরনের বিকল্প খোলা আছে। প্রেসিডেন্ট পারমাণবিক সক্ষমতার দিকেই নজর রেখেছেন। এবং আমি বলব, আমাদের কাছে নানা বিকল্প রয়েছে, যার মধ্যে ইরান নিজে থেকেই এগুলো ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াও অন্তর্ভুক্ত।’
হোয়াইট হাউস চাইলে এই মজুদ ইরানের হাতেই রেখে দিতে পারে, তবে সতর্কবার্তা দিয়ে যে এগুলো সরানোর চেষ্টা বা পুনরায় সমৃদ্ধকরণ শুরু করলে নতুন করে মার্কিন হামলা চালানো হবে। ইসরায়েলের ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে গভীর অনুপ্রবেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইট নজরদারির কারণে তেহরানের কার্যক্রম ধরা পড়ার সম্ভাবনা বেশি।
ন্যাটোর সাবেক কমান্ডার অ্যাডমিরাল জেমস স্টাভরিডিস বলেন, ট্রাম্প যদি ইউরেনিয়াম জব্দ করার সিদ্ধান্ত নেন তাহলে এটি ‘সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশেষ বাহিনীর অভিযান’ হতে পারে। সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা জানান, এলাকাগুলো ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আর্মি রেঞ্জারস বা অন্য যুদ্ধসেনা লাগবে। ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনার প্রবেশপথে জমে থাকা টন টন ধ্বংসাবশেষ সরাতে খননযন্ত্রসহ প্রকৌশলীদের দরকার হবে এবং সেখানে পুঁতে রাখা মাইন বা ফাঁদ আছে কি না তা পরীক্ষা করতে হবে।
নিকটবর্তী কোনো বিমানঘাঁটি না থাকলে অস্থায়ী ঘাঁটি তৈরি করে সরঞ্জাম আনা এবং উপাদান সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে স্থল ও আকাশ বাহিনী প্রস্তুত রাখতে হবে। প্রয়োজনে দ্রুত অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর জন্য একটি তৎপর প্রতিক্রিয়া বাহিনীও প্রস্তুত রাখতে হবে।
ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাবেক ইরান সেন্টারের পরিচালক রিচার্ড নেফিউ বলেন, যেকোনো অভিযানই হবে ‘অত্যন্ত বড় এবং অত্যন্ত জটিল।’ একটি স্থানে এই কাজ করতে ১ হাজারের বেশি জনবল লাগতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, ‘ড্রোন হামলা, আইইডি ও অনুরূপ ফাঁদ, দূষণের ঝুঁকি এবং দীর্ঘ সময় ধরে লোকজনকে সেখানে রাখতে হবে এসব নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।’
সময় কম থাকলে যুক্তরাষ্ট্র সাইটেই প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামের সঙ্গে মিশিয়ে উপাদানটির মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে বা ধ্বংস করতে পারে বলেও নেফিউ জানান, যদিও এতে আশপাশের এলাকায় রাসায়নিক দূষণ ছড়াতে পারে।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক প্রধান এবং ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজের সিনিয়র ফেলো ইয়াল হুলাতা বলেন, যদি যুদ্ধ শেষ হয়ে যায় অথচ যুক্তরাষ্ট্র ওই বিভাজ্য উপাদানের মজুদ বা ইরান যেখানে আবার সমৃদ্ধকরণ শুরু করতে পারে এমন ভূগর্ভস্থ টানেল নেটওয়ার্ক ‘পিকঅ্যাক্স’ নিষ্ক্রিয় না করে, তাহলে ‘এটি গুরুতর সমস্যা হবে।’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে যেভাবেই হোক এগুলো মোকাবিলার পথ বের করতে হবে।’

ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তেহরানে আয়োজিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান তার আত্মরক্ষায় বদ্ধপরিকর এবং প্রয়োজনে এই যুদ্ধকে যেকোনো সীমা পর্যন্ত টেনে নিতে প্রস্তুত।
৫ মিনিট আগে
ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) গতকাল রোববার বাংলাদেশ-সংলগ্ন রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। ভোট গ্রহণ হবে দুই দফায়—২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। ভোট গণনা করা হবে ৪ মে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
২ ঘণ্টা আগে
আফগানিস্তান-পাকিস্তানের মধ্যে বাড়তে থাকা সংঘাত নিয়ে মন্তব্য করার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র বাগ্যুদ্ধ শুরু হয়েছে। ভারত আফগানিস্তানে পাকিস্তানি হামলার ‘নিন্দা’ করার পর পাকিস্তান ভারতের এই অবস্থানকে ‘লজ্জাজনক ভণ্ডামি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য
২ ঘণ্টা আগে
ইরাকের ফেডারেল বা কেন্দ্রীয় সরকার কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারকে (কেআরজি) কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে ইরান যুদ্ধে জড়িত হতে না দেওয়ার জন্য সতর্ক করেছে। কুর্দি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে যে, কুর্দি প্রাদেশিক সরকার যদি এটি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়, তবে ইরাকি বাহিনী সীমান্ত এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে অগ্রসর হতে পারে।
৪ ঘণ্টা আগে