Ajker Patrika

কিউবায় আরোপিত অবরোধ নিয়ে উদাসীন ট্রাম্প, জ্বালানি নিয়ে যাচ্ছে রুশ ট্যাংকার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
কিউবায় আরোপিত অবরোধ নিয়ে উদাসীন ট্রাম্প, জ্বালানি নিয়ে যাচ্ছে রুশ ট্যাংকার
হংকংয়ে নিবন্ধিত রুশ তেলবাহী কিউবাগামী জাহাজ। ছবি: এএফপি

কিউবার ওপর আরোপিত জ্বালানি অবরোধ আপাতত কিছু সময়ের জন্য কার্যকর করবেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এমন এক সময়ে এই ঘোষণা দিলেন যখন, কিউবা তীব্র জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছে এবং রাশিয়ার একটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার হাভানার উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে নিজ বাসভবন মার-আ-লাগো থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে যদি কোনো দেশ কিউবায় কিছু তেল পাঠাতে চায়, আমার তাতে কোনো সমস্যা নেই—সেটা রাশিয়া হোক...বা অন্য কোনো দেশই হোক।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এর কোনো প্রভাব পড়বে না। কিউবা শেষ হয়ে গেছে...তারা তেলের কোনো জাহাজ পেলেও কিছু আসে যায় না, তাতে কিছুই বদলাবে না।’

সপ্তাহান্তে রাশিয়ার মালিকানাধীন ট্যাংকার আনাতোলি কলোদকিন কিউবার দিকে অগ্রসর হওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক ধরনের পরীক্ষার পরিস্থিতি তৈরি করে। জাহাজটি কিউবার জ্বালানি সরবরাহ আটকে রাখতে কতটা দৃঢ়, আর যুক্তরাষ্ট্রের উপকূল থেকে মাত্র ৯০ মাইল দূরের দীর্ঘদিনের মিত্রকে সাহায্য করতে মস্কো কত দূর যেতে প্রস্তুত।

ট্যাংকারটি ৮ মার্চ রাশিয়ার প্রিমর্স্ক বন্দর থেকে প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি-ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ট্যাংকার ট্র্যাকার ডটকম। গতকাল রোববার রাতে জাহাজটি কিউবা উপকূল থেকে প্রায় ২০ মাইল দূরে ছিল। বৈশ্বিক বাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান কেপলার জানায়, এটি মঙ্গলবার ভোরে মাতানসাস তেল সংরক্ষণ স্থাপনায় পৌঁছাতে পারে।

ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি আশা করছেন—যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপে কিউবার কমিউনিস্ট সরকার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পতন ঘটবে—সামরিক হামলা নয়, বরং অর্থনৈতিক শ্বাসরোধের মাধ্যমে। তিনি আরও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করেই তিনি এই লক্ষ্য অর্জনে মনোযোগ দেবেন।

তেল অবরোধের সমালোচক ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই কার্যত অবরোধ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে কিউবার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন এবং বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ নিষিদ্ধ করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের বিধানের পরিপন্থী। ট্রাম্প রোববার এ সংকটের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, ‘মানুষের গরম ও ঠান্ডা নিয়ন্ত্রণসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস দরকার।’

এর আগে, গত ৩০ জানুয়ারি জারি করা এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘অস্বাভাবিক ও নজিরবিহীন হুমকি’ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং বলেন, কোনো দেশ যদি কিউবায় তেল সরবরাহ করে, তাদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানির ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে। তার আগে জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে আনার পর ট্রাম্প কিউবায় ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেন। নিষেধাজ্ঞার হুমকির কারণে মেক্সিকোসহ অন্যান্য দেশও পরিকল্পিত সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। ডিজেল ও পেট্রোলের ঘাটতির মধ্যে কিউবাজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয় এবং স্কুল ও হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ চলতি মাসে সাময়িকভাবে সেই সব দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল, যারা ইতিমধ্যে সমুদ্রে থাকা রুশ তেল কিনেছিল। তবে পরে নতুন নির্দেশনায় কিউবাকে রাশিয়ার তেল গ্রহণ থেকে স্পষ্টভাবে বিরত রাখা হয়। ট্যাংকারটিকে কিউবায় পৌঁছানো থেকে আটকাতে যুক্তরাষ্ট্রের আইনি ক্ষমতা সীমিত ছিল, যদিও এর আগে ক্যারিবীয় অঞ্চলে এ ধরনের কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু সফল হয়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত