Ajker Patrika

পানামার নরিয়েগার পরিণতি হবে কি মাদুরোর

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮: ২৯
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও পানামার নেতা ম্যানুয়েল নোরিয়েগা।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও পানামার নেতা ম্যানুয়েল নোরিয়েগা।

যুক্তরাষ্ট্র আসলেই ডেল্টা ফোর্স পাঠিয়ে ভেনেজুয়েলার রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে ধরে নিয়ে গিয়ে থাকলে—আধুনিককালের ইতিহাসে তা হবে নজিরবিহীন ঘটনা।

তবে এর সবচেয়ে কাছাকাছি উদাহরণ হতে পারে ১৯৮৯ সালে বিশেষ বাহিনীর অভিযানে পানামার নেতা ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে আটক করার ঘটনা।

দুজনই বিতর্কিত নির্বাচনে বিজয়ের দাবি করেছিলেন, দুজনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র মাদক পাচারের অভিযোগ এনেছিল এবং দুজনের ক্ষেত্রে এর আগে উল্লেখযোগ্য মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি দেখা গিয়েছিল।

তবে নরিয়েগাকে আটকের ঘটনা ঘটেছিল দুই দেশের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু পরিকল্পিত এক যুদ্ধের পর, যেখানে পানামার বাহিনী দ্রুত পরাজিত হয়।

নরিয়েগা তখন ভ্যাটিকানের দূতাবাসে আশ্রয় নেন এবং সেখানে ১১ দিন অবস্থান করেন।

শেষ পর্যন্ত ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ কৌশল ব্যবহার করে—বিশেষত দ্য ক্ল্যাশ, ভ্যান হ্যালেন ও ইউটু ব্যান্ডের উচ্চস্বরে রক সংগীত লাগাতার বাজিয়ে তাঁকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করা হয়।

পরে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

নিকোলা মাদুরোকে ধরতে পরিচালিত অভিযানের বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ পায়নি। তবে মনে হচ্ছে, এই অভিযান ছিল উচ্চাভিলাষী ও বড় পরিসরের। এখানে প্রচলিত স্থলবাহিনী ব্যবহার না করেই প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রীকে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মাদুরোর ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কারাগারেই গিয়ে ঠেকতে পারে।

এদিকে দৃশ্যত ট্রাম্পের দাবিকে নিশ্চিত করলেন ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাদুরোর ‘জীবিত থাকার প্রমাণ’ দাবি করেছেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবর।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প চাঞ্চল্যকর দাবিটি করেন। নিকোলা মাদুরোকে বন্দী করা হয়েছে জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের হামলার মাধ্যমেই মাদুরোকে বন্দী করা সম্ভব হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য এখনো হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

তিনি জানান, মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে ধরে ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলার বাইরে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলা এবং দেশটির নেতা নিকোলা মাদুরোর ওপর বড় ধরনের একটি সফল হামলা চালিয়েছে। মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে বন্দী করা হয়েছে এবং তাঁদের দেশের বাইরে উড়িয়ে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। আজ বেলা ১১টায় মার-এ-লাগোতে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়টি নিয়ে আপনাদের মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ! প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প।’

এদিকে, ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে বলেছেন, মাদুরোকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তিনি অবিলম্বে তাঁর জীবিত থাকার প্রমাণ চেয়েছেন। দ্য গার্ডিয়ান বলছে, দেলসি নিকোলা মাদুরোকে বন্দী করার খবরটি ‘নিশ্চিত’ করেছেন বলে মনে হচ্ছে। তিনি মাদুরো এবং সাবেক ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসের ‘বেঁচে থাকার প্রমাণ’ অবিলম্বে জনসমক্ষে হাজির করার দাবি জানিয়েছেন।

ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কারাকাস, মিরান্ডা, আরাগুয়া এবং লা গুয়াইরায় হামলা করেছে। এটিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘সামরিক আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে মাদুরো সরকার। স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে কারাকাসে কমপক্ষে সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যার সঙ্গে উড়ন্ত যুদ্ধবিমানের শব্দও শোনা গেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ায় বিসিসিআইকে ধুয়ে দিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটার

সিআইএ–এফবিআই এবং এলিট বাহিনী: যেভাবে কয়েক মাসে মাদুরোকে ধরতে ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভের’ প্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

কলকাতার পেজে লাখো ‘নেগেটিভ রিঅ্যাকশন’

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ২০০ বছরের পুরোনো ‘মনরো ডকট্রিন’, কী আছে এতে

ট্রাম্পের নজর কি এবার গ্রিনল্যান্ডে!

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত