Ajker Patrika

মৃত্যুর ৩৩ বছর পর ধর্মগুরুর হলোগ্রাফিক ইমেজের কাছ থেকে আশীর্বাদ নিলেন মোদি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৫: ১৩
মৃত্যুর ৩৩ বছর পর ধর্মগুরুর হলোগ্রাফিক ইমেজের কাছ থেকে আশীর্বাদ নিলেন মোদি
প্রয়াত ধর্মগুরুর হলোগ্রাফিক অবতারের কাছে আশীর্বাদ চান মোদি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে চিন্ময় অমৃত মহোৎসব গ্লোবাল সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি প্রয়াত আধ্যাত্মিক নেতা স্বামী চিন্ময়ানন্দের হলোগ্রাফিক ইমেজের সঙ্গে কথোপকথন করেন। ১৯৯৩ সালে স্বামী চিন্ময়ানন্দের সঙ্গে নিজের সাক্ষাতের স্মৃতিচারণা করে ভবিষ্যতের কাজের জন্য তাঁর আশীর্বাদও চান মোদি। জবাবে স্বামী চিন্ময়ানন্দের হলোগ্রাফিক ইমেজ বলেন, ‘ভারত আপনার সঙ্গে আছে, নরেন্দ্র।’

কথোপকথনের সময় মোদি বলেন, ‘আপনার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল, এটা আমার পরম সৌভাগ্য। আজ আমি যে কাজ করতে চাই, তার জন্য আপনার আশীর্বাদ চাই।’ উত্তরে স্বামী চিন্ময়ানন্দের হলোগ্রাফিক অবতার মোদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং তাঁর প্রতি সমর্থন জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোদি এই অভিজ্ঞতাকে অনন্য আধ্যাত্মিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। সাধু-সন্তদের আশীর্বাদ পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এটি এক অন্য ধরনের আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা। আমাদের সাধু-সন্তদের আশীর্বাদ আমার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। চিন্ময় মিশন শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি “চিন্ময় চিন্তাধারা”রও প্রতিনিধিত্ব করে।’

আয়োজনটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে মোদি বলেন, ‘চিন্ময়’ শব্দটি অমরত্বের প্রতীক। সে কারণে ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত চিন্ময় অমৃত মহোৎসব গ্লোবাল সম্মেলন বিশেষ অর্থ বহন করছে। প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘এখানে প্রযুক্তির ব্যবহার এই অভিজ্ঞতাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। হলোগ্রামের মাধ্যমে চিন্ময়জির দিব্য উপস্থিতি দেখে আমার মনে হয়েছে, যেন আমি ৩৩ বছর পিছিয়ে গিয়েছি।’

১৯৯৩ সালে স্বামী চিন্ময়ানন্দের সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতি তুলে ধরে মোদি বলেন, সেই সময় আধ্যাত্মিক নেতার স্নেহ ও আশীর্বাদের যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল, হলোগ্রাফিক কথোপকথনের মাধ্যমে তা আবারও জীবন্ত হয়ে উঠেছে। তাঁর কথায়, ‘এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল, যেন আমি সেই সময়টিতে ফিরে গিয়েছি। আমার কাছে এটি অত্যন্ত আবেগের মুহূর্ত।’ আয়োজনের জন্য চিন্ময় মিশনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

স্বামী চিন্ময়ানন্দের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের বিবরণ দিয়ে মোদি জানান, ১৯৯৩ সালের ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসের দিকে তাঁদের দেখা হয়েছিল। শিকাগোয় বিশ্ব ধর্ম সংসদের শতবর্ষ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানাতে তিনি স্বামী চিন্ময়ানন্দের কাছে গিয়েছিলেন।

মোদি বলেন, ‘তিনি আমার অনুরোধ গ্রহণ করেছিলেন এবং বিশ্ব ধর্ম সংসদ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিকল্পনা ছিল অন্য রকম। অনুষ্ঠানের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে, ৩ আগস্ট তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান।’ ১৯৯৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর শিকাগোয় অনুষ্ঠিত সেই সমাবেশে নিজের উপস্থিতির কথাও স্মরণ করেন মোদি। তিনি বলেন, সেখানে গিয়ে স্বামী চিন্ময়ানন্দের অনুপস্থিতি গভীরভাবে অনুভব করেছিলেন।

তথ্যসূত্র: ডেকান হেরাল্ড

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত