
সম্প্রতি যন্তর মন্তর শব্দটি ভারতে জেন-জি বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছে। যন্তর মন্তর আসলে কী, এই নামের পেছনের ইতিহাস কী—চলুন জেনে নিই।
ভারতের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে যন্তর মন্তর এক অনন্য নাম। পর্যটকদের কাছে এটি শুধু একটি দর্শনীয় স্থান নয়, বিজ্ঞান, স্থাপত্য ও ইতিহাসের অসাধারণ সমন্বয়ের প্রতীক। অনেকেই দিল্লি বা জয়পুরের যন্তর মন্তর ঘুরে দেখেন, কিন্তু খুব কম মানুষই জানেন—‘যন্তর মন্তর’ নামটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য।
যন্তর মন্তর নামটি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে। ‘যন্তর’ শব্দটি এসেছে ‘যন্ত্র’ (Yantra) থেকে, যার অর্থ যন্ত্র বা মেশিন আর ‘মন্তর’ এসেছে ‘মন্ত্রণা’ (Mantrana) শব্দ থেকে, যার অর্থ পরামর্শ করা বা গণনা করা। দুটি শব্দ একত্রে ‘যন্তর মন্তর’। এর অর্থ দাঁড়ায়—গণনার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র।
নামটির সঙ্গে স্থাপনাটির উদ্দেশ্যেরও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। কারণ, যন্তর মন্তর নির্মাণ করা হয়েছিল আকাশের নক্ষত্র ও গ্রহের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, সময় নির্ণয়, গ্রহের অবস্থান নির্ভুলভাবে হিসাব করা এবং জ্যোতিষ ও নৌ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে।
আঠারো শতকের প্রথম ভাগে জয়পুরের শাসক মহারাজা সাওয়াই জয় সিং দ্বিতীয় উত্তর ভারতের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক মানমন্দির নির্মাণ করেন। ১৭২৪ থেকে ১৭৩০ সালের মধ্যে নির্মিত এসব মানমন্দিরই আজ ‘যন্তর মন্তর’ নামে পরিচিত।
প্রতিটি যন্তর মন্তর একাধিক পৃথক স্থাপনার সমন্বয়ে গঠিত। প্রতিটি কাঠামো নির্দিষ্ট একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পরিমাপের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছিল। সূর্যের অবস্থান, সময়, নক্ষত্রের গতিপথ কিংবা আকাশীয় বস্তুর অবস্থান নির্ণয়ের জন্য প্রতিটি যন্ত্রের আলাদা কাজ ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব স্থাপনার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক শুধু তাদের আকার নয়, রয়েছে জ্যামিতিক নকশার সাহসী ব্যবহার। বিশালাকৃতির ভাস্কর্যসদৃশ এসব নির্মাণ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের স্থপতি, শিল্পী ও শিল্প-ইতিহাসবিদদের আকৃষ্ট করে আসছে। তাঁদের মতে, এগুলো যেমন বৈজ্ঞানিক উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছিল, তেমনি এতে রয়েছে অসাধারণ নান্দনিক ও স্থাপত্যশৈলীর প্রকাশ।
জয় সিং দ্বিতীয়ের মূল লক্ষ্য ছিল আরও নির্ভুল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ করা। সে সময় ব্যবহৃত জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক যন্ত্রগুলো তাঁর কাছে খুব ছোট ও যথেষ্ট নির্ভুল মনে হয়নি। ফলে তিনি প্রচলিত যন্ত্রগুলোরই অনেক বড়, স্থায়ী ও অধিক নির্ভুল সংস্করণ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। সেই চিন্তা থেকেই জন্ম নেয় যন্তর মন্তরের বিশালাকৃতির স্থাপত্য।
তবে বর্তমানে এসব স্থাপনা থেকে আগের মতো নির্ভুল পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয় না। কারণ, সময়ের সঙ্গে আশপাশে উঁচু ভবন গড়ে ওঠায় যন্ত্রগুলোর প্রয়োজনীয় দৃষ্টিসীমা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
ভারতে মোট পাঁচটি যন্তর মন্তর নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে চারটি টিকে রয়েছে।
এগুলো হলো জয়পুর, দিল্লি, উজ্জয়িনী (উজ্জয়ন) ও বারাণসীতে।
পঞ্চম যন্তর মন্তরটি ছিল মথুরায়। তবে ১৮৫৭ সালের আগে কোনো এক সময় সেখানে অবস্থিত দুর্গসহ মানমন্দিরটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়। ফলে বর্তমানে সেটির আর কোনো অস্তিত্ব নেই।
পাঁচটি মানমন্দিরের মধ্যে ১৭২৪ সালে প্রথম যন্তর মন্তরটি নির্মিত হয় দিল্লিতে। এরপর নির্মাণ করা হয় জয়পুরের মানমন্দির, যা পাঁচটির মধ্যে সবচেয়ে বড় ও জটিল। পরে তুলনামূলক ছোট আকারে বারাণসী, উজ্জয়িনী ও মথুরায় মানমন্দির নির্মাণ করা হয়।
জয় সিংয়ের প্রকল্পের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিকগুলোর একটি হলো—কোনো যন্তর মন্তর একই রকম নয়। যদিও সব মানমন্দিরে ব্যবহৃত যন্ত্রের বৈজ্ঞানিক নীতিমালা একই, তবু শহরভেদে তাদের আকার, নির্মাণসামগ্রী ও স্থাপত্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।
ফলে দিল্লির যন্তর মন্তর যেমন দেখতে, জয়পুরেরটি তার থেকে অনেকটাই আলাদা। একইভাবে উজ্জয়িনী ও বারাণসীর মানমন্দিরেও রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য।
বর্তমানে দিল্লি ও জয়পুরের যন্তর মন্তর সবচেয়ে বেশি পরিচিত এবং পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয়। এর অন্যতম কারণ হলো—দুটি মানমন্দিরই ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন শহরে অবস্থিত। এ ছাড়া এখানেই জয় সিংয়ের সবচেয়ে বড় আকারের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক যন্ত্রগুলো সংরক্ষিত রয়েছে। বিশেষ করে, জয়পুরের যন্তর মন্তরে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ও বৈচিত্র্যময় যন্ত্র রয়েছে। তাই জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাস জানতে আগ্রহীদের কাছে এটি বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র।
যন্তর মন্তর শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়; এটি আঠারো শতকের ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানের উন্নত জ্ঞান, প্রকৌশল দক্ষতা ও স্থাপত্যশৈলীর এক অসাধারণ উদাহরণ।
সংস্কৃত নামের মধ্যেই যেমন এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তেমনি প্রতিটি স্থাপনা প্রমাণ করে—আধুনিক প্রযুক্তি আসার বহু আগে ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আকাশ পর্যবেক্ষণে কতটা উন্নত চিন্তাভাবনা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করতেন।
আজও দিল্লি, জয়পুর, উজ্জয়িনী বা বারাণসীর যন্তর মন্তর পরিদর্শনে গেলে শুধু বিশাল স্থাপত্যই নয়, সেই সময়ের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, ইতিহাস ও নির্মাণশৈলীর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ মেলে। তাই যন্তর মন্তর শুধু অতীতের একটি স্মৃতিচিহ্ন নয়; এটি বিজ্ঞান ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত সাক্ষ্য।

ভারতে নিজেদের পণ্যকে ‘এনার্জি ড্রিংক’ হিসেবে প্রচারের ক্ষেত্রে আইনি জয় পেয়েছে অস্ট্রিয়ার পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রেড বুল। দেশটির খাদ্যনিয়ন্ত্রক সংস্থার দেওয়া নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রেড বুলের পণ্যে ‘এনার্জি ড্রিংক’ শব্দদ্বয় ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট।
৮ ঘণ্টা আগে
যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে মালয়েশিয়া। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দেশটির সরকার প্রায় ১ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করে। এই উদ্যোগের আওতায় শেষ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে মিয়ানমারে পাঠানো হতে পারে বলে জানা গেছে।
১১ ঘণ্টা আগে
পাকিস্তানের লাহোরে আজারবাইজানের ২০ বছর বয়সী এক তরুণীকে মাদক খাইয়ে তিন ব্যক্তি ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করেছে পুলিশ এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।
১২ ঘণ্টা আগে
অধিকৃত পশ্চিম তীরের তিনটি ফিলিস্তিনি গ্রামে আজ মঙ্গলবার হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা। তারা বাড়িঘর ও যানবাহনে আগুন দিয়েছে এবং কুরাইয়ুত গ্রামে এক বৃদ্ধ ফিলিস্তিনি নারীকে মারধর করেছে। একই সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে।
১৪ ঘণ্টা আগে