Ajker Patrika

হাইওয়েতে সিসিটিভি বসিয়ে ভারতীয় সেনা চলাচলের তথ্য পাকিস্তান পাচার, ১ পাঞ্জাবী গ্রেপ্তার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২২ মে ২০২৬, ১১: ১৩
হাইওয়েতে সিসিটিভি বসিয়ে ভারতীয় সেনা চলাচলের তথ্য পাকিস্তান পাচার, ১ পাঞ্জাবী গ্রেপ্তার
পাঞ্জাব থেকে সেনা চলাচলের তথ্য পাকিস্তানে পাচারের অভিযোগ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পাঞ্জাবের পাঠানকোটে সন্দেহভাজন একটি গুপ্তচর চক্রের পর্দাফাঁস করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর চলাচলসংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠাতেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, পুলিশ জানিয়েছে—গ্রেপ্তার ব্যক্তি বালজিৎ সিং ওরফে বিট্টু। তিনি চাক ধাড়িওয়াল গ্রামের বাসিন্দা। পাঠানকোট-জম্মু অংশের ন্যাশনাল হাইওয়ে-৪৪ এর একটি সেতুর কাছে থাকা দোকানে তিনি একটি সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর চলাচলের ওপর নজরদারির জন্য এটি বসানো হয়েছিল।

জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা দলজিন্দর সিং ঢিল্লন বলেন, ওই নজরদারির ভিডিও ফিড ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে পাকিস্তান ও বিদেশে অবস্থানরত অপারেটিভদের কাছে পাঠানো হতো। জিজ্ঞাসাবাদে বালজিৎ সিং স্বীকার করেছেন, তিনি চলতি বছরের জানুয়ারিতে সুজানপুরের কাছে মহাসড়কের পাশে একটি দোকানে ইন্টারনেটভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা বসান।

তিনি দুবাইয়ে থাকা এক অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছ থেকেও নির্দেশনা পেতেন। এ কাজের জন্য তাকে ৪০ হাজার রুপি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর কাছ থেকে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং একটি ইন্টারনেট ওয়াইফাই রাউটার উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পাঠানকোট-জম্মু মহাসড়কে সন্দেহজনক তৎপরতার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ এই অভিযান চালায়। পরে সুজানপুর থানার পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। বালজিৎ সিং ছাড়াও মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে বিক্রমজিৎ সিং ওরফে ভিক্কা, বালবিন্দর সিং ওরফে ভিকি এবং তরনপ্রীত সিং ওরফে তান্নুকে। পুলিশ বলছে, অভিযুক্তরা অপরাধমূলক ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় বিস্তারিত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সীমান্তপারের যোগাযোগ, নেটওয়ার্কের সংযোগ এবং গুপ্তচরবৃত্তির অর্থের উৎস খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযানও চলছে।

গত মাসেও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের মদদপুষ্ট দুটি তথাকথিত গুপ্তচর চক্রের সন্ধান পেয়েছিল পাঞ্জাব পুলিশ। ওই চক্রগুলো উচ্চপ্রযুক্তির চীনা সৌরশক্তিচালিত সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করে সংবেদনশীল সামরিক স্থাপনার লাইভ ভিডিও পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠাত।

এর মধ্যে একটি চক্রকে জালান্ধারে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স উইং অভিযান চালিয়ে ধরেছিল। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি চীনা সিসিটিভি ক্যামেরা, ইউএসবি-সংযুক্ত সৌর প্যানেল এবং ৪জি সংযোগযুক্ত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। অন্য চক্রটিকে কাপুরথালা পুলিশ একটি কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে যৌথ অভিযানে ভেঙে দেয়। এতে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে সংযুক্ত চারটি মোবাইল ফোন, একটি সিমভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা এবং একটি ওয়াইফাই সেট উদ্ধার করা হয়।

পাঞ্জাব পুলিশের মহাপরিদর্শক গৌরব যাদব বলেন, এসব চক্র কৌশলগতভাবে বিভিন্ন স্থানে সিমভিত্তিক ও সৌরশক্তিচালিত সিসিটিভি ক্যামেরা বসাচ্ছিল। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা বাহিনীর স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানের ওপর নজরদারি চালানো হতো। পরে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সেই লাইভ ভিডিও পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হতো।

তিনি বলেন, ‘এই চীনা ক্যামেরাগুলো অফ-গ্রিড নজরদারির জন্য খুবই উপযোগী। কারণ এগুলো ৪জি সংযোগ ও সৌরশক্তির মাধ্যমে চলে। ফলে প্রচলিত বৈদ্যুতিক সংযোগের প্রয়োজন হয় না।’ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম সুখবিন্দর সিং ওরফে সুখা। তিনি ফিরোজপুরের সাহানকে গ্রামের বাসিন্দা বলেও জানান গৌরব যাদব।

অন্যদিকে কাপুরথালা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার দুজন হলেন সোনা এবং তিনি ফিরোজপুরের দোনা মত্তর এলাকার বাসিন্দা। আরেকজন হলেন সন্দীপ সিং ওরফে সোনু। তিনি ফিরোজপুরের ছাঙ্গা খুর্দ গ্রামের বাসিন্দা। জালান্ধার কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের সহকারী মহাপরিদর্শক সিমরতপাল সিং ধিন্দসা বলেন, সুখবিন্দর সিংকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর কাছ থেকে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা, একটি সৌর প্যানেল ও একটি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।

কাপুরথালা চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে জেলার জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার গৌরব তুরা বলেন, সেনানিবাসের কাছে নজরদারির বিষয়ে গোপন তথ্য পাওয়ার পর মডেল টাউন এলাকায় একটি দোকানে অভিযান চালানো হয়। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি দোকান ভাড়া নিয়েছিলেন। সেখানকার কাছের একটি খুঁটিতে সিমভিত্তিক ক্যামেরা বসিয়ে সামরিক বাহিনীর চলাচল পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা ছিল।

তুরা আরও বলেন, তদন্তে জানা গেছে, ‘ফৌজি’ নামে পরিচিত পাকিস্তানভিত্তিক এক হ্যান্ডলার ক্যামেরা বসানোর জন্য অভিযুক্তদের ৩৫ হাজার রুপি দিয়েছিল। তিনি বলেন, অভিযুক্ত সন্দীপ মাদক পাচারেও জড়িত ছিলেন। একই পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের কাছ থেকে ড্রোনের মাধ্যমে পাঠানো এক কেজি হেরোইন বিতরণের জন্য তিনি ৫০ হাজার রুপি পেয়েছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত