Ajker Patrika

দিল্লিতে মসজিদ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানে উত্তেজনা, ৫ পুলিশ আহত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২: ১৩
সৈয়দ ফয়েজ এলাহী মসজিদ ও কবরস্থানের সংলগ্ন একটি জমিতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে দিল্লি পৌর করপোরেশন। ছবি: এনডিটিভি
সৈয়দ ফয়েজ এলাহী মসজিদ ও কবরস্থানের সংলগ্ন একটি জমিতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে দিল্লি পৌর করপোরেশন। ছবি: এনডিটিভি

দিল্লির একটি মসজিদের কাছে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের সময় পুলিশের ওপর পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আজ বুধবার স্থানীয় সময় ভোরে দিল্লির রামলীলা ময়দানের কাছে এই ঘটনা ঘটে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা যায়, স্থানীয় একটি মসজিদের আশপাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে এই অভিযান চালানো হয়েছিল।

সৈয়দ ফয়েজ এলাহী মসজিদ ও কবরস্থানের সংলগ্ন একটি জমিতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে দিল্লি পৌর করপোরেশন। ছবি: এনডিটিভি
সৈয়দ ফয়েজ এলাহী মসজিদ ও কবরস্থানের সংলগ্ন একটি জমিতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে দিল্লি পৌর করপোরেশন। ছবি: এনডিটিভি

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে তুর্কমান গেট এলাকার সৈয়দ ফয়েজ এলাহী মসজিদ ও কবরস্থানের সংলগ্ন একটি জমিতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে দিল্লি পৌর করপোরেশন (এমসিডি)। অবৈধ স্থাপনা অপসারণে প্রায় ৩০টি বুলডোজার ও ৫০টি ডাম্প ট্রাক ব্যবহার করা হয়। এ সময় এমসিডির প্রায় ৩০০ কর্মকর্তা ও কর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করেন। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। এরপর পুলিশের দলকেও লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি পাথর নিক্ষেপে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে শতাধিক ভিডিও ফুটেজ যাচাই করা হচ্ছে। এসব ভিডিওতে ভিড়ের মধ্য থেকে পুলিশের দিকে পাথর ছোড়ার দৃশ্য দেখা গেছে।

জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা নিধিন ভালসান বলেন, ‘প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন লোক এসে পুলিশের ওপর পাথর ছুড়তে শুরু করে। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমাদের টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করতে হয়েছে।’

নিধিন ভালসান বলেন, ওই এলাকায় থাকা একটি ব্যাংকুয়েট হল এবং একটি ডিসপেনসারি ভেঙে ফেলা হয়েছে। রাতের বেলায় অভিযান চালানো হয়েছিল, যাতে সাধারণ মানুষের কোনো ভোগান্তি না হয়।

নিধিন ভালসান আরও বলেন, পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে পরিস্থিতি এখন শতভাগ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এই ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্য ও এমসিডি কর্মীদের দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দিল্লি হাইকোর্টের ২০২৫ সালের নভেম্বরের এক আদেশের পর এই পদক্ষেপ নেয় দিল্লি পৌর করপোরেশন (এমসিডি)। ওই আদেশে তুর্কমান গেটের কাছে রামলীলা ময়দান এলাকায় দখল হয়ে যাওয়া ৩৮ হাজার ৯৪০ বর্গফুট জমি তিন মাসের মধ্যে দখলমুক্ত করতে এমসিডি ও পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টকে (পিডব্লিউডি) নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ডিসেম্বরে এমসিডি জানায়, শূন্য দশমিক ১৯৫ একরের বেশি জমিতে থাকা সব স্থাপনা উচ্ছেদের আওতায় পড়বে। একই সঙ্গে বলা হয়, ওই জমির মালিকানা বা বৈধ দখলের পক্ষে মসজিদ পরিচালনা কমিটি বা দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ড কোনো নথিপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি। এমসিডির তথ্য অনুযায়ী, শূন্য দশমিক ১৯৫ একর জমির ওপরই মসজিদটি অবস্থিত।

দখল করা অংশগুলোর মধ্যে ছিল সড়কের একটি অংশ, ফুটপাত, একটি ‘বারাত ঘর’, পার্কিং এলাকা এবং একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

এর আগে ৪ জানুয়ারি এমসিডি কর্মকর্তারা দখল হওয়া এলাকা চিহ্নিত করতে ঘটনাস্থলে যান। তবে এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এদিকে উচ্ছেদের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে করা এক আবেদনের বিষয়ে নোটিশ জারি করেছেন দিল্লি হাইকোর্ট। গত মঙ্গলবার আদালত নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়, দিল্লি পৌর করপোরেশন (এমসিডি) ও দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ডের কাছে এ বিষয়ে তাদের জবাব চেয়েছেন।

মসজিদ সৈয়দ ফয়েজ এলাহির পরিচালনা কমিটির করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি অমিত বনসাল এমসিডি, দিল্লি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (ডিডিএ), নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এলঅ্যান্ডডিও), পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট (পিডব্লিউডি) এবং দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ডকে নোটিশ জারি করেন।

দিল্লি হাইকোর্ট বলেন, বিষয়টি বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে আবেদনের জবাব দাখিলের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২২ এপ্রিল।

এমসিডির উচ্ছেদ-সংক্রান্ত আদেশ বাতিল চেয়ে করা আবেদনে মসজিদ পরিচালনা কমিটি জানায়, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিটি তারা ব্যবহার করে আসছে। পাশাপাশি ওই জমির জন্য তারা নিয়মিতভাবে ওয়াক্ফ বোর্ডকে লিজ ভাড়াও পরিশোধ করছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জমিটি বিজ্ঞপ্তিভুক্ত ওয়াক্ফ সম্পত্তি। এটি ওয়াক্ফ আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ফলে এ-সংক্রান্ত সব বিরোধ নিষ্পত্তির একক এখতিয়ার ওয়াক্ফ ট্রাইব্যুনালের রয়েছে।

আবেদনকারীরা জানান, জমি থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। তাঁরা আরও বলেন, সেখানে থাকা ‘বারাত ঘর’ ও ক্লিনিকের কার্যক্রম ইতিমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে। তবে আবেদনে উল্লেখ করা হয়, জমিতে পরিচালিত কবরস্থান নিয়েই কমিটির একমাত্র আপত্তি রয়েছে।

এদিকে এমসিডি জানিয়েছে, ১৯৪০ সালের ফেব্রুয়ারিতে শূন্য দশমিক ১৯৫ একর জমি লিজ দেওয়া হয়েছিল। লিজের আওতায় থাকা ওই জমির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব নেই বলেও এমসিডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ভেনেজুয়েলার বিনিময়ে ২০১৯ সালেই ট্রাম্পের কাছে ইউক্রেন চেয়েছিল রাশিয়া

৬৬ জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিচ্ছেন ট্রাম্প

জকসুতে ভিপি, জিএস ও এজিএস হলেন শিবির-সমর্থিত প্রার্থীরা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থী ৫০১ জন

বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে ‘গায়েব’ করে দিল আইসল্যান্ড

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত