Ajker Patrika

তামিলনাড়ুতে রিসোর্ট রাজনীতি: বিজয়ের ভয়ে বিধায়কদের সরিয়ে রেখেছিল এআইডিএমকে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৭ মে ২০২৬, ১৬: ২২
তামিলনাড়ুতে রিসোর্ট রাজনীতি: বিজয়ের ভয়ে বিধায়কদের সরিয়ে রেখেছিল এআইডিএমকে
থালাপতি বিজয়। ছবি: সংগৃহীত

সরকার গঠন নিয়ে তামিলনাড়ুতে নতুন রাজনৈতিক নাটকের জন্ম হয়েছে। সদ্য নির্বাচিত এআইএডিএমকের এক ডজনের বেশি বিধায়ককে পদুচেরির এক রিসোর্টে সরিয়ে নেওয়ার পর জোর গুঞ্জন ছড়ায়—অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকেকে সরকার গঠনে সমর্থন দেওয়া নিয়ে দলটির ভেতরে ভাঙন তৈরি হয়েছে।

পদুচেরির একটি রিসোর্ট থেকে পাওয়া ভিডিও এনডিটিভির হাতে এসেছে। সেখানে এআইএডিএমকের বিধায়কদের দেখা গেছে। একটি ভিডিওতে অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগামের (এআইএডিএমকে) পদুচেরি রাজ্য সম্পাদক আনবাঝাগানকে ফোনে কথা বলতে দেখা যায়।

তবে এআইএডিএমকে কোনো ধরনের বিদ্রোহের খবর উড়িয়ে দিয়েছে। দলটির দাবি, ভেতরে সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। তাদের ভাষ্য, টিভিকের পক্ষ থেকে বিধায়কদের ভাঙিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা থাকায় শুধু নিরাপত্তার জন্যই তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এআইএডিএমকের একটি সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছে, টিভিকেকে সমর্থন দেওয়া নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল। কারণ, দলীয় প্রধান এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামী শুরুতে এ বিষয়ে নীরব ছিলেন। গত মাসের নির্বাচনে সুপারস্টার অভিনেতা বিজয়ের দল একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পর থেকে এই নীরবতা নানা জল্পনার জন্ম দেয়।

সূত্রগুলো স্বীকার করেছে, নীরবতার কারণে এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়ে যে দলের একটি অংশ বিজয়কে সমর্থন করতে পারে। একই সূত্র জানিয়েছে, দলের কেন্দ্রীয় কমিটি এখন পরিষ্কারভাবে টিভিকেকে সমর্থন না দেওয়ার অবস্থান জানিয়েছেন এবং দলের সব বিধায়কই তাঁর সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন।

এর আগে প্রচার হচ্ছিল, পদুচেরির রিসোর্টে থাকা ১২ জনের বেশি বিধায়ক দলের প্রধানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন, যাতে তিনি টিভিকেকে সমর্থন দেন। এই রিসোর্টটি থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরের আরেকটি রিসোর্টে টিভিকেও নিজেদের বিধায়কদের রেখেছিল। অভিযোগ, এআইএডিএমকের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সিভি শানমুগম এই ব্যবস্থার নেপথ্যে ছিলেন। যদিও পরে তিনি এমন কোনো উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এদিকে এআইএডিএমকে এটাও পরিষ্কার করেছে, টিভিকে এখনো তাদের কাছে সমর্থন চায়নি। শানমুগম বলেন, ‘টিভিকে এআইএডিএমকের সমর্থন চায়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘দলকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ দলের জ্যেষ্ঠ নেতা কেপি মুনুসামিও একই সুরে কথা বলেন। তিনি জানান, ‘এআইএডিএমকে টিভিকেকে কোনো সমর্থন দেয়নি। দলীয় প্রধানের অনুমোদন নিয়েই আমি এই ঘোষণা দিচ্ছি।’

সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার মৃত্যুর পর এআইএডিএমকের টানা চতুর্থ নির্বাচনী ধাক্কার পর এই রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং এখন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও দলটি পরাজয়ের মুখ দেখল।

এই পরিবর্তনের গভীরতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়েছে টিভিকের বিশাল জয়ে। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই দলটি ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি আসন জিতেছে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে তারা অল্পের জন্য পিছিয়ে গেছে। সরকার গঠনের জন্য বিজয়ের আরও ১০টি আসন প্রয়োজন। আর তিরুচি ইস্ট আসন ছেড়ে দিয়ে পেরাম্বুর আসন ধরে রাখতে হলে তার প্রয়োজন হবে আরও ১১টি আসন।

ইতিমধ্যে কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত করেছেন বিজয়। জাতীয় দলটি শর্ত সাপেক্ষে টিভিকেকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি সিপিআই ও সিপিএমসহ দুই বাম দল, যাদের মোট চারটি আসন রয়েছে এবং ডিএমকের মিত্র দল ভিডিসিকের দুই বিধায়কের সমর্থনও চেয়েছেন তিনি।

আজই বাম দলগুলো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে টিভিকে সূত্র জোর দিয়ে বলেছে, বিজয় এআইএডিএমকের সমর্থন নিতে আগ্রহী নন। কারণ, বিজেপির সঙ্গে এআইএডিএমকের জোট রয়েছে, আর বিজেপিকে তিনি বারবার নিজের আদর্শিক প্রতিদ্বন্দ্বী বলে উল্লেখ করেছেন।

সূত্র আরও জানিয়েছে, টিভিকের আশঙ্কা, এআইএডিএমকের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হলে ভবিষ্যতে টিভিকে নেতৃত্বাধীন সরকারে বিজেপির প্রভাব বিস্তারের পথ খুলে যেতে পারে। যদিও বুধবারই সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছিল টিভিকে, তবে সেই প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে। কারণ, গভর্নর সিপি রাধাকৃষ্ণন নাকি বিজয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানোর আগে তার সমর্থনে থাকা সব ১১৮ জন বিধায়কের তালিকা জমা দিতে বলেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত