আজকের পত্রিকা ডেস্ক

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর স্কুল ফি মেটানোর আবেদনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ শিক্ষার্থীটির স্কুল ফি কমানোর কথা বললেও স্কুল কর্তৃপক্ষ তাতে নারাজ। আর এটা নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, গোরখপুরের পাক্কিবাগ এলাকার সরস্বতী শিশুমন্দিরের ছাত্রী পঙ্কুরি ত্রিপাঠীর বাবা রাজীব কুমার ত্রিপাঠী এক দুর্ঘটনায় পায়ে মারাত্মক আঘাত পান এবং চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। আর এতেই বিপদে পড়ে যায় পুরো পরিবার।
এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে সাহায্য চাওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বাস দেন, পঙ্কুরির পড়াশোনায় কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু পঙ্কুরির অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষ তার বেতন মওকুফের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। তারা বলেছে, বেতন মওকুফের কোনো নিয়ম নেই।
এ ঘটনার পর রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করেছেন এবং পঙ্কুরির পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। পঙ্কুরির পরিবার এখনো আশা করছে, মুখ্যমন্ত্রী নিজে হস্তক্ষেপ করবেন এবং মেয়েটির স্বপ্ন পূরণের পথ খুলে দেবেন।
গোরখপুরের পাক্কিবাগ এলাকার সরস্বতী শিশুমন্দির নামক প্রতিষ্ঠানটি বিজেপির আদর্শিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) শিক্ষা শাখা বিদ্যা ভারতীর অধীনে চলে। বিদ্যালয়টিতে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের মাসিক বেতন ১,৬৫০ টাকা। পঙ্কুরির বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ হাজার টাকা।
পঙ্কুরি বলেছে, ‘আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বেতন মওকুফের অনুরোধ করেছি। তিনি আমাকে একটা চকলেট দেন এবং বলেন, এটা হয়ে যাবে। কিন্তু স্কুলে গিয়ে যখন বাবার সঙ্গে কথা বলি, তখন আমাদের খুব খারাপ ব্যবহার করা হয়। বলা হয়, বেতন মওকুফের কোনো নিয়ম নেই। যদি সবাই এসে এমন দাবি করে, তাহলে স্কুল চালানো সম্ভব হবে না। শিক্ষকদের বেতন দিতে হয়।’
সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী আরও বলেছে, ‘আমার বাবা কেঁদে ফেলেন। কেউ কখনো তাঁর সঙ্গে এমনভাবে কথা বলেনি। তবে আমি বিশ্বাস করি, মুখ্যমন্ত্রী আমার স্বপ্ন ভাঙতে দেবেন না। আমি মন দিয়ে পড়াশোনা করব এবং আইএএস অফিসার হব।’
উল্লেখ্য, গোরখপুর যোগী আদিত্যনাথের শক্ত ঘাঁটি। তিনি গোরক্ষনাথ মঠের মহন্ত এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে পাঁচবার গোরখপুর থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
এদিকে, এই ঘটনার পর বিরোধী নেতা অখিলেশ যাদব বলেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি, পঙ্কুরির পড়াশোনা বন্ধ হবে না। এটাই বিজেপির “বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও” স্লোগানের আসল সত্য। আমরা বিজেপিকে অনুরোধ করছি, অন্তত শিশুদের সঙ্গে মিথ্যা কথা বলবেন না।’
পঙ্কুরির বাবা রাজীব ত্রিপাঠী বলেন, ‘আমি করোনার আগ পর্যন্ত রাজ্যের বাইরে কাজ করতাম। এরপর লকডাউনের সময় বাড়িতে ছিলাম। তখন ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে পায়ে আঘাত পাই। চাকরি চলে যায়। আমার দুই সন্তান ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ে। ছেলে দ্বাদশ শ্রেণিতে, মেয়ে সপ্তম শ্রেণিতে। দুজনের বেতন চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলাম। মেয়েকে ফেব্রুয়ারির পর থেকে স্কুলে পাঠাতে পারিনি। ছেলের শেষ বছর, তাই ওর পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটাতে চাইনি। ভাবছিলাম মেয়েকে এক বছরের জন্য স্কুল থেকে তুলে নেব। পরে ভাবলাম, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যাওয়া উচিত। ১ জুলাই জনতা দরবারে গিয়ে সাহায্য চাই। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বলেন, মেয়ের পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়।’
তিনি আরও জানান, ‘কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ বলেছে, এ রকম কোনো নিয়ম নেই। তারা বলে, সবাই যদি ফি মওকুফ করাতে যায়, তাহলে স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে। তারা আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করে। মেয়েকে কাঁদতে দেখে আমিও ভেঙে পড়ি।’
অখিলেশ যাদব টুইট করে সাহায্যের আশ্বাস দেওয়ার বিষয়ে রাজীব ত্রিপাঠী বলেন, ‘তিনি টুইট করেছেন ঠিকই। তবে আমরা মঠ এবং মহারাজজির (যোগী আদিত্যনাথ) সঙ্গে যুক্ত। আমরা বিশ্বাস করি, উনিই মেয়ের পড়াশোনা নিশ্চিত করবেন।’
এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি। তবে শিক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার স্কুল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে এবং খুব শিগগির ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আশা করা হচ্ছে।
আরও খবর পড়ুন:

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর স্কুল ফি মেটানোর আবেদনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ শিক্ষার্থীটির স্কুল ফি কমানোর কথা বললেও স্কুল কর্তৃপক্ষ তাতে নারাজ। আর এটা নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, গোরখপুরের পাক্কিবাগ এলাকার সরস্বতী শিশুমন্দিরের ছাত্রী পঙ্কুরি ত্রিপাঠীর বাবা রাজীব কুমার ত্রিপাঠী এক দুর্ঘটনায় পায়ে মারাত্মক আঘাত পান এবং চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। আর এতেই বিপদে পড়ে যায় পুরো পরিবার।
এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে সাহায্য চাওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বাস দেন, পঙ্কুরির পড়াশোনায় কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু পঙ্কুরির অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষ তার বেতন মওকুফের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। তারা বলেছে, বেতন মওকুফের কোনো নিয়ম নেই।
এ ঘটনার পর রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করেছেন এবং পঙ্কুরির পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। পঙ্কুরির পরিবার এখনো আশা করছে, মুখ্যমন্ত্রী নিজে হস্তক্ষেপ করবেন এবং মেয়েটির স্বপ্ন পূরণের পথ খুলে দেবেন।
গোরখপুরের পাক্কিবাগ এলাকার সরস্বতী শিশুমন্দির নামক প্রতিষ্ঠানটি বিজেপির আদর্শিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) শিক্ষা শাখা বিদ্যা ভারতীর অধীনে চলে। বিদ্যালয়টিতে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের মাসিক বেতন ১,৬৫০ টাকা। পঙ্কুরির বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ হাজার টাকা।
পঙ্কুরি বলেছে, ‘আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বেতন মওকুফের অনুরোধ করেছি। তিনি আমাকে একটা চকলেট দেন এবং বলেন, এটা হয়ে যাবে। কিন্তু স্কুলে গিয়ে যখন বাবার সঙ্গে কথা বলি, তখন আমাদের খুব খারাপ ব্যবহার করা হয়। বলা হয়, বেতন মওকুফের কোনো নিয়ম নেই। যদি সবাই এসে এমন দাবি করে, তাহলে স্কুল চালানো সম্ভব হবে না। শিক্ষকদের বেতন দিতে হয়।’
সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী আরও বলেছে, ‘আমার বাবা কেঁদে ফেলেন। কেউ কখনো তাঁর সঙ্গে এমনভাবে কথা বলেনি। তবে আমি বিশ্বাস করি, মুখ্যমন্ত্রী আমার স্বপ্ন ভাঙতে দেবেন না। আমি মন দিয়ে পড়াশোনা করব এবং আইএএস অফিসার হব।’
উল্লেখ্য, গোরখপুর যোগী আদিত্যনাথের শক্ত ঘাঁটি। তিনি গোরক্ষনাথ মঠের মহন্ত এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে পাঁচবার গোরখপুর থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
এদিকে, এই ঘটনার পর বিরোধী নেতা অখিলেশ যাদব বলেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি, পঙ্কুরির পড়াশোনা বন্ধ হবে না। এটাই বিজেপির “বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও” স্লোগানের আসল সত্য। আমরা বিজেপিকে অনুরোধ করছি, অন্তত শিশুদের সঙ্গে মিথ্যা কথা বলবেন না।’
পঙ্কুরির বাবা রাজীব ত্রিপাঠী বলেন, ‘আমি করোনার আগ পর্যন্ত রাজ্যের বাইরে কাজ করতাম। এরপর লকডাউনের সময় বাড়িতে ছিলাম। তখন ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে পায়ে আঘাত পাই। চাকরি চলে যায়। আমার দুই সন্তান ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ে। ছেলে দ্বাদশ শ্রেণিতে, মেয়ে সপ্তম শ্রেণিতে। দুজনের বেতন চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলাম। মেয়েকে ফেব্রুয়ারির পর থেকে স্কুলে পাঠাতে পারিনি। ছেলের শেষ বছর, তাই ওর পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটাতে চাইনি। ভাবছিলাম মেয়েকে এক বছরের জন্য স্কুল থেকে তুলে নেব। পরে ভাবলাম, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যাওয়া উচিত। ১ জুলাই জনতা দরবারে গিয়ে সাহায্য চাই। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বলেন, মেয়ের পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়।’
তিনি আরও জানান, ‘কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ বলেছে, এ রকম কোনো নিয়ম নেই। তারা বলে, সবাই যদি ফি মওকুফ করাতে যায়, তাহলে স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে। তারা আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করে। মেয়েকে কাঁদতে দেখে আমিও ভেঙে পড়ি।’
অখিলেশ যাদব টুইট করে সাহায্যের আশ্বাস দেওয়ার বিষয়ে রাজীব ত্রিপাঠী বলেন, ‘তিনি টুইট করেছেন ঠিকই। তবে আমরা মঠ এবং মহারাজজির (যোগী আদিত্যনাথ) সঙ্গে যুক্ত। আমরা বিশ্বাস করি, উনিই মেয়ের পড়াশোনা নিশ্চিত করবেন।’
এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি। তবে শিক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার স্কুল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে এবং খুব শিগগির ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আশা করা হচ্ছে।
আরও খবর পড়ুন:

প্রায় সিকি শতাব্দী ধরে রাশিয়ার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন ভ্লাদিমির পুতিন। বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী এই নেতার মুখ ও বক্তব্য অহরহ দেখা গেলেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন আজও রয়ে গেছে কঠোর গোপনীয়তার আড়ালে। রাষ্ট্রীয় প্রচারণা যন্ত্রের ছাঁকনি পেরিয়ে পুতিনের পারিবারিক জীবনের খুব কম তথ্যই জনসমক্ষ
৭ ঘণ্টা আগে
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শয়তান’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ইরানি জাতি বরাবরের মতোই শত্রুদের হতাশ করবে।
৭ ঘণ্টা আগে
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মেয়র হিসেবে প্রথম দিনেই মামদানি তাঁর আসল চেহারা দেখিয়েছেন। তিনি ইহুদি-বিদ্বেষের আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা (আইএইচআরএ) বাতিল করেছেন এবং ইসরায়েল বয়কটের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছেন। এটি নেতৃত্ব নয়, বরং এটি খোলা আগুনে ইহুদি-বিদ্বেষী ঘি ঢালার সমান।
৮ ঘণ্টা আগে
গত মাসে এসটিসি এই অঞ্চলটি দখলের পর সৌদি জোটের পক্ষ থেকে এটিই প্রথম সরাসরি প্রাণঘাতী হামলা। এর আগে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী হাজরামাউতের সামরিক স্থাপনাগুলো ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। কিন্তু ওই ঘোষণা দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিমান হামলা শুরু হয়।
৯ ঘণ্টা আগে