Ajker Patrika

ভারতের লক্ষ্ণৌয়ে বহুতল ভবনে আগুন, ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ভারতের লক্ষ্ণৌয়ে বহুতল ভবনে আগুন, ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের সবাই শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। ছবি: পিটিআই

ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌতে একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আজ সোমবার বিকেল ৩টা নাগাদ আলীগঞ্জ এলাকার পুরানিয়া বাজারের কাছে ঊষা মেহতা মার্গের একটি তিনতলা ভবনে হঠাৎ আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনটির নিচতলায় একটি পেটের দোকান (পোষা প্রাণীর দোকান) ও ক্লিনিক ছিল। আর ওপরের তলাগুলোতে ছিল গেমিং এবং অ্যানিমেশন ট্রেনিং সেন্টার, যেখানে শিক্ষার্থীরা সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের কাজ শিখত।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনের শর্ট সার্কিট থেকেই এই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

নিহত শিক্ষার্থীদের বয়স ২০ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। উত্তর প্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক জানিয়েছেন, আগুন লাগার পর আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা বাঁচার জন্য ভবনের পেছনের দিকে ছুটে যায়, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তারা আর বের হতে পারেনি।

উদ্ধার হওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, অনেকেই বাথরুমের ভেতরে আটকা পড়েছিল। একজন স্বজন জানান, তাঁর ছোট ভাই ভেতর থেকে ফোন করে বলেছিল, ‘ভাইয়া,৫-৬ জন বাথরুমের ভেতরে লক হয়ে আছি।’ এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ মেলেনি।

আগুন ও ধোঁয়ার হাত থেকে বাঁচতে ৭-৮ জন শিক্ষার্থী ওপর তলা থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ে। লক্ষ্ণৌয়ের কেজিএমইউ ট্রমা সেন্টারের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ড. অমিয় আগরওয়াল জানান, হাসপাতালে মোট ২১-২২ জনকে আনা হয়েছিল, যার মধ্যে ১৫ জনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে দুজনের পিঠে গুরুতর আঘাত রয়েছে, যারা মূলত ভবন থেকে লাফ দিয়েছিলেন।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি গাড়ি এবং একটি হাইড্রোলিক প্ল্যাটফর্ম যান মোতায়েন করা হয়। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, এনডিআরএফ ও এসডিআরএফ কর্মীরা যৌথভাবে উদ্ধার কাজ শুরু করেন।

তীব্র ধোঁয়া ও আগুনের কারণে উদ্ধারকর্মীরা পাশের ভবনের ছাদ বেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশ করেন এবং ভেতরে আটকে পড়াদের বের করতে ড্রিল মেশিন দিয়ে ভবনের দেয়াল কেটে দুটি বড় গর্ত তৈরি করেন।

এদিকে নিচতলার পেট ক্লিনিকে থাকা নিরীহ পশুপাখিরাও এই আগুন থেকে বাঁচতে পারেনি। বিকেল পৌনে ৫টা নাগাদ কম্বলে মোড়ানো অন্তত তিনটি প্রাণীর মৃতদেহ ভবন থেকে বের করে আনতে দেখা যায়।

এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি নিহতদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

অন্যদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তাঁর আলিগড় সফর মাঝপথে কাটছাঁট করে লক্ষ্ণৌতে ফিরে আসেন। তিনি এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দায়ীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং বিএসপি প্রধান মায়াবতী এই ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

লক্ষ্ণৌয়ের সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিকে অন্যতম ভয়াবহ ও বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। ভবনটিতে ফায়ার সেফটি বা অগ্নি-নির্বাপণ নীতিমালা ঠিকঠাক মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও ফরেনসিক দল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত